প্রতিবেদন

মুজিববর্ষে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হয়েছে। ইতোমধ্যে সারাদেশের ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রেখে যাওয়া ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাকে বিগত ১০ বছরে ৭ গুণ বাড়িয়ে প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া সারাদেশে এখন আরও ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যে কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনমতা ১৬ হাজার ১৩৮ মেগাওয়াট। ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার মোট উৎপাদনমতা ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিকল্পনায় রয়েছে, যে কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনমতা ১৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সবমিলিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করেই সরকার বিদ্যুৎ উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।
সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে মুজিববর্ষে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। গ্রাহক ভোগান্তি হ্রাস করতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ হয়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কার্যক্রম জোরদার করেছে সেবাধর্মী এই সংস্থাটি।
আরইবি সূত্র বলছে, গত ৫ বছরে আরইবির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়নের হার ছিল প্রায় শতভাগ। দেশের ৩ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহকের মধ্যে আরইবির গ্রাহক ২ কোটি ৭৫ লাখ। ‘মুজিববর্ষে’ আরইবির ভৌগোলিক এলাকার শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করবে। এভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ সম্পন্ন হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশের ৭৪ হাজার ৩৬০টি গ্রাম, যা মোট গ্রামের ৮৮ ভাগ এবং ৩৬১টি উপজেলা, যা মোট উপজেলার ৭৮ ভাগ, ইতোমধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ বিদ্যুতায়িত ২১১টি উপজেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। অবশিষ্ট গ্রাম ও উপজেলাগুলোর ৭০ থেকে ৯৫ ভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে, যা ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ হবে।
আরইবি বলছে, তারা ৪ লাখ ৭২ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন এবং ১২ হাজার ৪৮৫ এমভিএ মতাসম্পন্ন ১ হাজার ৩টি উপকেন্দ্রসংবলিত সুবিশাল পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। একই সময়ে আরইবি ১৯ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৮৭ হাজার ৬১৬টি শিাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এতে কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও অন্যান্য আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিার গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ৩ লাখ ৪০ হাজার মসজিদ, মন্দির ও গীর্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন সুন্দর ও সহজতর হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরশক্তির ব্যবহার প্রসারের েেত্র বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বাংলাদেশে পথিকৃৎ। ১৯৯৩ সালে একটি প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার ২৫০টি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে আরইবি সর্বপ্রথম বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের সূচনা করে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ছিটমহলগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্রুততম সময়ে ৩০৮ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করে আরইবির উদ্যোগে ১১ হাজার ৮৮২টি পরিবারকে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এতে অবহেলিত জীবনে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘আশ্রয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন, গৃহহীন অসহায় জনগণকে পুনর্বাসিত করার জন্য ৯১৯টি প্রকল্প-গ্রামের ১৯ হাজার ৪৭৮টি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ল্েয ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এ সকল অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিংহভাগই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহের ভৌগোলিক এলাকায় অবস্থিত।
প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরইবি গ্রাহকসেবায় অনলাইন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, অনলাইনে বিল গ্রহণ, অনলাইনে মালামাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কর্মকা- চালু করেছে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়ায় সেখানে বসবাসরত লোকজনের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে গ্রামের মানুষের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে আরইবি এবং ৮০টি সমিতিতে ‘পেপারলেস অফিস’ বাস্তবায়ন কাজ চলমান আছে।
আরইবির আওতাধীন ৮০টি সমিতির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৮টি ুদ্র শিল্প, ১২ হাজার ৪১০টি মাঝারি শিল্প এবং ৩৪২টি বৃহৎ শিল্প অর্থাৎ মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ইজিবাইকের মাধ্যমে জনগণের যাতায়াত সহজতর হয়েছে। তাছাড়া পণ্য পরিবহনের েেত্রও ইজিবাইক ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য ১৪টি সোলার চার্জিং স্টেশন এবং ১ হাজার ৬৭১টি গ্রিড চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাপবিবো-এর তত্ত্বাবধানে ২১টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে এ পর্যন্ত ১৩৩টি নেট মিটারিং স্থাপিত হয়েছে।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বাপবিবো নিরলসভাবে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে বাপবিবো’কে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার’ প্রদান এবং ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য ‘ইনোভেশন শো-কেসিং-২০১৯ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। সরকারের ভিশন-২০২১ অনুযায়ী গ্রামীণ জনগণের ঘরে ঘরে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে ২০১৮ সালে ‘দ্রুত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান’ এবং ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ‘সেরা সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ‘সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।