প্রতিবেদন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আরো কঠোর হচ্ছে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আরো কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা যে অত্যাচার সহ্য করছি, তার বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আমাদের আইনে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান আছে। কিন্তু ইউরোপিয়ানরা জরিমানা করছে বিলিয়ন ডলার। আমাদেরও বিলিয়ন ডলার জরিমানা করার বিধান করতে হবে।’
তাছাড়া দেশের আইন না মানলে আগামী দিনে ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ‘তালা মারার’ ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সাইবার থ্রেট ডিটেকশন ও রেসপন্স প্রকল্প আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজিটাল সুরা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা এখন উপলব্ধি করছি, আইনটি একটু বেশি দুর্বল হয়ে গেছে। এটি আরো কঠোর করা দরকার, অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় আরো কঠোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
ইন্টারনেট একদিকে যেমন সুফল বয়ে আনে, অন্যদিকে বিপর্যয়ও ডেকে আনে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তাবিধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে ২২ হাজার পর্ন সাইট এবং ২ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করা হয়েছে। গুজবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধ প্রতিহত করা হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের পুলিশ বাহিনী খুবই দতার পরিচয় দিচ্ছে।
তিনি বলেন, কেবল দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হলেই চলবে না, তা সুরতি হতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করার সময় নানা সমালোচনা, প্রতিবাদ করা হয়। আজকে আমরা যখন ডিজিটাল নিরাপত্তার কথা বলছি, তখন বলা হচ্ছে আমরা বাকস্বাধীনতা হরণ করছি। অথচ ফেসবুক, ইউটিউবকে বিলিয়ন ডলার জরিমানা করে ইউরোপিয়ানরা। গণমাধ্যমকর্মীরা এ আইন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি তুলেছিলেন। আইন প্রণয়ন হওয়ার পর একটিও মামলা এই আইনের আওতায় গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়নি। আমরা প্রমাণ করেছি এই আইন নিরাপত্তার জন্য; বাকস্বাধীনতা হরণের জন্য নয়।
ফেসবুক-গুগলকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশকে আপনারা আর দুর্বল ভাবতে পারবেন না। আমাদের প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনাদের জন্য তালা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করব, যাতে বাংলাদেশে যা খুশি তা আপনারা চালাতে না পারেন। আপনাদের বাংলাদেশে উপস্থিতি থাকতে হলে এখানে অফিস থাকতে হবে। নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরা এখানে বসে থেকে করতে হবে।