প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রায় নৌবাহিনীকে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘মিডশিপম্যান-২০১৭ আলফা’ এবং ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার-২০১৯ ব্রাভো’ ব্যাচের শিা সমাপনী উপলে বিদায়ী ক্যাডেটদের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৯ অনুষ্ঠান চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমিতে ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজকে আপনারা যারা কঠোর প্রশিণের পর কাজে যোগ দেবেন তাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আপনারা দেশের মানসম্মান আরো উজ্জ্বল করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তাদের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আজ আপনারা শপথ গ্রহণ করেছেন।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌ দিবস উপলে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জাতির পিতার প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমার দেশের মানুষ আমার কথা শুনেছিল বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ তোমরা যদি আমার কথা শোনো, যদি শৃঙ্খলা বজায় রাখো, যদি ওপরওয়ালার হুকুম মানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও এবং সৎ পথে থাকো, ইনশাআল্লাহ, দেখবে সোনার বাংলা সোনার বাংলাই হবে।’
আমাদের সমুদ্রসীমায় থাকা সম্পদের প্রসঙ্গ টেনে একে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রসীমায় রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এই সমুদ্রসম্পদকে দেশের অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে হবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্ন করে কমিশন লাভকারী ৭২ জন নবীন কর্মকর্তার মধ্য থেকে কৃতিত্বের অধিকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করেন। পাসিং আউট কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৭/এ ব্যাচের ৬১ জন মিডশিপম্যান এবং ২০১৯/বি ব্যাচের ১১ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার রয়েছেন, যার মধ্যে ৭ জন মহিলা এবং ২ জন মালদ্বীপের কর্মকর্তা রয়েছেন।
মিডশিপম্যান ২০১৭/এ ব্যাচের রাইয়ান রহমান সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান মো. সাইদিস সাকলাইন মিরান প্রশিণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৯/বি ব্যাচ থেকে অ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. কামরুজ্জামান শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘দেশমাতৃকার নিরাপত্তা রার্থে আপনারাই হবেন এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক।’
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নৌবাহিনীকে একটি যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদপে গ্রহণ করে। সে সময় সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সমতা বৃদ্ধির ল্েয কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর সরকারের গৃহীত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য পূরণের পথযাত্রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উন্নয়নেও সরকার অনেক কাজ করেছে এবং করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ৫টি পেট্রোল ক্র্যাফট ও দুটি লার্জ পেট্রোল ক্র্যাফট নির্মাণের মাধ্যমে দেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। সেখানে আরো ৫টি পেট্রোল ক্র্যাফট নির্মাণকাজ চলমান আছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানরা দেশমাতৃকার সেবায় জীবনপণ শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে অফিসার পদে কমিশন পেয়েছে। এই গৌরবময় ফলাফলের অংশীদার আপনারাও।’
তাদের ছেলেমেয়েরা যেন ‘বীরত্ব এবং দেশপ্রেমের উদাহরণ হতে পারে’ সেজন্য তিনি সবার কাছে দোয়াও কামনা করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি ক্যাডেটদের সঙ্গে নিয়ে শিা সমাপনী কেক কাটেন এবং কমিশন লাভকারী ক্যাডেটদের ‘অ্যাপলেট’ পরিধান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পরে দুরবিন দিয়ে নেভাল একাডেমির পাশে বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে রাখা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ প্রত্য করেন। এ সময় জাহাজ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।