প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

অনন্য রেকর্ড স্থাপন করলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম : ৩৫ বছর পর সহস্রাধিক কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে বরাদ্দগ্রহীতাদের জমি বুঝিয়ে দিল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

বিশেষ প্রতিবেদক
অনন্য রেকর্ড স্থাপন করলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর সহস্রাধিক কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে, উদ্ধার হওয়া জমিতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বরাদ্দগ্রহীতাদের হাতে প্লট/জমি বুঝিয়ে দিয়ে নতুন এক নজির গড়লেন তিনি। এর মাধ্যমে বিদায়ী বছরের (২০১৯) ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সেবা কার্যক্রমে সাফল্যের মুকুটে নতুন এক পালক যুক্ত হলো।
জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর ধরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর ৮নং সেকশনের সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক প্রকল্পের (দুয়ারিপাড়া) ক ও খ ব্লকের ৪৭৪টি প্লট নিয়ে দখল-বেদখল, মামলা-পাল্টা মামলা জটে আটকে ছিল বৈধ প্লট মালিকদের ভাগ্য। এই সময়ে (৩৫ বছর) জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে বহু কর্মকর্তার পদায়ন হয়েছে, কিন্তু ২৩ দশমিক ৯৭ একর জমি এবং তৎসংলগ্ন আরও প্রায় ১০ একর জমির দখল হাতে রাখতে পারেনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ভূমিদস্যুদের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছিল সরকারি সংস্থাটি। স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিশাল ওই জমিতে অবৈধভাবে বস্তি গড়ে তুলে বসবাস করছিল বিপুলসংখ্যক মানুষ। এর পার্শ¦প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিরপুর রূপনগর এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছিল মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ কর্মকা-ের কেন্দ্রীয় আস্তানা।
গত ৩৫ বছর ধরে ভূমিদস্যুদের দুষ্টচক্র ভাঙার পণ করে মাঠে নামার সাহস দেখায়নি কেউ। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একবার বস্তি তুলে দিতে অভিযান পরিচালিত হলেও নিজেদের দখলদারিত্ব দিন দশেকের বেশি ধরে রাখতে পারেনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ফলে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের সময়ে ওই বিশাল জমি দখলে নিয়ে বরাদ্দগ্রহীতাদের হাতে তুলে দেয়ার যথাযথ উদ্যোগও নেয়নি কেউ। অবশেষে সেই উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগে দুয়ারিপাড়ায় গড়ে ওঠা বস্তি এখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখলে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন দিনবদলের পরিকল্পনা। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে গত টানা ১১ বছর ধরে সেই দিনবদলের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের দূরদৃষ্টি ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছেন বর্তমান সরকারের একদল দেশপ্রেমিক নবীন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিন ইমেজধারী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দিকনির্দেশনা ও অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়ার পর এরই মধ্যে প্রায় সহস্রাধিক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভূমি উদ্ধার করার মাধ্যমে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। এমনকি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আইন শাখাকে সক্রিয় করার পাশাপাশি নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আলাপকালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের যথাযথ নির্দেশনা, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সেবাকে সেবাগ্রহীতাদের একেবারে দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বেহাত হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ অনেক। আমরা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রের এই সম্পত্তি উদ্ধারে বদ্ধপরিকর।
রাশিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঢাকার মিরপুরের ৮নং সেকশনের দুয়ারিপাড়া মৌজায় অবৈধ দখলে থাকা ৩১ একর সরকারি সম্পত্তি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তাছাড়া দিনাজপুর জেলায় অবৈধ দখলে থাকা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ১০ একর সরকারি সম্পত্তি আমরা সম্প্রতি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইনÑআদালতের জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়াও আমাদের আইনিভাবে সামলাতে হয়েছে এবং হচ্ছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, এ প্রক্রিয়ায় সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু মামলা ইতোমধ্যে আমরা সফলভাবে নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। অবশিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এভাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দুর্নীতিবিরোধী পদেেপর সঙ্গে তাল মিলিয়ে একে একে সারাদেশ থেকে উদ্ধার করে চলেছেন প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জাতীয় গৃহায়নের সরকারি জমি ও অবৈধ স্থাপনা। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে অনেক জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল স্বার্থান্বেষী কিছু মহল। বছরের পর বছর ধরে অপদখল হয়ে থাকলেও এসব জমি উদ্ধারে জোরালো উদ্যোগ ছিল না। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর এ যাবৎ প্রায় ৮০০ একরেরও বেশি জমি উদ্ধার করে ওইসব জমিতে সরকারের স্থায়ী দখলদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বেহাত হওয়া বাদবাকি সরকারি সম্পত্তিও একে একে উদ্ধার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়ম-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তবে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অর্থাৎ জনগণের সম্পত্তি জনগণকে ফিরিয়ে দেয়া তথা সরকারের জমি সরকারের দখলে রাখার লড়াইয়ে নেমে প্রতিনিয়ত জীবন ও পদ হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। ভূমিদস্যু ও অবৈধ সুবিধাভোগী দুষ্টচক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন তিনি। নানা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভূমিদস্যুরা একের পর এক অসত্য প্রচারণা চালিয়ে সরকার তথা মন্ত্রণালয়ের কাছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় নেমেছে। যদিও সেবাগ্রহীতাদের দোয়া ও প্রশংসার পাশাপাশি মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক শ্রম ও মেধা ব্যয় করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে থাকা চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের পাশে থেকে তাকে শক্তি ও সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯: এ যেন
এক নতুন রূপনগরের গল্প
৩৫ বছর অপেক্ষার পর ৪৭৪ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্লট বুঝিয়ে দেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ Ñ এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩১ ডিসেম্বর সরজমিনে এই প্রতিবেদক যান রূপনগরের দুয়ারিপাড়া। বাহন থেকে নেমেই চোখে পড়ে বিশাল এক অখ- ভূমির। কয়েক যুগেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা বস্তি-জঙ্গল উচ্ছেদ করে ওই বিশাল জমির চারদিকে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের একাধিক সাইনবোর্ড। তাতে ‘সরকারি সম্পত্তি সাধারণের প্রবেশে নিষেধ’ Ñ এমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
৩৫ বছর অপেক্ষার পর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজেদের প্লট বুঝে নিতে হাজির হয়েছেন কয়েক শ’ প্লট মালিক।
তাদের প্রত্যেকের মুখেই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের প্রশংসা।
প্লট বুঝে নিতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক ড. এস এম মজিবুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিকতা করতাম। ১৯৮৬ সালের কথা। সেই সময়ে মিরপুরের রূপনগর সম্প্রসারিত প্রকল্পে একটি প্লট বরাদ্দ পাই। কিন্তু দীর্ঘ ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এতদিন আমি প্লট বুঝে পাইনি।
তিনি জানান, এতদিন বরাদ্দ পাওয়া প্লট খাতাপত্রে থাকলেও বাস্তবে এখানে প্লটের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। প্লটের জমিতে ছিল বস্তি।
তিনি বলেন, যখন আড়াই কাঠার একটি প্লটের আবেদন করেছিলাম তখন ছিলাম যুবক। আজ বৃদ্ধ বয়সে এসে প্লটটি বুঝে পাচ্ছি। ধন্যবাদ বর্তমান সরকার ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানকে।
অধ্যাপক মজিবুর রহমানের মতো প্লট বরাদ্দ পাওয়া আরো ৪৭৩ জনের একটি বড় অংশ কিস্তির টাকা পরিশোধ করে দীর্ঘ ৩৫ বছর প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিদায়ী বছরের শেষ দিনে (৩১ ডিসেম্বর) প্লট বুঝে পেয়েছেন। যদিও বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকে এরই মধ্যে মারা গেছেন।
প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদের বিধবা স্ত্রী সৈয়দা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আমার স্বামী জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে প্লটের টাকা পরিশোধ করেছিলেন। প্লটের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তিনি মারা গেছেন। তার স্ত্রী হিসেবে এখন এই প্লট বুঝে পেয়ে ভালো লাগছে। আজ আমার কাছে ঈদ আনন্দ। এজন্য আমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রসারিত রূপনগর প্রকল্প দুয়ারিপাড়া প্রকল্পের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ছিল শত শত বস্তিঘর। বস্তিঘরগুলোতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের কেউই ছিলেন না। ভূমিদস্যু ও একশ্রেণির নেতার ছত্রছায়ায় বস্তিঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছিল। বস্তিতে দেদারসে চলত মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন।
দুয়ারিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পের জমির নিয়ন্ত্রক ছিলেন আমির হোসেন মোল্লা। তিনি মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। তাঁর মাধ্যমে সেখানে অবৈধ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছিল। গ্যাস লাইন টানারও চেষ্টা চলেছিল। এসব খাত থেকে তার লোকজন মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করতো।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমির হোসেন বলেন, আমি এবং আমার লোকজন সরকারি কোনো জমি দখল করিনি। সেখানে আমাদের পৈতৃক অনেক জমি রয়েছে। সেসব জমিতে বস্তিঘর তুলে ভাড়া দিয়েছি।
গৃহায়ন কর্তৃপ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পে ২৪ একর বা ৭২ বিঘা (১৪৪০ কাঠা) জমি রয়েছে। সরকারের অধিগ্রহণ করা এ জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। প্রতি কাঠা জমির মূল্য ১২ লাখ টাকা হিসাবে এ অঙ্ক দাঁড়ায়। তবে বাস্তবে এ জমির মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো শক্ত হাতে দূর করতে শুরু করেন। সংস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি দিনরাত অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি ছুটির দিনেও অঘোষিতভাবে প্রকল্প এলাকা ভিজিট করার কারণে সংশ্লিষ্টরা কাজের গুণগত মান বজায় রাখার েেত্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকেন। এতে ঠিকাদার ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজের গুণগত মানে নয়-ছয় করার সাহস পায় না।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিকল্পিত আবাসন গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাজ প্লট-ফ্যাট-জমি সংক্রান্ত হওয়ায় গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থহানি হলেই তারা দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ তোলে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ও সচিবের নির্দেশনায় জনস্বার্থে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ ও সহজীকরণের অংশ হিসেবে প্লট/ফ্যাটের নামজারি সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। মাঠ পর্যায়ে দখল হস্তান্তর ও নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ায় সেবাপ্রত্যাশীরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই কাক্সিক্ষত সেবা পেয়ে যাচ্ছেন এবং ভোগান্তিও লাঘব হচ্ছে।
এর বিপরীতে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রূপকল্প বাধাগ্রস্ত করতে একদিকে যেমন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা শুরু করেছে, অন্যদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করছে। তারা রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুদক, ডিজিএফআই, এনএসআই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারে সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মহলটির উদ্দেশ্য, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদ থেকে রাশিদুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া। কারণ, এ কাজে সফল হলে তারা আবারও তাদের অবৈধ কর্মকা- চালাতে পারবে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে বলেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। সৎভাবে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী চক্র যা খুশি তা করুক, আমি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইনি, ঘটতেও দেবো না। আমার কাছে ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক তথা জাতীয় স্বার্থই বড়। তাই স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে নেবে এবং ব্যক্তিবিশেষ সরকারের অর্থ খেয়ালখুশি মতো খরচ করবে আর প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি দেখেও ব্যবস্থা নেব না, তা হতে পারে না।
মো. রাশিদুল ইসলাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপে আমি দু’টি কাজ সম্পন্ন করবোই। এর একটি হলো, এই প্রতিষ্ঠানকে আমি শতভাগ ডিজিটালাইজ করবো এবং অন্যটি হলো এই প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবো। আর এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমি এই দুই কাজে সফল হবোই।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপে যোগদানের পর থেকে কোনো ছুটি ভোগ করেননি। তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা-সাড়ে ৮টার মধ্যে অফিসে আসেন এবং অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে হাজির হওয়ার তাগিদ দেন। এতে দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কিত হলেও স্বস্তি এসেছে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে গৃহায়ন কর্তৃপে সেবাগ্রহীতাদের নামজারি করতে সময় লাগত ৩৩ দিন, এখন লাগছে ৩ দিন। এভাবে সেবা প্রদানের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধাপ ও সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। তাছাড়া সম্প্রতি চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম সেবাপ্রত্যাশীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার ল্েয ব্যতিক্রমী বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সংস্থার ফ্রন্ট ডেস্কে বসে সারাদেশ থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। এমনকি চেয়ারম্যান নিজেও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফ্রন্ট ডেস্কে বসে সেবাগ্রহীতাদের সেবা পাওয়ার বিষয়টি তদারকি করে থাকেন। ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে অনেক েেত্র কিছু সমস্যার তাৎণিক সমাধান এবং অন্যান্য েেত্র সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে।
এমতাবস্থায় সেবাগ্রহীতারা বলছেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা লাঘব হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যানের কার্যকর হস্তপে এবং তাঁর সংস্কারমূলক এসব সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা এখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি আস্থাশীল। যেটুকু আস্থাসংকট আছে তা কেটে যাবে প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ ডিজিটালাইজড হলে।
ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা, ছুটি, পেনশন পরিশোধে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির সাফল্যের পর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে সকল কার্যক্রম একটি সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার কাজ শুরু হয়েছে।
সেবা প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে সকল কাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে ইএফটির পর শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে দেখতে পান, এখানকার প্রায় সব কার্যক্রমই মান্ধাতার আমলের রেজিস্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সরকারঘোষিত ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার কোনো নাম-নিশানাই নেই। গৃহায়ন কর্তৃপরে কোন প্রকল্পের গ্রাহকসংখ্যা কত জন, সেই গ্রাহকরা কতটি কিস্তি জমা দিয়েছেন; কতটি বাকি আছে, কিস্তির মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থ কোন খাতে জমা হচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমাকৃত এফডিআরের পরিমাণ কতো, কোন সালে কোন ব্যাংকে কত এফডিআর জমা হয়েছে Ñ এমন ছোট-বড় সব হিসাবের জন্যই ঢাউস সাইজের জাবেদা ও খতিয়ান বই সংরণ করা হচ্ছে। একজন গ্রাহক এসে যদি জানতে চান, প্লট বা ফ্যাটের দলিল পুরোপুরি বুঝে পেতে তাকে আর কয়টি কিস্তি প্রদান করতে হবে Ñ এমন ছোট একটি তথ্য পেতেও ওই গ্রাহককে তিন-চার জায়গায় ছুটতে হয়। তথ্য খোঁজার যন্ত্রণা এড়ানোর জন্য প্রায়ই ওই গ্রাহককে শুনতে হয় ‘অমুক স্যারের কাছে যান’ অথবা ‘আগামী সপ্তাহে আসুন’ ইত্যাদি।
অথচ এসব তথ্য যদি কম্পিউটারাইজড সংরতি হতো, তাহলে ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারী একটি কিকের মাধ্যমেই গ্রাহককে জানিয়ে দিতে পারতেন, তিনি কয়টি কিস্তি জমা দিয়েছেন, কয়টি কিস্তি বকেয়া রয়েছে এবং কয়টি কিস্তি বকেয়া হলে জরিমানাসহ জমা দেয়ার শেষ তারিখ তিনি ঘরে বসেই জানতে পারবেন। এমনকি এেেত্র গৃহায়ন কর্তৃপরে করণীয়ও নির্ধারণ করা যাবে অতি সহজেই।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে জানান, গ্রাহকরা তো বটেই, এমনকি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো প্রকল্পের একটি তথ্য পেতে তাঁকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপো করতে হয়। প্রায় সময়ই শুনতে হয়, ‘নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। ডিজিটাল এ যুগে যেখানে একটি তথ্য পেতে ১০ সেকেন্ডের বেশি লাগার কথা নয়, সেখানে ১ ঘণ্টায়ও তথ্যটি না পেয়ে তিনি শঙ্কিত হন, ‘গ্রাহকরা না জানি কত হয়রানির সম্মুখীন হন’।
সমস্যা উপলব্ধি করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সাথে পরামর্শ করেন এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপকে কেরানিনির্ভর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ শতভাগ ডিজিটালাইজড করার সিদ্ধান্ত নেন সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, সেবাপ্রাপ্তি সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে আগে একে ডিজিটালাইজড করতে হবে। সংস্থার সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এলেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা তার কম্পিউটার থেকে সব কার্যক্রম মনিটর করতে পারবেন। পাশাপাশি কেরানিদের ওপর নির্ভর না করে কম্পিউটারে কিক করে মুহূর্তেই জানতে পারবেন প্রয়োজনীয় সকল তথ্য। কারণ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরতি থাকবে জাগৃক-এর সকল তথ্য। সেই ল্য ও পরিকল্পনামাফিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে আইটি ডিভাইস স্থাপনের কাজটি দ্রুত এগিয়ে চলছে।

একনজরে সারাদেশে অবস্থিত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হাউজিং প্রকল্প
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় সারাদেশে ৩৫টি জেলা ও ৭টি উপজেলা পর্যায়ে সর্বমোট ৮ হাজার ৭৭৯.৮২ একর জমির ওপর ৬৫টি হাউজিং এস্টেট রয়েছে। এছাড়া ১৪টি জেলা এবং ৭টি উপজেলায় ১৪টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প, ১৪টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ৩টি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য ২টি প্রকল্পসহ মোট ৩৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ চলমান রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ২ হাজার ৫৯১টি আবাসিক প্লট, ৭ হাজার ১৮৯টি আবাসিক ফ্যাট, ৮১৯টি বাণিজ্যিক দোকান ও বিভিন্ন আয়তনের বাণিজ্যিক স্পেস নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাবিত, যা অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন ২টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৮টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ৩১৯টি আবাসিক প্লট এবং ১১ হাজার ১৯২টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ঢাকা শহরে বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে ভাড়াভিত্তিক ৫৩৩টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ। এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় শুরু করা হয়েছে এবং তিনি নিজে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন।
এছাড়া মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আরো ৯ হাজার ৪৭৭টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান প্রকল্পটিতে প্রতিটি ফ্যাটের আয়তন ৬৫৭ বর্গফুট। এতে লিফট, সাবস্টেশন, জেনারেটর, উন্মুক্ত জলাধার, খেলার মাঠসহ সকল প্রকার আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ফ্যাটে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীদের প্রতিটি ফ্যাটের মাসিক ভাড়া দৈনিক কিস্তিতে ২৪৫ টাকা অথবা মাসিক ভিত্তিতে ৭ হাজার ৩৬৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙালিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বসিলার কলাতলী এলাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রায় ৮০০টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বর্তমান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

গৃহীত নতুন প্রকল্প
পিরোজপুর সদর উপজেলায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের নাগরিকদের পরিকল্পিত আবাসনের জন্য ১৬ দশমিক ৪৫ একর (৫০ বিঘা) জমিতে বিভিন্ন আয়তনের ১৬৮টি আবাসিক প্লটবিশিষ্ট সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প (স্ব-অর্থায়ন)

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬ দশমিক ৪৫ একর (৫০ বিঘা) জমির ভূমি অধিগ্রহণ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন আয়তনের (৭.৫০, ৭.০, ৫.০, ৪.০, ৩.৭৯, ৩.৫০, ৩.৪০, ৩.০ কাঠা) ১৬৮টি প্লটের বিপরীতে ১৮৮টি আবেদনপত্র পাওয়া গেছে। শিগগিরই উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে প্লটের বরাদ্দগ্রহীতা এবং প্লট নম্বর নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এছাড়া প্রকল্পের ভৌত কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ১ বছরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে যত অর্জন

ক্স দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর ঢাকাস্থ মিরপুর ১৬ নম্বর সেকশনের ধামালকোট মৌজায় ভাসানটেক থানা সংলগ্ন ১০ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক ফেব্র“য়ারি-২০১৯ এ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ বুঝে নেয়। বর্তমানে এই জমিতে ফ্যাট নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ক্স কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটে জুন/২০১৯ মাসে রাস্তার পাশের দশমিক ৫ একর জমি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক রাস্তা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্স দীর্ঘ ৩০ বছর পর যশোর হাউজিং এস্টেটে জুলাই/২০১৯ মাসে রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ চত্বরসহ ৩২ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্স দীর্ঘ ৪০ বছর পর নভেম্বর/২০১৯ মাসে দিনাজপুর হাউজিং এস্টেটে রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ চত্বর, আবাসিক প্লটের ৩৫ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে।
ক্স ঢাকার মিরপুর ৮ নম্বর সেকশনে দুয়ারিপাড়া এলাকায় ক ও খ ব্লকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ৩০ একর জমি ডিসেম্বর/২০১৯ মাসে অপদখলমুক্ত করা হয়। এই জমিতে পূর্বে বরাদ্দকৃতদের মাঝে প্লট সরেজমিনে বুঝিয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ক্স নোয়াখালীর মাইজদী হাউজিং এস্টেটে আগস্ট/২০১৯ মাসে বিভিন্ন রাস্তার পাশের প্রায় ১ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক উন্নয়মূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ক্স দেশের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ সর্বপ্রথম অর্থ মন্ত্রণালয়ের রইঅঝ++ পদ্ধতিতে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা ও পেনশন গ্রহণ করার কার্যক্রম গত সেপ্টেম্বর/২০১৯ মাস হতে শুরু করেছে।
ক্স জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে ঢাকাসহ দেশের সকল অফিস ও শাখা অফিসে কাজের গতিশীলতা ও মান বৃদ্ধির জন্য এর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি ডিসেম্বর/২০১৯ হতে চালু হয়েছে, যা প্রধান কার্যালয় হতে সরাসরি মনিটরিং করা যায়।
ক্স কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি ও গতিশীল করার ল্েয এবং নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে সকল পর্যায়ের অফিসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব সিসি ক্যামেরার কার্যক্রম প্রধান কার্যালয়
ক্স হতে সরাসরি মনিটরিং করার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্স গত ১ বছরে ঢাকার লালমাটিয়ায় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ১৫৩টি ফ্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় বসবাসরতদের পুনর্বাসনের ল্েয ১৩০টি পরিবারকে লালমাটিয়াতে ফ্যাট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর ১৫নং সেকশনে জয়নগর প্রকল্পে ৩১২টি ফ্যাট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই এলাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য নির্মিত ১০০টি ফ্যাট হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া মিরপুর ৯নং সেকশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ১০৪০টি ফ্যাটবিশিষ্ট স্বপ্ননগর-১ প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই বরাদ্দগ্রহীতাদের কাছে ফ্যাটগুলো হস্তান্তর করা হবে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এফ-ব্লকে ৪০০টি আবাসিক ফ্যাট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ক্স ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৮৮টি ফ্যাটবিশিষ্ট প্রকল্পের ভৌত কাজ জুন/২০১৯ এ শুরু হয়েছে। এছাড়া একই এলাকায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরো ৫৪টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত কাজ ফেব্র“য়ারি/২০১৯ এ শুরু হয়েছে।
ক্স ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা ও বিআরটিসি বাস-স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ৪৭৯টি আবাসিক ফ্যাটবিশিষ্ট ‘গৃহায়ন দোলনচাঁপা’ ও ‘গৃহায়ন কনকচাঁপা’ প্রকল্পের স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা অনুমোদিত হয়েছে, যার ভৌত কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।
ক্স লালমাটিয়া নিউ কলোনির খেলার মাঠের আধুনিকায়ন কাজের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।
ক্স লালমাটিয়ার এফ-ব্লকে আবাসিক ফ্যাট প্রকল্পের অবরাদ্দকৃত ১৫০টি ফ্যাট বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্স প্রধান কার্যালয় ‘গৃহায়ন ভবন’-এর পেছনে গড়ে ওঠা প্রায় ৩২ বছরের পুরাতন বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০ তলাবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে স্থাপত্য নকশা পাওয়া গেছে।
ক্স মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩.০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
ক্স বিভিন্ন হাউজিং এস্টেটে ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট ও পার্ক পুনঃনির্মাণ, সংস্কার ও পুনর্বাসন করা হয়েছে।
ক্স জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য পদে ২১ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি এবং প্রোগ্রামার, সহকারী প্রোগ্রামার ও সহকারী প্রকৌশলী পদে ১০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ক্স লালমাটিয়া হাউজিং এস্টেটে ৮ তলাবিশিষ্ট কমিউনিটি সেন্টার-কাম-বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণকাজ চলমান আছে।