প্রতিবেদন

মানব উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনাইটেড নেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এতে ১৩৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
শিক্ষা, আয়, সম্পদের উৎস, বৈষম্য, লিঙ্গসমতা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষাখাতসহ বিভিন্ন মাপকাঠির অগ্রগতি নিয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, ইউএনডিপি প্রতি বছর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারের ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৯’ অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা গত বছরের তুলনায় ৪ ধাপ, নেপাল ৩ ধাপ, মিয়ানমার ৩ ধাপ এবং বাংলাদেশ ও ভারত ১ ধাপ করে এগিয়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর ইউএনডিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, পিকেএসএফ সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এবারের প্রতিবেদনে ১৮৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১৩৫তম অবস্থানে। ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ছিল ১৩৬তম অবস্থানে, তার আগের বছর ছিল ১৩৯তম অবস্থানে। এবার বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬১৪, যা গতবার ছিল শূন্য দশমিক ৬০৮। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে দেশ ১ স্কোরের যত কাছাকাছি সে দেশ মানব উন্নয়নে তত উন্নত।
অনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে ইউএনডিপির অর্থনীতিবিদ শামসুর রহমান বলেন, গতবারের মতো এবারও মানব উন্নয়ন সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। ইউরোপের এ দেশটির স্কোর শূন্য দশমিক ৯৫৩ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৯৫৪ হয়েছে। এই সূচকে আসা ১৮৯টি দেশকে অতিউন্নত, উন্নত, মধ্যম ও নিম্ন মানব উন্নয়নের ৪টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রয়েছে মানব উন্নয়নের মধ্যম দেশের স্তরে।
প্রতিবেশী ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওপরে অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কা ৭১, মালদ্বীপ ১০৪, ভারত ১২৯ ও ভুটান ১৩৪তম। বাংলাদেশের পেছনে অবস্থান করছে পাকিস্তান ১৫২, নেপাল ১৪৭ ও মিয়ানমার ১৪৫তম। যেসব দেশের নাগরিকের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং মাথাপিছু আয় বেশি, বৈষম্য কম, সেসব দেশ তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এবারের সূচকের শীর্ষ ১০ দেশ হচ্ছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে কেবল সিঙ্গাপুর ও হংকংই এশিয়ার দেশ। আর সবচেয়ে পেছনের তালিকায় থাকা ১০ দেশ হচ্ছে নাইজার, সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি, মালি, ইরিত্রিয়া, বুরকিনা ফাসো, সিয়েরা লিওন, মোজাম্বিক ও কঙ্গো। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছে। এখন আমরা হাত দিয়েছি সম্পদের গতিশীলতার দিকে। বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। বৈষম্য শুরু হয় শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দিয়ে। দেশে ভিআইপি কালচার গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মানবসম্পদ খাতে উন্নয়ন না হলে সকল উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে যাবে।
এদিকে ইউএনডিপি’র মানব উন্নয়ন সূচকে যেদিন ১৩৫তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ, সেদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সঙ্গে দেখা করেন ইউএনএসকাপের নির্বাহী পরিচালক আরমিডা সালসিয়াহ আলিসজাভনা। তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামীণ জনপদের মানুষকে শহরের মানুষের মতো নাগরিক সুবিধা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে এসকাপের সমর্থন ও সহযোগিতা চান তিনি।
এ অঞ্চলের মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নে আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজ করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগও বাড়াবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণকারী প্রথম সারির দেশ না হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ুর পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব ভোগ করছে।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আলিসজাভনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির প্রশংসাও করেন তিনি। আলিসজাভনা নিজস্ব তহবিলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।