কলাম

সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে গাড়িচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই সচেতন হতে হবে

সড়ক নিরাপদ করতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ হয়েছে; কিন্তু নিরাপদ সড়কের কোনো লণ দেখা যাচ্ছে না, বরং দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ১৪-১৫ হাজার মানুষ। পঙ্গুত্ববরণ করছে আরও অনেকে।
সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ চালকদের বেপরোয়া যানবাহন চালানো। একটি গাড়ির সাথে অন্য আরেকটি গাড়ির প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অনেক সময় এতে যাত্রীদেরও সায় থাকে।
তাছাড়া চালকের দতার অভাব, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, জনসাধারণ ও চালকের ট্রাফিক আইন না মানা, চালকের গতিসীমা না মানা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা, জনসাধারণের যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়া, ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা এবং রাস্তায় ডিভাইডার ও স্পিডব্রেকারের অভাব অন্যতম কারণ।
দেখা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য গাড়ির মালিক, চালক, যাত্রী, পথচারী, বিআরটিএ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কম-বেশি দায়ী। এই পক্ষগুলো সড়ক পরিবহন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না তা গাড়ির চালকের পাশাপাশি মালিককেও খেয়াল করতে হবে এবং যথাসময়ে গাড়ি মেরামত ও সার্ভিসিং করতে হবে। এমনকি গাড়ির মালিককেই যথাযথ চালক নির্বাচন করতে হবে। কেবল ইনকামের কথা চিন্তা করে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি তুলে দেয়া কোনো কাজের কথা নয়।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকের প্রশিণের অভাব, চালকের অতিরিক্ত খাটুনি, চালকের স্থায়ী নিয়োগের বদলে যাত্রার ওপর মজুরি নির্ধারণ, শাস্তির অপ্রতুলতা এবং হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা অন্যতম। অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালালে যানবাহনের মালিকও খুশি। কারণ, যত তাড়াতাড়ি একটি ট্রিপ শেষ করা যায় তত তাড়াতাড়ি আরেকটা ট্রিপ পাওয়া যাবে, তাতে ট্রিপও বাড়বে। ট্রিপ বাড়লে মালিক-চালক সবারই আয় বাড়বে। এ জন্যই চালকরা উৎসাহী হয়ে গাড়ির গতি বাড়ায় এবং দুর্ঘটনা ঘটায়।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ল্েয মোটরযান চালকদের লাইসেন্স প্রদানে কিছুটা শক্ত প্রক্রিয়া আরোপ করা হয়েছে, যদিও তা যথেষ্ট নয়। বাস, ট্রাক ইত্যাদি ভারী মোটরযানের চালকদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা প্রয়োজন। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের বেশ কিছু পদপে গ্রহণ করা উচিত। এর অন্যতম হলো, মেট্রোপলিটন সড়ক নিরাপত্তা কমিটি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, হাইওয়েতে ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত গাড়ি ইত্যাদি যানবাহন নিষিদ্ধ, গণমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর ইত্যাদি। পাশাপাশি গাড়ির মালিক, চালক, যাত্রী, পথচারী, বিআরটিএ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ সকলকেই সচেতন হতে হবে। নইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তেই থাকবে।