সাহিত্য

তেল ও আঁতেল

অরুণ কুমার বিশ্বাস
তেল কী ও কত প্রকার – এ বিষয়ে বোধ করি পাঠকমহল সম্যক অবহিত আছেন। ইদানীং শোনা যায়, বিশ^বাজারে তেলের খুব প্রাদুর্ভাব। কারণটা কী অনুমান করতে পারছেন তো! তেলের মূল্য ক্রমশ পড়তির দিকে। ফলে যা হচ্ছে আর কি, বিশিষ্ট তেলুরা এখন হালে পানি পায় না। যে জিনিসের দাম কম ও সাপ্লাই বেশি, তা প্রাপ্তিতে আনন্দ কী! করপোরেশনের কলের মতো- নতুন প্রেমের আঠা যেমন, বাঁধে বটে তবে ভোলায় না। যারা তেলপ্রদানে অভ্যস্ত, তারা এখন তেলের বদলে অন্যকিছু মর্দনে উৎসাহী হচ্ছে। নইলে ঘরের বউ ও অফিসের বসের কাছে মুখ থাকছে না। এ কী বিষম গেরো বলুন!
তেল আর আঁতেলের মাঝে কিন্তু সম্পর্কটা বড় সুবিধের নয়। এরকম একটা কথা প্রচলিত আছে- আঁতেল তেল খায় না। সত্যিই তাই! এ বিষয়ে গভীর পর্যালোচনায় যাবার আগে আসুন আঁতেল শব্দটি নিয়ে একটু আঁতলামি করে আসি। মাতলামিও বলতে পারেন। তেল-আঁতেলে-মাতালে গভীর শত্রুতা।
ইংরেজি ইন্টেলেকচুয়াল শব্দের একরকম বাংলা তর্জমা আঁতেল। বাংলা একাডেমি প্রণীত ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে আঁতেলের এবম্বিধ অর্থ পাওয়া যায়। ওপার বাংলার সংসদ অভিধানে অবশ্য অলোচ্য শব্দটি নেই। তার মানে কি ধরে নেব সব আঁতেলের জন্ম ও বসবাস এখানেই মানে বাংলাদেশে!
সব না হোক, বেশ কিছু আঁতেল যে এই বঙ্গে করে খাচ্ছে সে-কথা সহজেই অনুমেয়। আঁতেলরা ভিন্ন প্রজাতির মানুষ। এরা সংখ্যায় কম, অথচ একত্রে থাকতে পারে না। কারণ কোনো আঁতেলই নিজেকে আঁতেল মানতে নারাজ। আবার আঁতেলে আঁতেলে মোটেও সদ্ভাব নেই। একজন চুলে তেল দিলে অন্যজন ঘি মাখবে। কেউ নেকটাই ঝোলালে অন্যটি বাঁধবে বো-টাই। একজন জুতো পরলে অন্যজন পরবে চটি বা খড়ম। যেন বৈপরীত্যেই ওদের আনন্দ। এরা অনেকটা কাঁকড়ার মতো, কেউ কাউকে পথ ছাড়বে না, তাতে সে নিজে যেতে পারুক বা না পারুক। কথায় বলে না, নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রাভঙ্গের মাঝেও পুলক আছে।
এই যে আমার বন্ধু সনৎ। চরম আঁতেল। খাঁটি সাধুভাষা ছাড়া কথা কয় না, করোলা ছাড়া খায় না, পোশাক-পরিচ্ছেদে অলওয়েজ মাত্রাজ্ঞান মেনে চলে। শুচিবায়ুও আছে। কথা শুরু ও শেষের মাঝে অন্তত কুড়িবার গলা খাঁকরাবে। অহেতুক লোকের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা। নামখানা দেখুন- কোনরকম কারযুক্ত নয়। স-ন-ৎ! আগে দেখেছেন কখনও! নিজের দেয়া নাম। ও মনে করে নামের সাথে অকারণ প্রেফিক্স-সাফিক্স যোগ করার কোন মানেই হয় না। স্রেফ নামে ভারি। যাকে বলে বেহুদা রিমিক্স।
ওর বয়স আর কত- এই ধরুন টেনেটুনে তেত্রিশ। কিন্তু ভাবখানা এমন যেন রাজ্যের বিদ্যা মাথায় নিয়ে ঘুরছে। চোখে চশমা তো থাকবেই, নইলে আর আঁতেল কেন! দেখেই যদি আঁতেল চেনা না গেল, তাহলে আর এত কষ্ট করে আঁতলামি করে কী লাভ! বৃন্দাবনে গিয়ে বাঁশি বাজালেই হয়। মেলা গোপ-গোপিনী জুটে যাবে।
সনৎ বেজায় জানাশোনা ছেলে। নামি প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্টার্স করে জাপানে গিয়ে আলংকারিক ডক্টরেট হাতিয়ে এসেছে। দূরে থেকে দেখেই বোঝা যায়, সনৎ আসছে, আঁতেল আসছে। সত্যি বলতে, ওর আঁতলামি মাতালকেও হার মানায়। মাতাল বোতল পেলেই মুখরিত হয়ে ওঠে। তখন আপনি তাকে যা জিজ্ঞাসিবেন, উহারই ঠিক ঠিক উত্তর দেবে। চাই কি ঘরে কোথায় কত টাকা-পয়সা লুকিয়ে রেখেছে, বা বউকে লুকিয়ে কতবার শালির সাথে ইনডোর ডেট করেছে, কোন কিছুই বাদ রাখবে না। মাতালের সর্বসুখ এবং স্বর্গসুখ বোতলেই নিহিত।
কিন্তু আমার আঁতেল বন্ধু কোন রকম ধারাপাত মানে না। সে তার মতোই। লাল ক্যাটকেটে টাই আর ধূসর একখানা কোট তার থাকতেই হবে। এর কোন রকম নড়চড় হবে না, নইলে আঁতেলের তাল কেটে যায়। সেই সবজান্তা ভাবখানা আর থাকে না। মার্কামারা অক্সফোর্ড সুজ তার পায়ে। জুতোয় কালি পড়েনি কোনকালে, তাই ওটা আদৌ কালোরঙ ছিল নাকি অন্যকিছু, বোঝা দুষ্কর। কিন্তু বেশবাসে এই নজরহীনতাই তাকে প্রকৃত আঁতেল করে তুলেছে। যেন দুনিয়ায় শুধু জ্ঞান সত্যি, বাকি সব ভুয়া। ব্যাটা কেয়ারফুলি কেয়ারলেস! স্রেফ ভড়ং!
ধরুন গে অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুরা একসাথ হলেন। খেতে বসেছেন কোথাও, অমনি সনৎ আঁতলামি শুরু করে দিল। খাচ্ছেন ফুসচা, আঁতেল অমনি ফুচকা বিষয়ক একখানা লেকচার ঝেড়ে দেবে। এবং এই মর্মে সদয় সিদ্ধান্ত প্রদান করবে যে, ফুচকা অতিশয় নিচুজাতের খাবার। ফকির-মিসকিনরা খায়। এতে প্রচুর ধুলোময়লা মিশে থাকে। খেলে নির্ঘাত ভেদবমি। ওলাওঠা হয়ে মারা গেলেও আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
কত লোক যে খাচ্ছে, মরছে না তো! আপনি হয়তো একটু প্রতিবাদী হলেন। ব্যস, অমনি আঁতেল তেলেবেগেুনে জ¦লে উঠবে। মারমুখী সুরে বলবে, কারা খাচ্ছে, অ্যাঁ? ওরা কি মানুষ! ওরা হল গিয়ে নর্দমার কীট। ওরা প্রলেতারিয়েত, তোমার-আমার মতো এলিট নয়। ওদের সাথে আমাদের তুলনা চলবে কেন। কাকের সাথে কোকিলের তুলনা হয়! মনে মনে বলি, সত্যি বটে। তোমার মতো ডাস্টবিনের কাকের সাথে ভদ্রলোকের মিল কী করে হবে!
আঁতেল কিন্তু এখানেই থেমে নেই। এবার সে কাস-কনফিক্ট বা শ্রেণিসংঘাত নিয়ে জবরদস্ত একখানা অভিসন্দর্ভ মুখে মুখে আউড়ে দেবে। মাঝেমাঝে নামি লেখকের কোটেশনও বলবে। কারণ তার মগজে বিদ্যার উকুন কুটকুট করে কামড়াচ্ছে। আপনার-আমার সাধ্যি কি সেই উঁকুন নখে টিপে মেরে দিই!
সেদিন হয়েছে কি, আঁতেল বন্ধুর সাথে এক জনসভায় গিয়েছি। সেখানে মেলা কেষ্টবিষ্টু হাজির। সরকারের উঁচুতলার লোকও আছেন, আছে মিডিয়াকর্মী। আমি আগে থেকেই জানি, সরকারি লোকদের সে মোটেও দেখতে পারে না। ওর ধারণা, যারা গভর্নমেন্ট জব করে তারা আসলে তত জানেঅলা নয়। স্রেফ লালফিতার কেরামতি দিয়ে করে খাচ্ছে। আসল জ্ঞানী হল গিয়ে সে নিজে, আমার আঁতেল বন্ধু।
আমি একুট দ্বিমত করতেই সে খেঁকুরে গলায় বলল, আরে তুই কি বুঝিস? তুই জাপান গেছিস! ওদের মতো ভদ্রলোক হয়! এই যে এরা সরকারের নথি বগলদাবা করে নিয়ে দৌড়ায়, ওরাই বা কী জানে! করপোরেটে গিয়ে দেখ, ওরা কত পলিশ। দেখেই বোঝা যায় কে জিও, আর কে এনজিও।
এনজিও না হয় বুঝলাম। জিওটা কি বন্ধু? আমি হুড়কো দেই।
আ হা হা হা! জিও জানিস না! গাধা কোথাকার। জিও মানে গভর্নমেন্ট অফিসার। এবার আঁতেল মিডিয়া নিয়ে পড়লো। ওর কথামতো মিডিয়া মানে রঙবদল। সব হলো গিয়ে ইয়েলো জার্নালিজম। ওরা কেবল টিআরপি চেনে। মামুলি খবরকে রাতারাতি ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে যা নয় তাই বলে সংবাদ বানিয়ে কীভাবে দুপয়সা কামাই করা যায়, সেই ধান্ধায় মশগুল।
কী বুঝলেন! আঁতেলের কাছে সব মিথ্যা, শুধু সে নিজে সত্যি। সত্যবাদী যুধিষ্ঠির। তামাম দুনিয়া মিথ্যার বেসাতি খুলে বসেছে। ছি ছি ছি! এই দেশে মানুষ থাকে! এবার সে দেশ নিয়ে পড়লো। এখানে নাকি অনিয়ম আর অনিয়ম। মাছ মরেও শান্তি পায় না, মাছে ফরমালিন মেশানো হয়। ডাব খাবে, কোন্ ভরসায়! ডাবে তো কেরোসিন! অজ্ঞান করে রাস্তায় ফেলে যাবে।
কথা সত্যি, মাছে ফরমালিন থাকতেও পারে। নইলে মাছ পচে যায়। আমি মিউমিউ করে বলি। আঁতেলের সামনে বেশি কথা বলা বা উচ্চস্বরে বলা রীতিমতো বিপদজনক। তেল শব্দটা আঁতেলের ভীষণ অপছন্দ। বলে, যারা অদক্ষ আর লোভী তারাই নাকি তেল দেয়।
আর যারা তেলখোর? আমি প্রশ্ন তুলি, মুফতে আঁতেলের গা থেকে যদি একটু জ্ঞান ধার পাওয়া যায়!
আঁতেল কী যেন ভাবছে। নাকি কথার পসরা সাজায়। আমি তাড়া দেই। কী হল, এবার চুপসে গেলে যে! তোমার জ্ঞানের সাগর শুকিয়ে গেছে বুঝি!
অমনি আঁতেল তেড়েফুঁড়ে উঠলো। এতবড় কথা! আমার জ্ঞানে ভাটা। বলেছে কোন্ পাঁঠা! কভি নেহি।
আমি শুধরে দিয়ে বলি, আমি পাঁঠা নই, তোর বন্ধু। এক অধম লেখক।
লেখা না ছাই, কী সব লিখিস তোরা! লেখকের ভয়ে পাঠক তো এখন বইমেলায় যাওয়া ছেড়েই দিয়েছে! তোরা নাকি পাঠক দেখলেই খপ করে হাতের কব্জি মুঠোয় পুরে টানতে টানতে বুকস্টলে নিয়ে যাস! জোর করে বই কিনতে বাধ্য করিস! ছি ছি ছি!
কেউ কেউ করে। আমি ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যাই। ঘটনা কিঞ্চিত সত্যি বটে। কিন্তু তাতে আঁতেলের কী! কোন কোন ছিঁচকে লেখক বইমেলা শুরু দশ দিন যেতে না যেতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস মারতে থাকে- দ্বিতীয় মুদ্রণ শেষ, তৃতীয় মুদ্রণ শেষের পথে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, কী হে লেখক, প্রতি এডিশনে তোমার কত বই ছাপা হয়! কুড়িখানা, নাকি আরো কম! যত্তোসব ফেরেব্বাজ! এদের কারণে প্রকৃত লেখকেরা দাম পাচ্ছে না। পাবলিক সব ভুয়া মার্কেটিঙে কুপোকাত। মানে হয়!
আমি আঁতেলকে তেলে ফিরিয়ে আনি। নইলে সে লেখকদের মু-ুপাত করে ছাড়বে। আমি তাকে বিলক্ষণ চিনি, তাই নিজের মান বাঁচাতে তেলের পিপায় আশ্রয় নিই। বলি, তেল জিনিসটা নেহাত মন্দ নয়, কি বলো আঁতেল, থুক্কু সনৎ?
হুম! তেল ছাড়া কি জীবন চলে! দিনকে দিন পরিস্থিতি এমন দাঁড়াচ্ছে, পানি পেতেও তেল দিতে হয়। তেলেজলে মিশও খাচ্ছে খুব।
কবে? কোথায়?
কেন, সুন্দরবন! তেলের জাহাজ লিক করলো, কর্তাব্যক্তিরা বিপাকে পড়ে ইচ্ছেমতো হাবুডুবু খেল। বিদেশি সংস্থাকে আবার সেই তেল মেরেই পানি পরিশোধনের যন্ত্র আনা হল। সবকিছু কেমন সুন্দর খাপের খাপ মিলে গেল দেখো। সব তেলের তেলেসমাতি।
মানতে দ্বিধা নেই, এতক্ষণে একটা কথার মতো কথা বলেছে আমার আঁতেল বন্ধু। ওর সব ভালো, শুধু ওই আঁতলামিটা ছাড়া। সব বিষয়ে ওর জ্ঞান কেন রাখতে হবে বলুন তো! এ একরকম মনোরোগ। আমি সব জানি, আমি সব বুঝি। বাকি সব দুবলা বাছুর, শুধু ঘাস-লতাপাতা খায়!
আঁতেলকে তেল দিয়ে আমি মোটামুটি চলছিলাম। হঠাৎ কী বাই চাপলো, আমি ওর বিয়ে নিয়ে কথা বলে ফেললাম। ব্যস, আর যায় কোথায়! আঁতেল সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ থেকে কোট করে বলল, বিয়ে ইজ নাথিং বাট ল’ফুল অ্যাডালট্রি।
খাইছে! এসব কী কইতেছে বেকুব! বিয়ে মানে ব্যভিচার!
আমি অবশ্য জানি না, অগাস্ট কোঁৎ কবে কোথায় এ কথা বলেছেন। আঁতেল বলে কথা। তার উপর কথা চলে নাকি! ওর স্বভাব অনেকটা ঝাঁকুনি খাওয়া কোকাকোলার বোতলের মতোন। একবার কর্ক ওপেন হলে তাকে থামায় এমন সাধ্যি কার! বিয়ে নিয়ে একের পর এক সুমহান বাণী ঝাড়তে শুরু করলো। রুশ লেখক আন্থন চেখভ নাকি বলেছেন, যদি তুমি একাকিত্ব ভয় পাও তবে বিয়ে করো না। তার মানে বিয়ে করে মানুষ আরো বেশি ঘরকুণো, মনক্ষুণœ আর একা হয়ে যায়! কী বেয়াক্কেলে কথা, ভাবুন একবার!
আঁতেল পুনশ্চ দিয়ে বলে, বিয়ে করলে কি হয়, না করলে কী হয়, বিয়েতে শরীর নষ্ট, অহেতুক রাত্রিজাগরণ, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই চ্যাঁ ভ্যাঁ- দুধের বাচ্চার ননস্টপ কান্না। অশান্তির একশেষ।
আমার একবার বলতে মন চাইছিল, এসব না হলে তুমি এলে কোত্থেকে বাছাধন!
মোদ্দা কথা এই, আঁতেল সম্প্রদায় খানিক নিন্দুক প্রকৃতির। কোনকিছুতেই ভালো দেখে না। যত শুভই হোক, কিছু একটু অশুভ ছায়া সে দেখবেই। নিম-নিশিন্দার মতো তেতো এদের বেজায় পছন্দ। জন্ম থেকেই মুখে মধু নেই কিনা, সব সময় শুধু হামবড়া ভাব। তেলে-জলে দুটো এতই অরুচি।
তেলবাজ হতে গেলে একটু স্খলিত চরিত্রবিশিষ্ট হতে হয়। তেলুদের দাঁড়ানোর ভঙ্গিমাও আলাদা। একটু নজর করে দেখবেন, প্রকৃত তেলবাজরা কখনও কোমর সোজা করে দাঁড়ায় না। বা বলা যায় যাদের কোমরের জোর আছে, তারা কাউকে তেল মারে না। যোগ্যতা দিয়ে আদায় করে নেয়। তেল অনেকটা ব্যাকডোর পলিসির মতো। সোজা পথে হচ্ছে না, মেশিনে একটু তেল দাও, দেখবে গাড়ি কেমন তড়বড় করে ছুটছে!
তেল আর আঁতেলের মাঝে দেখা হলে ধুন্ধুমার বাঁধে। কারণ একজন ধান্ধাবাজ, অন্যটি বেরসিক ও বিশ^নিন্দুক। কেউ কাউকে দেখতে পারে না। আবার এরা দুজনই জনস্বার্থে পরিত্যাজ্য। দীর্ঘ ভ্রমণে এদের একজন সঙ্গী হলেই মরেছেন। নরকযন্ত্রণা যে আলাদা কিছু নয়, টের পাবেন।
মজার ব্যাপার, দুয়ের মাঝে বিচিত্র একটি মিল আছে। এরা খুব আত্মপ্রচারে মগ্ন। এরা একটু বাচাল ধরনের। প্রচুর কথা বলে। আঁতেল নিজের জ্ঞান জাহির করে, আর তেলু স্বার্থের খোঁজ করে। তাতেও প্রচুর বকাবাদ্যি করতে হয়। অঢেল কথা না ঢাললে তেলে পিচ্ছিল হবে কেমন করে! আঁতেল নিজেকে চিন্তায় ও মননে সৎ ভাবে। তেলু মনে করে সততা ব্যাপারটাই আপেক্ষিক। আমি স্বার্থচিন্তা করছি, তাতে অসততার কী দেখলেন!
কথা সত্যি ভাই। দুনিয়া আনন্দময়, করো না, যার যা চিত্তে লয়! তেল ও আঁতেল নিয়ে মেলা বাক্যসম্ভার শুনলেন। যতই বলি না কেন, সুরের যেমন কোন শেষ নেই, তেমনি তেলাঁতেলের কাহিনীরও ‘দ্য এন্ড’ বলে কিছু নেই। তেলু তেল মেরেই যাবে, আঁতেল তার বেশুমার জ্ঞানের ফরমান জারি রাখবে। এটাই সত্যি। আপনার ভাল লাগুক বা না-ই লাগুক, তাতে তেলাতেঁলের কী আসে-যায়, বলুন!
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও রম্যলেখক