সাহিত্য

কবিতা : নেশার আগুন

-রবিউল মাশরাফি
সন্তানেরা লেখাপড়ায় অনেক বড় হবে
এমনি ক’রে ফুলেল পথে এগোচ্ছিল, তবে
সঙ্গদোষে ধরলো ছেলে ধোঁয়া চুরুট বিড়ি
সেটাই ছিলো নেশা পথের প্রথম কালো সিঁড়ি
কিশোর ফুটে যুবক হলে একটু হাঁটে বাঁকা
ঘরের ছেলে বাইরে গেলো ঘরকে রেখে ফাঁকা
বাপ-মা ছেড়ে সঙ্গী পেল শরাব গাঁজা পাশে
আর কখনো সে পথ থেকে বাইরে এলো না সে
রইলো শুধু একটি মেয়ে আমার ছোট খুকি
শিশুর থেকে কৈশোরে সে সদ্য দিল উঁকি।
বুক থেকে নামা হামাগুড়ি দেয়া
সে দিনের সেই সরল হৃদয় প্রাণ
স্বপ্নের মাঝে বড় হতে হতে
মহা জাগতিক অন্তরে দিল টান।
রাত জেগে মেয়ে কী জানি কী করে
হাতের মুঠোয় আধুনিক মোবাইল
ফেবুর জোয়ারে রাত ভেসে যায়
দিবসে ঘুমোয় খেয়ে স্লিপিং পিল
ইয়াবার নায়ে পাল তুলে মেয়ে
ধীরে ধীরে ছোটে সর্বনাশের দিক
সইতে পারি না মনে হয় যেন;
বিধাতা আমাকে এখনই উঠিয়ে নিক।
দিইনি কেন যে প্রথমেই বাধা
ছেলে-মেয়েদের ছোট সেই অপরাধে?
অনুশোচনার চরম ব্যথায়
মনটা এখন তাইতো ভীষণ কাঁদে
শুরুতেই যদি ফেরাতাম আমি
সোনামনিদের শাসন বারণ ডাকে
পড়তো কি তবে প্রাণের পাখিরা
গুরুতর এই বিপদ ঘূর্ণিপাকে!
আমি তো ছিলাম সন্তান আর
সংসারের প্রতি উদাসীন এক পিতা
প্রায়শ্চিত্তে বুকের ভিতরে
তাই তো এমন জ্বলছে আগুন চিতা।
বিজিবি, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও
আনসার, নেভি, সকল এলিট ফোর্স
পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় মিলে
বন্ধ করুন মাদকের সব সোর্স।
জাতিকে বাঁচাতে মাদক ঠেকাতে
নিজেদের থেকে দোহাই সজাগ হোন
বাবারা মায়েরা একটু ঘুমাক
আমারও ভীষণ ঘুমের প্রয়োজন।