প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের ১ বছর পূর্তি উপলে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : উন্নয়ন টেকসই করতে দুর্নীতি জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলে গত ৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় অর্জন করলে শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি একটানা তৃতীয় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অব্যাহত উন্নয়ন টেকসই করতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য দলমত নির্বিশেষে যেকোনো পদপে নিতে আমি দ্বিধা করবো না।’
দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ সচেতন হলে দুর্নীতি আপনাআপনি কমে যাবে। তাই আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করছি। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন েেত্র দুর্নীতি নির্মূল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যাতে তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে, সেদিকে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের ল্য, যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।
ইসলামের অপব্যাখ্যা রোধে সারাদেশে ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের প্রশিণ এবং সারাদেশে ৬৫০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সেন্টার নির্মাণে সরকারের পদেেপরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের রায়ই হচ্ছে মতার পালাবদলের একমাত্র উপায়। যেকোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-কে আমরা বরদাশত করবো না।’
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আপনারা অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাস এবং মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা দেখেছেন। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেয়া হবে না।’
বর্তমান জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যগণের অংশগ্রহণ সংসদকে প্রাণবন্ত করেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ১ বছর পূর্ণ হলো। বিগত ১ বছর আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। আমরা সবেেত্র শতভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করবো না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অতীতের ভুল-ভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সকলের সহযোগিতায় আমরা সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো, ইনশাআল্লাহ’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত বছরে গুটিকয় শিা প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের পদপে এবং সরকারের উদ্যোগ থাকার পরও ডেঙ্গুরোগে প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করে এ রোগ প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর দু’একটি শিা প্রতিষ্ঠানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমরা এসব কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের প্রশ্রয় দিইনি। জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎণিকভাবে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো মহল গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। আমরা জনগণের সহায়তায় দ্রুত সেসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।
গুজবের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার জন্যও এ সময় শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
২০২০ সাল এবং পরবর্তী বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জাতীয়ভাবে এ সময়ে ‘মুজিববর্ষ’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের ল্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা। জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীতি করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী পিপিপি’র ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৩০তম। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রপেণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে। এইচবিএসসি’র প্রপেণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২০-এ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এগিয়ে থাকবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎপেণ, পাবনার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা বিরোধ মীমাংসার ফলে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির ওপর আমাদের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির ল্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষক ও কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণের ফলে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন খাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা গ্রহণ করি, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।’
বাংলাদেশ আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নের েেত্র বিশ্বে একটি সুপরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর মতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, শিার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ তার দণি এশিয়ার প্রতিবেশীদেরই শুধু নয়, অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে সম হয়েছে।’
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য কী করতে চেয়েছিলাম আর কী করতে পেরেছি এ বিষয়ে আমরা সব সময়ই সচেতন। আপনারাও নিশ্চয়ই তা মূল্যায়ন করবেন। তবে আমরা মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা তা-ই বলি, যা আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ রয়েছে।’
দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘রূপকল্প-২০২১’র উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসাবমতে, ২০১০ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছিল ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ১০ দশমিক ৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের প্রমাণ মেলে তার বার্ষিক আর্থিক পরিকল্পনায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার সাড়ে ৮ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকায়। বাজেটের ৯০ ভাগই এখন বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে।
গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখায় সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বছরের শেষ দিকে আমদানিনির্ভর পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ব্যতীত অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক ছিল।
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ এবং ৩ ভাগের ২ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা, রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণের পদপে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ উদ্যোগ এবং চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণেও সরকারের পদপে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ চালু, বিমানবহরে নতুন নতুন বিমান সংযোজন এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে আকাশপথেও যোগাযোগ বিস্তৃত করার বিভিন্ন পদেেপর উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে গেছে। ৯৭ ভাগ মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় এসেছেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যশস্য, মাছ ও মাংস উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান চতুর্থ এবং মাছ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। কৃষি উপকরণের দাম কয়েক দফা হ্রাস করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি সারের দাম কেজি প্রতি ৯ টাকা কমিয়ে কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিা পর্যায় পর্যন্ত প্রতি বছর ২ কোটি ৩ লাখেরও বেশি শিার্থীকে বৃত্তি, উপ-বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ ৩৭৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। এতে প্রত্য ও পরোভাবে প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। দেশের ৩ হাজার ৫শ’র বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা ফোর-জির পর ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।
তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিই সরকারের প্রধান ল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি মেয়াদে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। দুই ডজনেরও বেশি হাইটেক পার্ক ও আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। দ জনশক্তি তৈরির জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সারাদেশে ভোকেশনাল ও কারিগরি শিাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আলোকে প্রতিটি বাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বহিঃশত্রুর যেকেনো আক্রমণ বা আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রতিরা বাহিনীকে সম করে গড়ে তুলতে যা যা করণীয় আমরা তা করে যাচ্ছি।’
দেশের পররাষ্ট্রনীতি সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর েেত্র কূটনৈতিক সমাধানের ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধান করতে চাই। এটি আমাদের দুর্বলতা নয়, কৌশল। এ কারণেই মিয়ানমারের দিক থেকে নানা উস্কানি সত্ত্বেও আমরা সে ফাঁদে পা দিইনি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ থেকে সরে যাইনি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই আদালত থেকে আমরা একটি স্থায়ী সমাধানের সূত্র খুঁজে পাবো।
জাতির পিতা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তাঁর কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র ল্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।’