রাজনীতি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে আবারো মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎই পাল্টাতে শুরু করেছে নগরের দৃশ্যপট। রাজধানীর অলিগলিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের রঙিন পোস্টার শোভা পাচ্ছে। সবাই এলাকাবাসীর দোয়া চাইছেন এবং এলাকাবাসীর সেবা করার সুযোগ চাচ্ছেন বিনীতভাবে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সাধারণ ভোটারদের ভাবনাচিন্তা এখন সিটি নির্বাচন নিয়ে। তারাও অধীর আগ্রহে অপো করছেন কারা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। জয়-পরাজয়ের হিসাবনিকাশ কষতে শুরু করেছেন এখন থেকেই।
বড় দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুরু হয়েছে নড়াচড়া।
২২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ভোট নিরপে হবে। নির্বাচন হবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। সবাইকে আসার জন্য বলছি। আশা করি, উৎসবমুখর, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে।
এদিকে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প থেকে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দলটির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও এর আগে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিলেও পরবর্তী উপজেলা নির্বাচন ও ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের উপনির্বাচন বর্জন করে। এরপর দেশে বড় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় দীর্ঘ ১ বছর পর আবারও সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে। প্রার্থী বাছাই আগেই সম্পন্ন করে রেখেছে দলটি।
অপরদিকে মতাসীন আওয়ামী লীগের প থেকেও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা দুই সিটির নির্বাচিত মেয়র সাঈদ খোকন এবং মো. আতিকুল ইসলামও ইতোমধ্যে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ৫ বছরে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। সব সময় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। সিটিতে উন্নয়ন হয়েছে। দল থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবারও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, পিতা ঢাকার সফল মেয়র মোহাম্মদ হানিফকে হারিয়ে এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই তার অভিভাবক।
সাঈদ খোকন আশা করেছিলেন, শেখ হাসিনাই তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। ২৯ ডিসেম্বর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি, পেয়েছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, মাত্র ৯ মাস মেয়রের দায়িত্বে আছি। এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু পেরেছি, অভিজ্ঞতা নিয়েছি। এখন এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সময়। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগ আমাকে আবার মনোনয়ন দেবে।
২৯ ডিসেম্বর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আতিকুল ইসলামকেই মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে জানা গেছে, বিএনপির প থেকে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও দলটির প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি, তবে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির তাবিথ এম আউয়ালের মনোনয়ন চূড়ান্ত। গত নির্বাচনেও বিএনপির প থেকে এই সিটিতে তাবিথ এম আউয়ালকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এরপর উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে দ্বিতীয় দফায়ও তাবিথ এম আউয়ালকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায়। একাদশ নির্বাচনের পর উত্তর সিটিতে উপনির্বাচনে আইনি বাধা কেটে গেলে আবারও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তারা ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচন বর্জন করে। ফলে অনেকটা একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। ২৮ ডিসেম্বর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তাবিথ এম আউয়াল।
অপরদিকে ২০১৫ সালে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ২৮ এপ্রিল নির্বাচন চলাকালীন হঠাৎ করেই বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। ফলে দেিণ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হন। তবে জানা গেছে, এবার দণি সিটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন। তার প্রার্থিতা অনেকটাই চূড়ান্ত করে রেখেছে বিএনপি। উত্তরের তাবিথ এম আউয়াল এবং দেিণ ইশরাক হোসেনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেও দল থেকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে ড. আসাদুজ্জামান রিপনও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। ২৮ ডিসেম্বর শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।
স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী ঢাকা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় ভিত্তিতে। ফলে দলের পে কে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তা সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আগে ঠিক করে মনোনয়ন দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। ঢাকার দুই সিটির গত নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর বাইরেও যে কেউ মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। কেবল ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। এেেত্র রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দল থেকে আগে মনোনয়ন নিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো দল থেকে মেয়র পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া যাবে না। কোনো দল একাধিক প্রার্থীকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়ে যাবে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ৩০০ ভোটারের সমর্থনযুক্ত নমুনা স্বারের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতঃপূর্বে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার ভোটারের স্বারযুক্ত তালিকা দাখিলের প্রয়োজন নেই।
এর বাইরে ঢাকা সিটির ওয়ার্ড কাউন্সিল নির্বাচন আগের মতো নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৮টি সংরতি ওয়ার্ড রয়েছে। ঢাকা দণি সিটিতে ওয়ার্ড রয়েছে ৭৫টি এবং সংরতি ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি। এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় ভিত্তিতে ভোটের কথা বলা হলেও মূলত সেখানেও দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। চলছে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া। কাউন্সিলর পদের প্রার্থীর দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন ঠিকই দলীয় ভিত্তিতেই হবে।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দুই সিটি নির্বাচন। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে।
দুই সিটিতে এবার সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইভিএমে ভোট গ্রহণের কারণে প্রতি কেন্দ্রে টেকনিক্যাল পার্সন হিসেবে দু’জন করে সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবেন, যারা ইভিএম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ ৫ বছর। নির্বাচনের পর প্রথম সভা থেকে এই মেয়াদ কার্যকর হয়ে থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার উত্তর ও দণি সিটিতে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ১৪ মে, দণি সিটিতে ১৭ মে। সে হিসাবে ঢাকা উত্তরে বর্তমানে দায়িত্বশীলদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২০ সালের ১৩ মে, আর দেিণ ১৬ মে।
ঢাকার উত্তর সিটিতে মেয়র পদসহ ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৮টি সংরতি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। উত্তর সিটিতে মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এই সিটিতে ভোট গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪৯টি। ভোট গ্রহণের বুথ সংখ্যা ৭ হাজার ৫১৬টি।
অপরদিকে ঢাকা দণি সিটিতে মেয়র পদসহ ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড, ২৫টি সংরতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হবে। এই সিটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন। সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১২৪টি। বুথের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৯৮টি। সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাশেম। এছাড়াও ১৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি সংরতি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে এ দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা দণি সিটি নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব আবদুল বাতেনকে। যিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সিটিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ২৫ জন; প্রতিটি সংরতি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে।
ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস নির্ধারণ করা হয়েছে বনানী কমিউনিটি সেন্টার। দণি সিটিতে মতিঝিল কমিউনিটি সেন্টারকে (বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এদিকে ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনে সাঈদ খোকন ছাড়াও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি ও হাজী মো. সেলিম এমপির পে মনোনয়নপত্র কেনা হয়েছে। এছাড়া দেিণ মেয়র প্রার্থী হতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব এম এ রশিদ, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা মো. নাজমুল হকও মনোনয়নপত্র কিনেছেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম আবার নৌকার প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া উত্তরে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র তোলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ ওসমানী, ভাসানটেক থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইয়াদ আলী ফকির, শহীদ পরিবারের সন্তান অধ্যাপক মো. জামান ভূইয়া। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পদে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছে বিএনপি। নয়া পল্টনের মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে (ভাসানী ভবন) দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দুই সিটির কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রার্থীরা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন ফরম নেন। তবে দলের ত্যাগীরা কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কাউন্সিলর পদে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা যেতে পারে।