প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

সারাদেশের আপামর জনসাধারণকে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমফিল
পরিচালক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
স্বাধীনতার পর বিগত প্রায় পাঁচ দশকে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হেলথ ইনস্টিটিউট, ক্লিনিক ও হাসপাতাল। গড়ে উঠেছে প্রান্তিক পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে রাজধানীকেন্দ্রিক ঝকঝকে তকতকে পাঁচ তারকা মানের হাসপাতালও। তবু এখনও সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ ভরসার স্থল ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দেশে আর গড়ে ওঠেনি ঢামেকের সমকক্ষ কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের পরিবেশ কিংবা শয্যা না-পাওয়া নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকতে পারে; কিন্তু অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এত রোগীর সেবা দেয়া এমন হাসপাতাল সারা বিশ্বে আর একটিও মিলবে না। দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ হাসপাতাল থেকে বিনা চিকিৎসায় রোগী ফেরত গেলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিনা চিকিৎসায় রোগী ফেরত যাওয়ার নজির নেই। হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকলেও রোগী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং চিকিৎসা নিয়ে ফেরত যাচ্ছে; কেউই বিনা চিকিৎসায় ফেরত যাচ্ছে না।
৭৩ বছর ধরে সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসাসেবা দিয়ে শুধু রোগী নয়, অন্যান্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকেরও ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই হাসপাতাল। সুদূর মফস্বল বা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুধু রোগীরা ছুটে আসে না, মুমূর্ষু বা জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিক থেকেও পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢামেকে। রাত-বিরাতে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য রাজধানীর অন্য কোথাও সুযোগ না পেয়ে মানুষ ছুটে আসে এখানে। আবার অন্য হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো দায়িত্ব না নেয়ার কারণে দুর্ঘটনা, ছুরিকাঘাত, বিষপান, গুলিবিদ্ধ ইত্যাদি সব ধরনের রোগীর অধিকাংশের জায়গা হয় এই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই। এছাড়া অগ্নিকা-, সন্ত্রাসী হামলা বা আন্দোলনে হতাহত, অজ্ঞাত মৃতদেহ, খুনের ঘটনা, জেলা কারাগারের রোগী Ñ সব কিছু দেখভালের দায়িত্ব যেন শুধু এই হাসপাতালটিরই। এতে দেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঢামেক হাসপাতালের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বেড়েই চলেছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীর জায়গা হচ্ছে করিডর, বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতে।
হেলথ কেয়ার গ্লোবালের প্রতিবেদনে ভারতের ২৮০০ শয্যার আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালকে এশিয়ার বৃহত্তম পাবলিক হাসপাতাল বলা হলেও দেখা গেছে, সেখানে বছরে গড়ে ভর্তি হচ্ছে ৭০ হাজার রোগী। সার্জারি হয় ২৬ হাজার। অন্যদিকে ঢামেকে ২০১৮ সালেই ইনডোর, আউটডোর ও ইমার্জেন্সি মিলিয়ে চিকিৎসা নেয় ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন রোগী। ২০১৮ সালে ৩২ হাজার ৬৫০টি মেজর ও ৪৫ হাজার ৮৭৫টি মাইনর অপারেশন হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিপেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সাপ্তাহিক স্বদেশ খবরকে বলেন, নামমাত্র খরচে ভালো চিকিৎসা পেতে সারাদেশ থেকে এখানে রোগী আসছে। এছাড়া দায়িত্ব এড়াতে বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অনেক নামকরা হাসপাতালও সংকটাপন্ন রোগীকে ঢামেকে রেফার করে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে ছুরিকাঘাত, গুলিবিদ্ধ, বিষপান Ñ এসব রোগীকে ভর্তি করে না অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক। ফলে তারা সবাই আসছে ঢামেকে। এভাবে এখানে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।
তিনি আরো বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে এত এত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া বিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
এই হাসপাতালকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলারও প্রচেষ্টা চলছে। প্রায় ৮২ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাত্র ১২ শতাংশ বর্তমানে গ্রিন এরিয়ার অর্ন্তভুক্ত। এই এরিয়াকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ঢামেক হাসপাতাল হয়ে উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোগীর সেবাদানকারী পরিবেশবান্ধব হাসপাতাল।
স্বদেশ খবর পত্রিকার পক্ষ থেকে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই হাসপাতালের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করে স্বদেশ খবর-এর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এর মধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে তাঁর ঐকান্তিক পরিশ্রম ও একনিষ্ঠতার চিত্রটি ফুটে ওঠে। স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য প্রশ্ন ও উত্তরগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সাধারণ মানুষ কেন তাদের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে মনে করে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আমি শেষ ভরসাস্থল না বলে বরং বলবো ‘সর্বোচ্চ ভরসাস্থল’। কারণ ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি এই হাসপাতাল আপামর জনসাধারণকে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। এটি বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সর্বোচ্চ টারসিয়ারি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, যেখানে প্রায় সকল ধরনের জটিল ও মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। একই ছাদের নিচে এত বিষয়ে এত জটিল রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশের আর কোনো প্রতিষ্ঠানে এককভাবে সম্ভব নয়। এটি সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে হতদরিদ্র, অসহায়, অজানা-অচেনা পরিচয়হীন রোগীদের প্রায়-বিনাখরচে অথবা সম্পূর্ণ বিনাখরচে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখানে আইসিও সাপোর্টসহ নানা ধরনের উন্নত প্রযুক্তির সেবা বিনাখরচে প্রদান করা হয়। ফলে এদেশের মানুষের কাছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে।

স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশে ঢামেক হাসপাতালের সমকক্ষ কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে কি?
স্বাধীনতার পর এদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ওসব প্রতিষ্ঠান তাদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে ঢামেক হাসপাতালে যে সকল মেধাসম্পন্ন চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণরত চিকিৎসক এবং উচ্চ প্রশিক্ষিত নার্সরা কর্মরত রয়েছেন, তাদের সমন্বয়ে এ হাসপাতালে যে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব, সেই পর্যায়ের আর কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি।

সারাদেশের সুদূর মফস্বল বা প্রত্যন্ত গ্রামের মুমূর্ষু বা জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিক থেকে কেন পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢামেকে?
আমি আগেই উল্লেখ করেছি, এই হাসপাতালে রয়েছে প্রায় সব রকম বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থা। রয়েছে দেশসেরা অনেক চিকিৎসক ও নার্স। তাঁদের মাধ্যমে প্রতিদিন এখানে অসংখ্য মুমূর্ষু ও জটিল রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়। অত্যন্ত অল্প খরচে বা বিনা খরচেই এই বিশাল কর্মকা- সম্পন্ন হয়, যা অন্য কোথাও এভাবে সম্ভব নয়।
তাছাড়া ঢামেক হাসপাতাল সম্ভবত একমাত্র চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে কখনোই কোনো রোগীকে চিকিৎসা প্রদান বা ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যেটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এভাবে প্রতিদিন এবং সারা বছর করতে পারে না। এ কারণেই সম্ভবত সারাদেশের সুদূর মফস্বল বা প্রত্যন্ত গ্রামের মুমূর্ষু বা জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সারাদেশ থেকে আসা দুর্ঘটনা, ছুরিকাঘাত, বিষপান, গুলিবিদ্ধ, আগুনে পোড়া রোগী, সন্ত্রাসী হামলা বা আন্দোলনে হতাহত, অজ্ঞাত মৃতদেহ, খুনের ঘটনা, জেলা কারাগারের রোগীসহ সব ধরনের রোগীর স্বাস্থসেবা দেয়ার সক্ষমতা ঢামেক হাসপাতালের আছে কী?
প্রকৃতপক্ষে সারাদেশ থেকে আসা দুর্ঘটনা, ছুরিকাঘাত, বিষপান, গুলিবিদ্ধ, আগুনে পোড়া রোগী, সন্ত্রাসী হামলা বা আন্দোলনে হতাহত, অজ্ঞাত মৃতদেহ, খুনের ঘটনা, জেলা কারাগারের রোগীসহ সব ধরনের রোগী গ্রহণ ও চিকিৎসাসেবা সম্ভবত এবং কেবল ঢামেক হাসপাতালই দিয়ে থাকে। এই হাসপাতাল প্রতিদিন এ ধরনের অসংখ্য রোগীর যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করে থাকে এবং চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা একমাত্র ঢামেক হাসপাতালেরই রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালে বছরে গড়ে কত রোগী চিকিৎসা নেয়? ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়া রোগীর পরিসংখ্যান জানতে চাই।
ঢামেক হাসপাতালে আউটডোর, ইমার্জেন্সি ও ইনডোর মিলিয়ে বছরে গড়ে ১৪-১৬ লাখ রোগী চিকিৎসা নেয়। ২০১৮ সালে চিকিৎসা নিয়েছিল ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন, ২০১৭ সালে ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৩৪৭জন, ২০১৬ সালে ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫ জন, ২০১৫ সালে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৮ জন এবং ২০১৪ সালে আউটডোর, ইমার্জেন্সি ও ইনডোর মিলিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিল ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৪ জন। প্রতি বছরই চিকিৎসা নেয়া রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। সে হিসেবে ২০১৯ সালে চিকিৎসা নেয়া রোগীর সংখ্যা কমবেশি ১৭ লাখ হতে পারে।

ঢামেক হাসপাতালে বেড সংখ্যা কত? কেবিন কতটি? হাসপাতালের করিডর, বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হয়Ñ রোগীদের এ ধরনের অভিযোগের বিপরীতে ঢামেক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী?
ঢামেক হাসপাতালে বেড সংখ্যা ২ হাজার ৬০০, কেবিন ১৮৭টি। বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ২০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। সেক্ষেত্রে প্রাধিকৃত বেডের দ্বিগুণ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেই অনেক রোগীকে হাসপাতালের করিডর, বারান্দা ও ওয়ার্ডের মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বিনা চিকিৎসায় কেউ তো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছে না; বরং চিকিৎসা নিয়েই ফেরত যাচ্ছে। ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই সারাদেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।

ঢামেক হাসপাতালে বছরে গড়ে কতটি অপারেশন হয়?
বছরে ঢামেকে গড়ে ৭০-৮০ হাজার মেজর ও মাইনর অপারেশন হয়। ২০১৮ সালে ৩২ হাজার ৬৫০টি মেজর ও ৪৫ হাজার ৮৭৫টি মাইনর, ২০১৭ সালে ২৯ হাজার ৫০টি মেজর ও ৩৯ হাজার ৪১৭টি মাইনর, ২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৩১৫টি মেজর ও ৩৯ হাজার ৯৮টি মাইনর এবং ২০১৫ সালে ২৪ হাজার ২২০টি মেজর ও ৩৪ হাজার ১৩৬টি মাইনর অপারেশন হয়।

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কত?
ঢামেক হাসপাতালে ৫৩০ জন চিকিৎসক, ৩৫০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ২ হাজার ৫৫০ জন নার্স কর্মরত আছেন।

জরুরি বিভাগে দৈনিক গড়ে কতজন
রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়?
জরুরি বিভাগে দৈনিক গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে কতজন
রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়?
বহির্বিভাগে দৈনিক গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সুস্থ হয়ে দৈনিক কত রোগী হাসপাতাল ছাড়ে এবং কতজন নতুন ভর্তি হয়?
সুস্থ হয়ে দৈনিক গড়ে ৫৫০-৬০০ রোগী হাসপাতাল ছেড়ে যায় এবং নতুন ভর্তি হয় ৬৫০-৭০০ রোগী।

বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে রেফারের মাধ্যমে কত রোগীকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়?
বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে রেফারের মাধ্যমে কতসংখ্যক রোগীকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয় Ñ এর সঠিক তথ্য দেয়া মুশকিল। তবে ছুটির দিন এবং অফিস সময়ের পর ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অনেক রোগী ঢামেক হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউ ও এনআইসিইউতে শয্যার চাহিদা কত? আছে কতটি?
ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউর শয্যাসংখ্যা ৩২টি। এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার কাজ চলছে। এনআইসিইউতে শয্যাসংখ্যা ৩২টি। আইসিইউতে প্রতিদিন অন্তত ২০-২৫ জন ভর্তি রোগী ওয়েটিং লিস্টে থাকে এবং আরো ২০-২৫ জন হাসপাতালের বাইরে থেকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে আসার চেষ্টা করে থাকে। তদ্রƒপ এনআইসিইউতে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ জন ভর্তি রোগী এবং বাইরে থেকে প্রচুর রোগী ঢামেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে আসার জন্য চেষ্টা করে থাকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়টি বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়ে থাকে?
ঢামেক হাসপাতালে ৩৫টি বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। যার মধ্যে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অবস, শিশু, কার্ডিয়াক, কার্ডিওভাসকুলার ওয়ার্ড, নবজাতক ওয়ার্ড, শিশু সার্জারি, নিউরোলজি, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, নেফ্রোলজি, ইন্ডোক্রাইনোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি, রেসপিরেটরি মেডিসিন, হেমাটোলজি, হেপাটোলজি, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, নাক, কান ও গলা বিভাগ, মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ ইত্যাদি অন্যতম।

ঢামেক হাসপাতালের শয্যা ও কেবিন সংখ্যা, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউতে বেড বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।
ঢামেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ২ হাজার ৬০০ এবং কেবিন সংখ্যা ১৮৭টি। অপারেশন থিয়েটার রুটিন-৩৩টি এবং জরুরি-৭টি।
শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ শয্যার ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার, ৬ শয্যার মেডিকেল অবজারভেশন, ৪ শয্যার নিউরো ইমার্জেন্সি, ৯ শয্যার অ্যাকুয়িট মেডিসিন ইউনিট চালু করা হয়েছে। তাছাড়া ৪টি জরুরি অপারেশন থিয়েটার, ২০ শয্যার পোস্ট ও প্রি-অপারেটিভ ওয়ার্ড, ২০ শয্যার এইচডিও, ৫ শয্যার চাইল্ড আইসিইউ, ৫ শয্যার শিশু ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হয়েছে। ৫০ শয্যার বিশেষায়িত শিশুওয়ার্ড এবং ২০ শয্যার জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি ৫ আইসিইউ, ২ ওটি, ৬ এইচডিওসহ ২০ শয্যার কার্ডিওভাসকুলার বিভাগ চালু করা হয়েছে। নতুনভাবে আউটডোর কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া এককালীন (৫ মিনিটের মধ্যে) ৫২ জন রোগীকে কেমিক্যাল বার্নের রোগীদের ডিকনটামিনেশন করাসহ আনুষঙ্গিক চিকিৎসার সুযোগসংবলিত আধুনিক সিবিআরএন (কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিয়েশন অ্যান্ড নিউক্লিয়ার) দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ইমার্জেন্সি চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা বাংলাদেশে এই প্রথম ঢামেক হাসপাতালে চালু করা হয়েছে। এটি আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনসহ ওপিসিডাব্লিউ (অর্গানাইজেশন অব প্রিভেনশন অব কেমিক্যাল ওয়্যারফেয়ার) কর্তৃক ভূয়সী প্রশংসিত হয়েছে। এই স্থানেই ১৫০ জন রোগীকে জরুরি সহায়তা (মাস ক্যাজুয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট) প্রদান করাও সম্ভব হচ্ছে। এই ধরনের সক্ষমতা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কেবল ঢামেক হাসপাতালেই আছে।

ঢামেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা কেমন? অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা কত? আছে কতটি?
ঢামেক হাসপাতালে বর্তমানে ৮টি সাধারণ এবং ১টি কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে ড্রাইভারের সংখ্যা মাত্র ৯ জন। ফলে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেয়ার জন্য ৩টি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা যায়। তবে ঢামেক হাসপাতালে ন্যূনতম ৩৫-৪০টি অ্যাম্বুলেন্স ও ৭০ জন ড্রাইভারের প্রয়োজন। তাহলে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাটি রোগীদের ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে।

ঢামেক হাসপাতালের মর্গ ও মরচুয়ারির ব্যবস্থা সম্পর্কে বলুন। সেখানে কতটি লাশের জায়গা দেয়া যায়?
ঢামেক হাসপাতালে ১২টি লাশ রাখার সুবিধা সংবলিত মরচুয়ারি রয়েছে। তবে আরো বেশি লাশ রাখার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মাসওয়ারি ও বছরওয়ারি ঢামেক থেকে ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের সংখ্যা কত?
ঢামেক হাসপাতাল থেকে কোনো ময়না তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয় না। এটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক করেন। তবে ঢামেক হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন রোগীর মৃত্যু ঘটে অথবা মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ৩-৫ জনের পোস্টমর্টেম করা হয়ে থাকে।

ঢামেক হাসপাতালের বর্তমান জনবল কত? জনবলের ঘাটতি কত এবং জনবল ঘাটতি নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বলুন।
জনবল ৪ হাজার ২৫০ জন। প্রাথমিক জনবলের ঘাটতি কম হলেও প্রাধিকৃত এই জনবল প্রকৃতপক্ষে ২ হাজার ৬০০ শয্যার অনুকূলে প্রাপ্য জনবল নয়। এটি মূলত ১ হাজার শয্যার হাসপাতালের জনবলে কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স বৃদ্ধি করে চালানো হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল ১ হাজার শয্যার অনুকূলে যা ছিল তা থেকে প্রায় ২০০ জন কম। এটি একটি ইমপসিবল টাস্ক। সীমিত জনবল দিয়ে ২ হাজার ৬০০ শয্যার এই হাসপাতাল চালানো আসলেই একটি কঠিন ব্যাপার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অসাধ্যই সাধন করে যাচ্ছে।
এখানে উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে একবারে ১ হাজার ১০০ নার্স এবং পরবর্তীতে আরো ৩০০ নার্স এবং বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসক বৃদ্ধির ফলে জনবল কিছুটা বেড়েছে। তাছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের সহায়তায় কোনোভাবে ৪ হাজার ২০০ ভর্তি রোগী, সাড়ে ৪ হাজার বহির্বিভাগ রোগী, ১৮০-২০০ অপারেশন কার্যক্রমসহ অন্যান্য কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির জনবল ও তৃতীয় শ্রেণির টেকনেশিয়ানস্বল্পতায় অত্যন্ত কষ্ট ও চাপের মধ্য দিয়ে এ গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে পত্র প্রদান করা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ঢামেক হাসপাতাল ভবন-২ এ ১৭৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রাধিকৃত করা হয়েছে, যা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করার অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩ সালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই জনৈক ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে মামলা করলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। পরিতাপের বিষয় এই যে, উক্ত মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৬০০ শয্যার ওই হাসপাতাল যেখানে ১ হাজার ৬০০ রোগী থাকে সেখানে সরকারিভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী যেমন ক্লিনার, ওয়ার্ডবয়, মেসেঞ্জার, পিয়ন এগুলো ছাড়াই ৭ বছর ধরে চলছে।

ঢামেক হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয় থাকে Ñ রোগীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাই।
এখানে প্রতিদিন ৪ হাজার ২০০ জন ভর্তি রোগীর সাথে আরো প্রায় ১২ হাজার অ্যাটেনডেন্ট (রোগীপ্রতি গড়ে তিন জন) চলাচল/যাতায়াত করে। তাছাড়া কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টুডেন্ট মিলে আরো ৭ হাজার মানুষ চলাচল করে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা অজুহাতে এবং মিথ্যা পরিচয়ে অনেক সময় দালাল, চোর, প্রতারক হাসপাতালে ঢুকে যায়। এরা রোগীদের নানাভাবে প্রতারণার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তবে বর্তমানে প্রায় ৩০০ জন আনসার সদস্য এদের অপতৎপরতা রোধ এবং ধরে ফেলার কাজসহ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত আছে। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই দু’চার জন প্রতারক, দালাল, চোর ধরা পড়ছে এবং এদের পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। তাছাড়া অ্যাটেনডেন্ট পাস প্রথা প্রবর্তন করে এদের অপতৎপরতা রোধের চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিগত এক বছরে অন্তত এ ধরনের শ’খানেক দুর্বৃত্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার ফলে এবং রোগীদের সচেতন ও সতর্ক করার কারণে এদের অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে বলে আমি মনে করি। আশা করছি, বর্তমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দু’চার মাসের মধ্যে এই চক্রের অতৎপরতা প্রায় বন্ধ করা সম্ভব হবে।

নবজাতক চুরির অভিযোগ সম্পর্কেও বলুন।
বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ২০০টি সিসি ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও গেইটে আনসার সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা পাহারারত থাকছে। গত ২ বছরে নবজাতক চুরির ঘটনা ঢামেক হাসপাতালে ঘটেনি। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে সিট বাণিজ্য, ট্রলি বাণিজ্য, হুইলচেয়ার বাণিজ্য, টেস্ট বাণিজ্য, রক্ত বাণিজ্য, আইসিইউ বাণিজ্য এবং অ্যাম্বুলেন্স বাণিজের যে অভিযোগ আছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাই।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। এসব অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করার নানাবিধ প্রচেষ্টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে এবং এতে এ ধরনের অপতৎপরতা বহুলাংশে কমেছে। এ ধরনের কর্মকা-ের অভিযোগ এখন অনেক কম শোনা যায়। তবে এগুলো বন্ধের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। যেকোনোভাবেই হোক, এ ধরনের অপতৎপরতা দ্রুতই বন্ধ করা হবে। এখানে বিশেষভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি সংশ্লিষ্ট রোগী ও তার আত্মীয়দের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ প্রদানের অনুরোধ করছি। আমি এই নিশ্চয়তা দিতে চাই, অভিযোগ প্রাপ্তির সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানে বেশি সময় দেয় Ñ এমন অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাই।
ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ও অবস্থান নিশ্চিতের জন্য ২৪টি বায়োমেট্রিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হাসপাতালে আসা ও যাওয়ার সময় তাদের ফিঙ্গার ইমপ্রেসন প্রয়োগ করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে অন্যত্র সেবা দেয়ার বিষয়টি ঠিক নয় বলে আমার মনে হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বৈকালিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।
ঢামেক হাসপাতালের বৈকালিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করার সক্রিয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই সাথে বৈকালিক আউটডোর সার্ভিস চালু করার কার্যক্রমটি দ্রুতই শুরু হবে বলে আশা করছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে আপনার উদ্যোগ ও স্বপ্ন-পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।
আমি ঢামেক হাসপাতালের ৫০তম পরিচালক। আমি ২৮ আগস্ট ২০১৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেছি।
এ বিশাল হাসপাতালে আগত রোগীদের মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করাই আমার লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রথমত জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি বিভাগে ১৫ শয্যার ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার চালু করা হয়েছে। যেখানে ৪টি আইসিইউ শয্যাসহ ১১টি এইচডিইউ শয্যা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ জন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া রোগীকে বাঁচানোসহ ৫০-৬০ জন মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এখানে মেডিকেল অবজারবেশন, নিউরো ইমার্জেন্সি, গাইনি ও শিশু কনসালটেনসি ও ক্যাজুয়ালিটি অবজারভেশনের সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া সি. টি. স্ক্যান, এক্সরে, আল্টাসনোগ্রামসহ অন্যান্য সুবিধাও এ ইমার্জেন্সি বিভাগে পাওয়া যাচ্ছে। ৪টি ইমার্জেন্সি ও. টি. বৃদ্ধি করে বর্তমানে ৬টি ইমার্জেন্সি ও. টি.-তে প্রতিদিন প্রায় ৮০-৯০টি জরুরি অপারেশন করা হচ্ছে। তাছাড়া ৯ শয্যার একুয়িট মেডিসিন বিভাগ চালু করায় অনেক মেডিকেল ইমার্জেন্সি রোগী দ্রুততার সাথে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসা পাচ্ছে। সর্বাধিক এ ব্যবস্থা জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
কার্ডিও ভাসকুলার বিভাগ চালুর ফলে গরিব ও স্বল্প আয়ের রোগীরা নামমাত্র খরচে অথবা বিনাখরচে হার্টের ভাল্ব রিপ্লেসমেন্টসহ হার্টের নানাবিধ অপারেশন করাতে পারছে। শিগগিরই ঢামেক হাসপাতালে নিউরো ক্যাথ ল্যাব চালু করা হবে। এতে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীরা প্রয়োজনীয় অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
সম্প্রতি ঢামেক হাসপাতালে বোবা ও বধির রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে অনেক গরিব ও স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরা চিকিৎসা সুবিধা পাবে।
ঢামেক হাসপাতালের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা থেকে উত্তরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ঐতিহ্য রক্ষার্থে পুরাতন এই হাসপাতালটির সম্মুখভাগের দেয়ালচিহ্ন রেখে বাকি ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে নতুন ভবন স্থাপন করে আধুনিক ও উন্নততর চিকিৎসা প্রদানের জন্য একটি অনুশাসন জারি করেছেন। সেই সাথে হাসপাতালটিকে ৫ হাজার শয্যায় উন্নীতকরণের নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ৫টি ১৮তলাবিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে, যার প্রতিটিতে ১ হাজার করে রোগী থাকার ব্যবস্থা থাকবে। সকাল ও বিকাল বেলার জন্য ২টি আলাদা ও পি টি কমপ্লেক্স থাকবে। ঢামেক ও ঢাকা নার্সিং কলেজ ভবন ভেঙে নতুন আধুনিক একাডেমিক কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে। সম্পূর্ণ এলাকায় প্রায় ৬০ ভাগ গ্রিন এরিয়া রাখা হবে। বাকি ৪০ ভাগ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে মাত্র ১২ শতাংশ গ্রিন এরিয়া রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব এ হাসপাতালের ৩টি বেসমেন্টে অভ্যন্তরীণ যানবাহন রাখা ও চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। গ্রাউন্ডে কেবল অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের এবং পায়ে হাঁটার ব্যবস্থা থাকবে।