কলাম

জঙ্গিদের বিচার ও জামিনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে রাষ্ট্রপক্ষকে

জঙ্গি তৎপরতার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় আসামিদের জামিনের েেত্র রাষ্ট্রপরে গাফলতি দেখা যাচ্ছে। পাবলিক প্রসিকিউটরদের (পি. পি.) মাধ্যমে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। অভিযোগ আছে, জামিনের বিষয়ে পি. পি.-রা নিস্পৃহ থাকায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সহযোগিতা করায় জঙ্গিরা বিনা বাধায় জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের অপসারণের এখতিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের না থাকতে পারে, কিন্তু তিনি দরকারি ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দিষ্টভাবে পরামর্শ দিতে পারেন।
জঙ্গিদের জামিন পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ-বিশেষজ্ঞরা জঙ্গিদের অকালীন জামিন পাওয়া বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে বারবার। তদন্তে গাফলতি ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতায় মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এসব মামলার আসামিদের যথাসময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে জঙ্গি হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে বলে তাদের অভিমত।
স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, জঙ্গিরা জামিন নিয়ে পলাতক হলেও তাদের জামিনদাররা যথাযথ কার্যকর জবাবদিহির আওতায় নেই। তাদের কারো বিরুদ্ধেই আজ পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। জানা গেছে, পলাতকদের মধ্যে অন্তত দুই ডজন ভয়ঙ্কর জঙ্গি রয়েছে, যারা সমরাস্ত্র পরিচালনা এবং শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরিতে পারদর্শী। দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠনের সাম্প্রতিক উত্থানের নেপথ্যে এসব জঙ্গিই কলকাঠি নাড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ কারাগারে আটক থেকেও তৎপরতা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালিয়েও জামিনে পলাতক জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জামিনে মুক্ত এসব দুর্বৃত্ত কোথায় আছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে। এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না গেলে দেশে নিরাপত্তাহুমকির আশঙ্কা থাকবে।
আমরা এ-ও মনে করি, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকেও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। জঙ্গির আইনজীবী তার মক্কেলের জামিন চাইতেই পারে। সেক্ষেত্রে পি. পি. যদি জামিনের বিরোধিতা না করে, তাহলে বিচারকের তো জামিন দেয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। তাছাড়া জামিনে থাকা জঙ্গি আসামিকে খুঁজে পাওয়া না গেলে তাদের জামিনদারদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা খুবই জরুরি বলে আমরা মনে করি।