প্রতিবেদন

র‌্যাব-২ এর অভিযানে ৬ জঙ্গি আটক

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দৃঢ় অবস্থানে আছে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। র‌্যাবের তৎপরতার কারণে সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠনসমূহের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদেরকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। আটককৃতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার পর অনেকের মৃত্যুদ-, যাবজ্জীবন কারাদ-, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করছে এবং বেশকিছু মামলা বিচারাধীন। র‌্যাব ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া বা জঙ্গি ধারণায় উদ্বুদ্ধ বেশকিছু যুবককে সুপথে বা স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের সফলতা আন্তর্জাতিক পরিম-লেও বেশ প্রশংসিত।
জঙ্গি সংগঠনের অপতৎপরতা রোধকল্পে নিয়োজিত থাকাকালে র‌্যাব-২ এর জঙ্গি সেলের কাছে তথ্য আসে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’-এর গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী এলাকার বেশ কয়েকজন সদস্য নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এমন সংবাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’-এর গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানা এলাকায় হরিণমারী, বেতকাপা, পারাম লাগাছি, পার বামুনিয়া এলাকার বাবলু খন্দকার, ওসমান, আতাউর, হোসেন, বাবু, তাহের এবং তাদের সহযোগীরা বাবলু খন্দকারের বাড়িতে প্রায়ই একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের অখ-তা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার এবং জনসাধারণের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২, সিপিসি-৩ এর একটি চৌকস দল ২৩ ডিসেম্বর হরিণমারী এলাকায় পৌঁছে বাবলু খন্দকারের বাড়ি ঘেরাও করে জঙ্গি সংগঠনের ৬ সদস্যকে বৈঠক করার সময় গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বাবুল খন্দকার, আতোয়ার হোসেন, আব্দুল আজিজ ওরফে বাবু, ওসমান গণি, আবু তাহের প্রধান ও হোসেন প্রধান। তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদ বিস্তারকারী বই ও লিফলেট, আল্লাহর দল সংগঠন সম্পর্কিত তথ্যসংবলিত ডকুমেন্ট ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আসামিরা ‘আল্লাহর দল’ জঙ্গি সংগঠনের আমির মতিন মেহেদীর একান্ত সহযোগী ও পলাশবাড়ী থানার নায়েক ও অন্যান্য দায়িত্বশীল পদে থেকে সংগঠনের নেতার নির্দেশে নাশকতার ছক আঁকা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। তারা ২০১৩ সাল থেকে এই সংগঠনের সাথে জড়িত।