প্রতিবেদন

এবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে সবচাইতে গোছানো

নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার ব্যাপক আয়োজনে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ১ জানুয়ারি থেকেই বসবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসর। নির্ধারিত সময়ে মেলা শুরু করতে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দিনরাত চলছে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি বলছে, মেলার প্রস্তুতির ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে পুরো কাজ। মেলায় এবার বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ৪৫০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে।
তবে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা মাঠের সড়ক উন্নয়ন ও স্টল নির্মাণের বালু বাতাসে উড়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্টল নির্মাণে নিজ উদ্যোগে পানি ছিটানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি পর্দা উঠবে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর আগের দিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে মেলার পুরো আয়োজন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এবারের বাণিজ্যমেলাকে দৃষ্টিনন্দন করতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে বর্তমান সরকারের চলমান মেগা প্রকল্প সন্নিবেশ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মূল গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশায় গণপূর্ত বিভাগ এ কাজটি করছে। এরই মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফুড স্টল, সংরতি সাধারণ স্টল, ফরেন প্যাভিলিয়ান, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইপিবি সূত্র জানায়, এবারের বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের সংখ্যা ৪৫০টি। গত বছর স্টল সংখ্যা ছিল ৫৫০টি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন ৫৫টি।
এ প্রসঙ্গে ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নটি নতুন আঙ্গিকে নতুন ডিজাইনে নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশায় গণপূর্ত বিভাগ এটি নির্মাণ করছে। মেলার প্রধান ফটক তৈরি করা হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে।
ইপিবি’র পরিচালক এবং মেলা আয়োজন কমিটির সদস্য-সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, এবারের মেলায় ভিন্ন আঙ্গিক আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মেলার প্রধান ফটকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া মেলার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য খোলামেলা জায়গা রাখা হয়েছে। মেলায় আসা মানুষেরা যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বচ্ছন্দে ঘোরাঘুরি করতে পারেন। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকো পার্ক করা হয়েছে। এবার নতুনভাবে স্থাপিত ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি) মাধ্যমে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন। মেলা চলাকালে কোনো সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে পূর্ণ বয়স্ক ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৮টি প্যাভিলিয়ন ও ৬টি মিনি প্যাভিলিয়ন রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
জানা যায়, অতীতের মতো এবারের মেলায়ও স্বাগতিক বাংলাদেশসহ চীন, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, দণি কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ভুটান, নেপাল, মরিশাস, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, রাশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মেলায় দুটি মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, একটি মেডিকেল সেন্টার ও ব্যাংকের পর্যাপ্ত এটিএম বুথ থাকবে। পলিমার পণ্য, কসমেটিকস, হারবাল, প্রসাধনীসামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী, ফার্নিচার, রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিকস পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিকস, প্লাস্টিক পণ্যের স্টলও থাকবে।
এ বছরও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বণিক নজরদারি করবেন। থাকছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। একইসঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মেলা প্রাঙ্গণে টহল দেবেন।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মেলার আয়োজনে শুরুতে কিছুটা ঘাটতি থাকে। এবার ইপিবিকে উদ্বোধনের আগেই সব স্টল ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোর কাজ শেষের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণরোধেও তাদের সর্বোচ্চ পদপে নিতে বলা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার মেলা হবে যেকোনো বছরের চেয়ে গোছানো।