ফিচার

কম্পিউটার হ্যাং হলে করণীয়

মেহেদী হাসান
যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন তারা সকলেই হ্যাং শব্দটির সাথে পরিচিত। হ্যাং সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি এমন মানুষ নেই বললেই চলে। আর যারা প্রতিদিন কম্পিউটারে কাজ করেন তাদের কাছে এটা নিয়মিত বিষয়। তাই কম্পিউটার হ্যাং হলে কী করতে হবে এবং কম্পিউটার হ্যাং হওয়া থেকে রার উপায় সম্পর্কে স্বদেশ খবর চলতি সংখ্যায় আলোকপাত করা হলো।

কম্পিউটার রিস্টার্ট
প্রথমে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে নিতে হবে। রিস্টার্ট করলে কম্পিউটারের অনেক সমস্যার সমাধান অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে। তাই কোনো কিছু করার আগে কম্পিউটার রিস্টার্ট করে নিন।

নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা
নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণেও কম্পিউটার হ্যাং হয়ে থাকে। আপনার যদি নেটওয়ার্ক ক্যাবল থাকে তাহলে ওয়াইফাই রাউটার কিছুণ বন্ধ করে রাখতে হবে। সম্ভব হলে রিস্টার্ট করে নিতে হবে। তাহলে নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার
আপনার কম্পিউটারে যদি অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকে তাহলে তা কনট্রোল প্যানেল থেকে রিমুভ করে ফেলতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখবেন কিছু সফটওয়্যার অটোমেটিক্যালি ইনস্টল হয়ে যায়। এর কারণে কম্পিউটারের উইন্ডোজ ভারী হয়ে যায়। ফলে কম্পিউটার হ্যাং করে।

প্রিন্টারের কারণে হ্যাং করলে
প্রিন্টারের কারণেও অনেক সময় কম্পিউটার হ্যাং করে। এজন্য প্রিন্টারটি বন্ধ করে আবার চালু করে নিতে হবে। যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে তার সমাধান সহজে হয়ে যাবে।

ব্রাউজারজনিত কারণে হ্যাং
আপনার কম্পিউটারে নেটের জন্য যদি কোনো ব্রাউজার ব্যবহার করে থাকেন আর যদি সেই ব্রাউজারে অনেক প্লাগ-ইন অটোমেটিক অ্যাকটিভ হয়ে যায়, তাহলে কম্পিউটার ভারী হয়ে য়ায়। ব্রাউজার ওপেন করার সাথে সাথে কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। প্লাগ-ইনগুলো প্রয়োজন না হলে রিমুভ করে ফেলুন।

টাইমজোন ঠিক রাখা
আপনার কম্পিউটারের সময় বা টাইমজোন ঠিক রাখতে হবে। যদি সিমোস ব্যাটারি খারাপ থাকে তাহলে তা পরিবর্তন করতে হবে। কম্পিউটার বন্ধ করলে সিমোস ব্যাটারি কম্পিউটারের কিছু মেমোরি ধরে রাখে। তার মধ্যে হলো ঘড়ির সময়। কম্পিউটারের সময় যদি ঠিক না থাকে তাহলে কম্পিউটার হ্যাং করার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে অনলাইনে থাকা অবস্থায়।

ভাইরাসজনিত কারণে হ্যাং
ম্যালাওয়ার ভাইরাসের কারণে কম্পিউটার হ্যাং করে। কারণ এসব ভাইরাস কম্পিউটারের সিস্টেমে খুব তাড়াতাড়ি প্রবেশ করে স্থান দখল করে নেয়। তাই আপনার কম্পিউটারকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে হবে। এজন্য যেকোনো একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।

ইউএসবি সিকিউরিটি
আপনার কম্পিউটারে ইউএসবি সিকিউরিটি ব্যবহার করতে হবে। যেকোনো পেনড্রাইভ এনে কম্পিউটারে স্ক্যান না করে ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ বিভিন্ন জনের কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস থাকে। অনেক সময় এমন হয় যে, পেনড্রাইভ লাগানোমাত্র কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যায়। ইউএসবি সিকিউরিটি থাকলে পেনড্রাইভের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারবে না।

র‌্যাম সমস্যার কারণ
র‌্যাম লুজ হলে, খারাপ হলে বা র‌্যামের মেমোরি কম হলেও কম্পিউটার হ্যাং করে। এজন্য কম্পিউটার হ্যাং করলে র‌্যামটি খুলে কানেক্টর পয়েন্টগুলো ভালোভাবে মুছে লাগিয়ে দিলে হ্যাং সমস্যার সমাধান হয়ে যায় অথবা র‌্যামের মেমোরি কম হলে তা পরিবর্তন করে নিতে পারেন।

হার্ডডিস্কের কারণে হ্যাং
অনেক সময় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক অনেক পুরনো হয়ে যায়। ফলে প্রোগ্রাম ঠিকমতো রিড করতে পারে না। এ কারণেও কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। যদি হার্ডডিস্কের কারণে হ্যাং করে তাহলে তা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রোগ্রামের ব্যবহার
মনে রাখতে হবে, সবসময় একাধিক প্রোগ্রাম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ একাধিক প্রোগ্রাম ওপেন করলে কম্পিউটার হ্যাং করার আশঙ্কা বেশি থাকে আর যদি আপনার কম্পিউটারের র‌্যাম কম থাকে তাহলে হ্যাং করবে। সব সময় টাস্ক ম্যানেজার থেকে দেখে নেবেন, কতগুলো প্রোগ্রাম চালু আছে। প্রয়োজনের অধিক থাকলে তা বন্ধ করে দিতে হবে।

সফটওয়্যার ডাউনলোড
নেট থেকে কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে সেটা কোন সফটওয়্যার।
অজানা সফটওয়্যার ইনস্টল করলে আপনার কম্পিউটার ভারী হয়ে যাবে। ফলে কম্পিউটার বার বার হ্যাং করবে।