প্রতিবেদন

২১তম জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এলেন যারা

সৈকত হোসেন
গত ২০-২১ ডিসেম্বর শেষ হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নবমবারের মতো সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে তারা পুনঃনির্বাচিত হন।
সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সিলর সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। আগামী ৩ বছরের জন্য তাকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। আর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকেই নির্বাচিত করা হয়।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ নতুন কমিটির ঘোষণা দেন। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
নতুন নেতা নির্বাচনের সময় সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর মতিন খসরু সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাব সমর্থন করেন সভাপতিম-লীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করা হয়।
সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। সমর্থন করেন আবদুর রহমান। দু’জনই বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন। ৩৮ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সাল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২ দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্য রাখেন তিনি। এছাড়া সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিট চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় দলীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সবাই।
ওই দিন সম্মেলন উপলক্ষে হাজার হাজার নেতাকর্মী জমায়েত হন রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দলটির এবারের সম্মেলনে কাউন্সিলর ছিলেন সাড়ে ৭ হাজার, অংশ নেন ২০ হাজারের মতো ডেলিগেটস। তাছাড়া দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ ৫০ হাজারেরও বেশি অতিথি সমবেত হন সম্মেলনস্থলে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের পর ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিম-লীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকম-লীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
সভাপতিম-লীর সদস্যরা হলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল মুহাম্মদ ফারুক খান (অব.), রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।
এবার সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপুমণি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন যুক্ত হলেন ড. হাছান মাহমুদ ও বাহাউদ্দিন নাছিম।
সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানার নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।