রাজনীতি

খালেদাকেন্দ্রিক ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন পাননি কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মামলায় ৭ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ১২ ডিসেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা (অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট) চাইলে ওই হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত তা দেয়ার পদক্ষেপ নিতে বলেছে আদালত।
গত ৩১ জুলাই এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। এছাড়া খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন এসেছে সেসব যুক্ত করে ২৪ নভেম্বর একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়।
গত ২৮ নভেম্বর জামিন শুনানির দিন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখতে চায় সর্বোচ্চ আদালত। গত ৫ ডিসেম্বরের প্রতিবেদন না আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পেছালে আপিল বিভাগের এজলাসে হট্টগোল করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ জন্য ১২ ডিসেম্বর আদালতে স্থাপন করা হয় সিসিটিভি। ফলে ওই দিন খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ হয়ে গেলেও আদালতে ও আদালতের বাইরে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকেই বিএনপির নেতারা বলে আসছেন, তারা ‘ঈদের পর’ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবেন। দশম সংসদ ৫ বছর কাটিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই সময়ে ১২টি ঈদ অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে বিএনপি নেতারা ন্যূনতম আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেননি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর বিএনপি নেতাদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আরও বাড়ে। এমনকি নির্বাচন ঘনিয়ে আসার পর দলটির নেতারা খালেদাকে ছাড়া ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন। শেষতক তারা খালেদাকে ছাড়াই ভোট করেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও তারা খালেদার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বারবার। এরপর পেরিয়ে যায় পুরো ১ বছর। চূড়ান্ত আন্দোলন দেখতে পেলেন না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরও বিএনপি নেতারা আন্দোলনে যাওয়ার নাম নেননি।
তবে বেশিরভাগ নেতাকর্মীই বলছেন, বিএনপি নেতারা সরকারি দলের লোকজনের সঙ্গে যে ৬০-৪০ ভিত্তিতে চলছেন, তার অবসান না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কোনো আন্দোলনেই যেতে পারবে না। দলীয় নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সরকারি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে যে রাজনীতি করছেন, তা হলো সমঝোতার রাজনীতি। এই রাজনীতিতে বিএনপি নেতারা মনেপ্রাণে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া আমরণ জেলে এবং তারেক রহমান অনন্তকাল লন্ডনে থাকুন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও তার কারামুক্তির বিষয়ে কোনো আন্দোলনই জমাতে পারেনি দলটি। জামিনের বিষয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। দলটির মহানগর কমিটির নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছেন। তারা নতুন করে আবার যেন জেলে যেতে না হয়, সে চেষ্টায়ই আছেন সর্বক্ষণ। সরকারি দলের নেতাদের পোঁ ধরে তারা রিলাক্সড মুডেই দিন পার করছেন। নতুন বিএনপি গঠনের চিন্তায় আছেন মোরশেদ খান, জেনারেল মাহবুবরা। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে উঠছে; যা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপিসহ অনেকেই ভেবেছিলেন খুবই অল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়া কারাগারে গেছেন এবং জামিনে বের হয়ে আসবেন। কিন্তু সব আশায় গুড়েবালি। আর এতে হতাশ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। নানা কারণে হতাশ তারা Ñ নির্বাচনে আশাতীত পরাজয়, খালেদা জিয়ার কারামুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ, অজানা কারণে দলের নির্বাচিতরা সরকারের সাথে সংসদে। সব মিলিয়ে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বেশ অন্ধকারে। তারা দলের কর্মকা-ে বেশ অখুশি ও হতাশ।
সূত্রমতে, সরকার বলছে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ চলে যেতে হবে। সেখানে তিনি শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে পারবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো কথাবার্তা বলতে পারবেন না। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সরকার তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার বর্তমান শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত অবস্থা বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিনে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি পেয়ে তিনি যেখানে খুশি চিকিৎসা নিতে পারবেন। সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকা-ে যুক্ত হতে পারবেন।
বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করলেও প্যারোল চাওয়ার বিষয়ে কিছুই বলছেন না। প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার আবেদন একান্তই খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও দলটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই জানিয়েছেন।
তবে জানা গেছে, খালেদা জিয়া প্যারোল চাইলে তার কারামুক্তির বিষয়টি হয়ে যাবে সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোল চাইতে রাজি নন। তিনি চাচ্ছেন জামিনে মুক্তি নিয়ে বিদেশ যেতে। তবে খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি বা প্যারোলে মুক্তি অথবা নিঃশর্ত মুক্তি Ñ কোনো বিষয়েই বিএনপি নেতারা কোনো কাজ করছেন না। তারা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত আছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যারা আছেন তাদের মধ্যে আছে তীব্র মতবিরোধ। স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যই কোনো সদস্যকে বিশ্বাস করেন না। মওদুদ, নজরুল ইসলাম, মঈন খানরা মনে করেন মির্জা ফখরুল সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান হতে দিচ্ছেন না। আবার মির্জা ফখরুলও মনে করেন, মওদুদ আহমেদ ও তার অনুসারীরা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন যেকোনো সময়েই। উভয় পক্ষই আবার এসব নিয়ে লন্ডন অবস্থানরত তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন নিয়মিত। নেতায় নেতায় এই অবিশ্বস্ততা এতই প্রকট যে, বিএনপিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যটা এখন ওপেন। ফলে কোনো ইস্যুতেই সিদ্ধান্তগ্রহণে এক জায়গায় পৌঁছাতে না পেরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশাটাও এখন ওপেন।
আসলে খালেদাকেন্দ্রিক ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। দলটি এখন ভাঙনের মুখে। পদত্যাগও করছেন বহু নেতা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিগত ১০ বছরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, মোসাদ্দেক আলী ফালু, এম এ হাসেমের মতো আলোচিত নেতারা দল ছেড়েছেন। সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন এম মোরশেদ খান ও জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.)-এর মতো হেভিওয়েট নেতা।
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অব.), মেজর শাহজাহান ওমর (অব.), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ একাধিক নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন আছে। যাদের নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তৎপরতা বেশ রহস্যময় বলে অনেকে মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলে তারা তো পদত্যাগ করবেনই।
খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমান হয়ে গেছেন বিএনপির দ-মু-ের কর্তা। তিনি কোনো নেতাকেই পাত্তা দিতে চান না। স্কাইপের মাধ্যমে নির্দেশ চাপিয়ে দেন। তিনি স্কাইপে রাজনীতি না ছাড়লে বিএনপি শিগগিরই ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যাবে; যার নেতৃত্বে থাকবে জেনারেল মাহবুব বা এম মোরশেদ খান।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে একের পর এক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নানামুখী সংকটে বিএনপি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে হাঁটছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কিছু কথাবার্তা আর পল্টনের অফিস থেকে রুহুল কবির রিজভীর প্রেস রিলিজ, প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক আলোচনা ও মানববন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে বিএনপির রাজনীতি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও তার মুক্তির বিষয়ে কোনো আন্দোলনই জমাতে পারেনি দলটি। দলটির মহানগর কমিটির নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছেন। তারা নতুন করে আবার যেন জেলে যেতে না হয়, সে চেষ্টায়ই আছেন সর্বক্ষণ।
মহানগর কমিটিসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি মেনে নিতে পারেননি। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির হাইকমান্ড ‘এক নেতা এক পদ’ কার্যকরে সিদ্ধান্ত দিলেও প্রভাবশালী নেতাদের কাছে তা পাত্তা পাচ্ছে না। কারাবন্দি হওয়ার আগে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বিষয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনিও দলের পুনর্গঠনে কাক্সিক্ষতভাবে সফল হতে পারছেন না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা ও মহানগরসহ তৃণমূল কমিটি করার সিদ্ধান্ত দেন। শুধু বিএনপিই নয়, অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে কৃষক দল, তাঁতি দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দলের ৩ মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে কাজ শেষ না হলেও অনেক কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে বেহাল শ্রমিক দল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক কাজে হাত দিতে পারছেন না হাইকমান্ড। এ প্রসঙ্গে বিএনপির একটি পক্ষ বলছে, মহাসচিবসহ অনেকে সিদ্ধান্ত মেনে এক পদ রেখে অন্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। যারা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু কোনো নেতার বিরুদ্ধেই কঠিন কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি বিএনপি। ২০০৭ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত খালেদাকেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়েই সময় পার করছে বিএনপি। জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া তাঁর বাড়ি পুনরুদ্ধারে আন্দোলন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। উভয় প্রক্রিয়াই তিনি ব্যর্থ হন। এরপর জেলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তিকেন্দ্রিক আন্দোলন চালাচ্ছেন; যার পুরোটাই নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ১২ বছর সময় পার করে দিয়েছে। এই সময়ে জনগণের নায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে কোনো আন্দোলন কর্মসূচিই সফল করতে পারেনি বিএনপি।
অন্যান্যের মতো অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন, আসলে বিএনপি নেতারা সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। ফলে তারা খালেদাকেন্দ্রিক আন্দোলন ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছেন না। এই প্রক্রিয়ায় তারা খালেদা জিয়া ও বিএনপির তৃণমূল সমর্থকদের ধোঁকা দিচ্ছেন এবং সরকারি দলের সঙ্গে যোগসাজছে স্বর্ণালি সময় পার করছেন।