প্রতিবেদন

অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সামাজিকভাবে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে -সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশল প্ল্যানের প্রধান উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা যেতে পারে।
গত ৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কে ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২০-৩০’ বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে শিশুরা যাতে বেশি আসক্ত না হয়ে পড়ে সেদিকে পরিবারের সদস্যদের ল্য রাখতে হবে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মানুষকে সচেতন করা যেতে পারে।
মূল প্রবন্ধে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দেশ-বিদেশের নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন এবং অটিজম আক্রান্ত ও মানসিক স্বাস্থ্য হ্রাস পাওয়া শিশুদের সামাজিকভাবে মূল্যায়ন করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া শিশুরা স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করার সময় যেসব পারিপার্শি^ক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সেগুলো থেকে উত্তরণের ব্যাপারেও তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বার্ধন ঝাং রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিশুরা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর জন্য অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অনেকটা দায়ী। শিশুরা মাত্রাতিরিক্ত ইউটিউব ও ফেসবুক ব্যবহারে আসক্ত হচ্ছে। শারীরিক পরিশ্রম না করে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য তির সম্মুখীন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল তাঁর কর্মজীবনের শুরু থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী ১০০ নারী নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।
২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিভিত্তিক গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামস কনসোর্টিয়ামের চেয়ার ড. ক্যাথলিন পাইক ‘ফাইভ অন ফ্রাইডে’ শিরোনামে ব্লগে এ তালিকা তুলে ধরেন। তালিকায় সায়মা ওয়াজেদ ছাড়াও মানসিক অসুস্থতার বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, আইনজীবী, অলাভজনক পদের নেতা, লেখক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, শিাবিদ ও চিকিৎসকরা অন্তর্ভুক্ত হন।
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের একজন সদস্য।
অটিজম শনাক্তকরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রমাগত শ্রম এবং আক্রান্তদের দুর্ভোগ হ্রাসে ও সচেতনতা তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখায় সম্প্রতি দণি-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমের মতো অবহেলিত একটি বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী অংশগ্রহণ করেন। তাঁর অকান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅ্যাবিলিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০১৩ পাস করা হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে ‘এক্সেলেন্স ইন পাবলিক হেলথ’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যাবলিতে অটিজমের বিষয়টি তিনিই সংযুক্ত করেন।
সায়মা নিজের এনজিও সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন। এনজিওটি মূলত নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি) এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অ্যাডভোকেসি, গবেষণা, দতা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত অলাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে অনুমোদিত স্কুল মনোবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ সেন্টার অব রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অন্যতম ট্রাস্টি।
ফোরিডার ব্যারি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা সায়মা হোসেন একজন নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ বিশেষজ্ঞ এবং দ বক্তা। তাঁর প্রচেষ্টার কারণে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরি, নীতি ও কর্মসূচির পরিবর্তন এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ৩টি আন্তর্জাতিক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।