কলাম

সিলিন্ডারের মেয়াদপূর্তির বিষয়টি তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

দেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। নিম্ন মান ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার একেকটি শক্তিশালী বোমায় পরিণত হচ্ছে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, দেশে পাইপলাইনে গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকার ফলে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বেশি হচ্ছে।
অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানবাহনের গ্যাস সিলিন্ডার গৃহস্থালির চেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। নিম্নমানের সিলিন্ডার ও কিটস ব্যবহার, ৫ বছর পরপর রিটেস্ট না করাসহ বিভিন্ন কারণে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সিএনজিচালিত ৩ লাখ যানবাহনের সিলিন্ডারের মধ্যে রিটেস্ট করা হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার। সিএনজি সিলিন্ডারে প্রতি বর্গইঞ্চিতে ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড চাপে যখন গ্যাস ভরা হয় তখন রাস্তায় এক একটি গাড়ি চলন্ত বোমা হয়ে ওঠে। তাছাড়া সিএনজিচালিত গাড়ির ৫ বছরের বেশি পুরনো সিলিন্ডার পুনঃপরীার আইন কেউ মানছে বলে মনে হয় না।
গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারও হরহামেশা বিস্ফোরিত হচ্ছে। মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করায় নিরাপদ রান্নাঘর হয়ে উঠেছে বিস্ফোরণের বিপজ্জনক স্থান।
মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়ে আইন করে রিটেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে অনেকটাই কমে যাবে এ ঝুঁকি। সরকারের উচিত, দ্রুত এ বিষয়ে পদপে নেয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানহীন ও সময়মতো পুনঃপরীা না করানোই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। সিলিন্ডারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)। অথচ তারা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়ে কখনোই কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।
মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রি-টেস্ট সেন্টার ও কর্তৃপরে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব। গাড়িতে লাগানো সিএনজিচালিত গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৫ বছরের মধ্যে পুনঃপরীা করার যে নিয়ম রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালিত হলেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সম্ভব।
ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার গাড়িতে রাখলে তা চলন্ত বোমার মতো, বাড়িতে থাকলে তা বিধ্বংসী অস্ত্র। ফলে সিলিন্ডারের মেয়াদ পর্যবেণ, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বদল ও ত্রুটিযুক্ত সিলিন্ডার বাতিলের পদপে নিতে বিলম্ব করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে একটি শক্ত আইনি কাঠামো গড়ে তোলা এবং কঠোর নজরদারি জরুরি। সরকার যখন রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার বাড়াতে চাইছে, তখন এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। জরুরিভাবে সারাদেশে ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারগুলো চিহ্নিত করা দরকার। এ জন্য ভোক্তাদের যেমন সচেতন করতে হবে, তেমনি সরকারিভাবে সিলিন্ডার টেস্ট ও বদলে নেয়ার সেবা চালু করতে হবে। এতে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে বলে আমরা মনে করি।