ফিচার

মসৃণ ও কোমল হাত-পা পেতে করণীয়

সুমাইয়া আক্তার সুমি
সৌন্দর্য মানে কি শুধু মুখের রূপচর্চা? মোটেও না। মুখের ত্বক নিখুঁত অথচ হাত-পা পরিষ্কার নয়, এমন হলে কিন্তু আপনার সৌন্দর্য অনেকটাই কমে যাবে। সেজন্য মুখের পাশাপাশি সারা শরীরেরও সমান যতœ নেয়া প্রয়োজন। সেই তালিকায় প্রথমে রয়েছে মসৃণ, কোমল, লোমহীন হাত ও পা।
হাত-পায়ে লোমের আধিক্য থাকলে দেখতেও ভালো লাগে না, নানা অস্বস্তির কারণও হয়। তাই বেশিরভাগ মেয়েই লোম তুলে হাত-পা পরিষ্কার রাখতেই পছন্দ করেন।
লোম তোলার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত শেভিং আর ওয়্যাক্সিং। থ্রেডিং, হেয়ার রিমুভিং ক্রিম, ইলেকট্রোলাইসিস এবং লেসার ট্রিটমেন্টের মতো আরও নানা উপায় রয়েছে। সব কিছুর মতোই প্রতিটি পদ্ধতির কিছু সুবিধা এবং কিছু অসুবিধাও রয়েছে।
আসুন, জেনে নিই শরীরের বাড়তি লোম তোলার নানা পদ্ধতি ও তার ভালোমন্দ।

শেভিং
লোম তোলার সবচেয়ে সহজ আর চিরকালীন পদ্ধতি হলো শেভিং। ত্বকের উপরিভাগ থেকে লোম চেঁছে বাদ দেয়ার নামই শেভিং। আপনার বাজেটের ওপর নির্ভর করে ডিসপোজেবল অথবা ইলেকট্রিক রেজার এবং ভালো মানের শেভিং ফোম কিনে নিন। ঘরে বসেই নিমেষে সাফ করে নিতে পারবেন হাত-পায়ের লোম। শেভিং ফোমের বদলে বডি অয়েল বা ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। এতে হাত ও পায়ে বাড়তি কোমলতা আসবে।

শেভিংয়ের সুবিধা
লোম তোলার সবচেয়ে সহজ আর ব্যথাহীন পদ্ধতি হলো শেভিং। শুধু রেজারের ব্লেডটা যেন ধারালো হয়। তাতে একদিকে দ্রুত টানে সব লোম তুলে ফেলতে পারবেন আর শেভিংয়ের সময় বা পরবর্তীতে জ্বালাও হবে না। কম খরচে নিটোল ত্বক পাওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর নেই।

শেভিংয়ের অসুবিধা
যেহেতু শুধু ত্বকের উপরের অংশের লোমই চেঁছে ফেলা হয়, তাই ফলাফল একেবারেই স্থায়ী নয়। শেভিংয়ের দিন দুয়েকের মধ্যেই ফের লোম গজিয়ে যায়। তাছাড়া শেভিং করার পরে লোমের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে।

হেয়ার রিমুভিং ক্রিম
শেভিংয়ের পরই সবচেয়ে জনপ্রিয় যে পদ্ধতি, সেটা হলো হেয়ার রিমুভাল ক্রিম। এেেত্র বিশেষ ধরনের ক্রিম ত্বকে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট অপো করতে হয়। তারপর নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে ক্রিম মুছে নিলে তার সঙ্গে সব লোমও উঠে যায়।

হেয়ার রিমুভিং ক্রিমের সুবিধা
এটিও ব্যথাহীন পদ্ধতি এবং অপোকৃত কম খরচে ঝটপট করা যায়। শেভিংয়ের চেয়ে হেয়ার রিমুভিং ক্রিমের ফলও বেশিদিন স্থায়ী হয়। প্রায় এক সপ্তাহ মসৃণ ত্বক পাবেন আপনি।

হেয়ার রিমুভিং ক্রিমের অসুবিধা
হেয়ার রিমুভিং ক্রিমে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিক লোমের স্বাভাবিক গঠনতন্ত্রকে ভেঙে দিতে পারে বলে লোম উঠে যায়। কিন্তু অন্যদিকে এই প্রচ- কড়া রাসায়নিকের ফলে ত্বকে জ্বালা বা চুলকানি হতে পারে। তাই হেয়ার রিমুভিং ক্রিম ত্বকে সহ্য হচ্ছে কি না সেটা আগে দেখে নেয়া দরকার। কারণ সকলের ত্বকের ধরন একই রকম হয় না। ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন।

ওয়্যাক্সিং
এই পদ্ধতিটি সাধারণত পার্লারে করাই ভালো, তবে অনেকে বাড়িতেও করেন। শরীরের যে অংশের লোম তুলতে হবে, সেখানে গরম বা ঠা-া ওয়্যাক্স লাগিয়ে তার উপর এক টুকরো কাপড় বা কাগজ চেপে চেপে বসিয়ে দেয়া হয়। তারপর ওয়্যাক্স শুকিয়ে এলে টান মেরে কাপড়ের টুকরাটি তুলে ফেলা হয় এবং তার সঙ্গেই সব লোমও উঠে হাত-পা পরিষ্কার হয়ে যায়।

ওয়্যাক্সিংয়ের সুবিধা
ওয়্যাক্সিংয়ে একটু ব্যথা লাগলেও সুবিধার দিক হলো এই পদ্ধতিতে লোমের বৃদ্ধি অপোকৃত কম হয় এবং খুব রু ও খোঁচাখোঁচা হয়ে পুনরায় লোম গজায় না। ওয়্যাক্সিংয়ের পর আপনি অন্তত ২-৩ সপ্তাহ নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আপনার হাত-পা মসৃণ ও পরিচ্ছন্ন থাকবে। ওয়্যাক্সিংয়ের পর হাত-পা চোখে পড়ার মতো কোমল ও মসৃণ থাকে এবং লোমের বৃদ্ধির গতিও ধীরে ধীরে কমে আসে।

ওয়্যাক্সিংয়ের অসুবিধা
ওয়্যাক্সিংয়ের েেত্র সমস্যা হলো এই পদ্ধতিতে লোম একেবারে গোড়া থেকে উঠে যায় এবং পরবর্তী সময়ে ওয়্যাক্সিংয়ের আগে অন্তত ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ অপো করতে হয়। কারণ লোম যথেষ্ট বড় না হলে ওয়্যাক্সিং করে তোলা যায় না। ফলে দুটি ওয়্যাক্সিংয়ের মধ্যবর্তী সময়ে শরীরে হালকা লোম আপনাকে মেনে নিতেই হবে।