প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী মঞ্চায়ন ও লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ জানুয়ারি দিনটিকে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর ণগণনার দিন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। ২৯০ দিন পাকিস্তানে কারাজীবন শেষ করে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কারামুক্তির পরপরই বঙ্গবন্ধু প্রথমে লন্ডন যান। এরপর ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে দিল্লি হয়ে দুপুর দেড়টার পর তিনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ওই স্থানেই ণগণনার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই ক্ষণগণনা ১৭ মার্চ ‘জিরো আওয়ারে’ গিয়ে শেষ হবে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তটিকে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুজিববর্ষের ণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জমকালো অনুষ্ঠানে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন এবং মুজিববর্ষের ণগণনার ঘড়ি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় সংসদের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ণগণনার ডিজিটাল ঘড়ি চালু হয়ে যায়। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি স্পটে, ৫৩ জেলা, টুঙ্গিপাড়া ও মুজিবনগর উপজেলা মিলিয়ে মোট ৮৩টি জায়গায় স্থাপিত ডিজিটাল ঘড়িও চালু হয় একই সঙ্গে।
এ সময় মঞ্চে তার পাশে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে লোগো তুলে দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম ও সদস্য-সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
প্রতীকী বিমান অবতরণ ছাড়াও এই আয়োজনে আরও ছিল আলোক প্রপেণে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব তুলে ধরা, ২১ বার তোপধ্বনি ও গার্ড অব অনার। ১৯৭২ সালে যেভাবে এদেশের সংগ্রামী জনতা বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিয়েছিল, প্রতীকীভাবে সেই ণটিও ফুটিয়ে তোলা হয়, ওড়ানো হয় ১০০০ লাল-সবুজ বেলুন এবং অবমুক্ত করা হয় ১০০টি সাদা পায়রা।
প্রধানমন্ত্রী নগরীর পুরাতন বিমানবন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, আমি ণগণনার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখেন এই স্থানেই।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে মযার্দার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের হাতে বিজয়ের মশাল তুলে দিয়েছেন, আমরা এখন এই বিজয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রতি জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের প থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর একে একে আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন যেমন মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দণি, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদী।
উল্লেখ্য, ১০ জানুয়ারি বাঙালির জীবনে চিরস্মরণীয় এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে তাঁর প্রিয় স্বদেশ, স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। আর এর মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়ের পূর্ণতা লাভ হয়। সেই থেকেই এ দিনটি জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।
তবে এবার উদযাপনে ভিন্নতা নিয়ে এসেছে মুজিববর্ষ। এ বছর ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী থেকে আগামী বছর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে বছরব্যাপী জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উদযাপন তার ণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকেই।

দুই.
করাচির কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন বিকেলে তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে বঙ্গবন্ধু নামার পর পূর্ণতা পেয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক সেই দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকারের জন্মশতবার্ষিকীর ণগণনা হিসেবে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক উৎসবমুখর পরিবেশে লাখো মানুষ বরণ করে নিয়েছিল তাদের প্রিয় নেতাকে। এরপর তাঁকে মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ৪৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ণগণনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী আবহ তৈরি করা হয়।
ণগণনার অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী বিমান অবতরণ, বিমান থেকে আলোক প্রপেণ ও তোপধ্বনি, প্রতীকী গার্ড অব অনারের মতো বিষয়গুলো ছিল।
২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় মুজিববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিববর্ষ উদযাপন করবে। দেশে ছাড়াও বিদেশে উদযাপিত হবে জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের আনন্দ আয়োজন।
জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে, সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মগ্রহণের শতবর্ষ পূর্ণ হবে। ওই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তি ও কর্মজীবন নিয়ে হলোগ্রাফিক উপস্থাপনা ও থিম সং পরিবেশিত হবে। ১৭ মার্চ মূল অনুষ্ঠানের পর থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজি। এছাড়া যেখানেই বাংলাদেশের মিশন আছে, সেখানে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন ব্র্যান্ডিং করা হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি সম্ভাবনার দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ।

তিন.
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর পাশাপাশি দেশে সারা বছর যেসব অনুষ্ঠান হবে, তাতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া বিভিন্ন ভাষায় বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ প্রকাশ ও প্রচার, বঙ্গবন্ধুর বিদেশ সফরের ওপর প্রামাণ্যচিত্র তৈরি এবং সমুদ্র বিজয়ের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৭৭টি দূতাবাসে ২৬১টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

চার.
২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরজুড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশিষ্ট ব্যাক্তি সম্মতি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ জায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ। এছাড়া রয়েছেন ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বুকোভা, আরব লিগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা, বিজেপির নেতা ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি। এছাড়া কেনেডি পরিবারের কোনো সদস্য এবং জোসেফ স্টিগলিজ বা জেফরি স্যাকসের মতো ব্যক্তিত্বের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে।

পাঁচ.
মুজিববর্ষে ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান, জুলি ও কুরি পদকপ্রাপ্তি দিবস উদযাপন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বড় আকারে একটি অনুষ্ঠান এবং ১৯৭১ সালে যেসব ভারতীয় যোদ্ধা বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এছাড়া দিল্লি, কলকাতা, মস্কো, ওয়াশিংটনসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন, লন্ডনের সংসদে একটি অনুষ্ঠান, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, ভুটান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বিশেষ ভূমিকার কারণে ওই স্থানগুলোতে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানগুলোতে সেই দেশগুলোর বিশিষ্ট নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

ছয়.
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য ইউনেস্কোকে প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে জুনে ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। পুরস্কার প্রবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে বছর দুয়েক সময় প্রয়োজন। বাংলাদেশ চাইছে, আগামী বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কোর পুরস্কারটি চালু হোক। বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে গবেষণার জন্য এরই মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড ও পোল্যান্ডে বঙ্গবন্ধু চেয়ার আছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ও কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপনের আলোচনা চলছে।

সাত.
মুজিববর্ষ জুড়ে ২৯৪ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার মুখবন্ধে বলা হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ল্েয সরকার গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ এবং ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় কমিটির সভাপতি। স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, শিাবিদ, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকসহ সমাজের বিশিষ্টজন মিলিয়ে ১১৯ জন এ কমিটিতে আছেন। জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি। কমিটির মোট সদস্য ৭৯ জন। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জাতীয় কমিটির সদস্য-সচিব এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজনে বাস্তবায়ন কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে কাজ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থা জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সঙ্গে জন্মশতবার্ষিকীর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে।
জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ মার্চ সূর্যোদয়ের সময়। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানা আয়োজন। এরপর বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল আয়োজন, যাতে প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারাদেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ র‌্যালি। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ।
১৮ মার্চ জাতীয় সংসদে ডাকা হবে বিশেষ অধিবেশন, যাতে উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আমন্ত্রিত অতিথিরা। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে থাকবে নানা আয়োজন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকার দিবস উদযাপন করা হবে। ৭ জুন ৬ দফা দিবসের উদযাপন করা হবে সারাদেশে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে পুরনো ঢাকার রোজ গার্ডেনে হবে সেমিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে সমাবেশ ও আনন্দ র‌্যালি। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে আগস্ট মাসজুড়েই আওয়ামী লীগ ও উদযাপন কমিটি নানা আয়োজন করবে।
১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। তাই এ বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিন বাংলাদেশেও আলোচনা ও সেমিনার করা হবে। একইসঙ্গে দেশের সব স্থানের পাশাপাশি টিভি, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভাষণ প্রচার করা হবে। জেলহত্যা দিবস ও বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবসে থাকবে আলোচনা সভা, সেমিনারসহ নানা আয়োজন। অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবার বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়া হয়। ২০২১ সালের ওই দিনটিকে স্মরণীয়ভাবে উদযাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ২০২১ সালের ৭ মার্চ থেকে ৭ দিনের কর্মসূচি ও জয় বাংলা কনসার্টের আয়োজন করা হবে।
মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিদেশে আরও ৫টি বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব লর্ডসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন এবং ওই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এরকম গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। লন্ডনে মাদাম তুসো জাদুঘর এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবন ও আদর্শভিত্তিক চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে মুজিব ফেলোশিপ অ্যান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিদেশ সফর নিয়ে একটি শর্টফিল্ম এবং ছবিগুলো নিয়ে একটি স্টিলফিল্ম বা ভিডিও তৈরি করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারের অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্রের ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীরও আয়োজন রয়েছে। ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম ও শিলংয়ে নাগরিক মিলনমেলার আয়োজন থাকবে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পৃথিবীর সব দেশে ১০০টি করে গাছের চারা রোপণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্টজনদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার করা হবে। চলতি বছরের মে মাসে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউটে ‘শেখ মুজিব ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনার করা হবে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সেমিনার, আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকা-ের নির্মমতা ও সাীদের জবানবন্দি নিয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভা করা হবে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২১ বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে। জন্মশতবার্ষিকী উপলে নভেম্বর মাসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা করা হবে। সারাদেশে থাকবে যাত্রা ও লোকনাট্য, জেলা পর্যায়ে ৬৩টি নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন। দেশ ও বিদেশে চারুকলার প্রদর্শন, যা ১০টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ আকারের ১০টি (৮ফুট/২৪ ফুট) বাস্তবধর্মী চিত্রকর্ম আঁকা হবে। ১০টি নতুন মঞ্চনাটক, পথনাটক নির্মাণ করা হবে। ৬৪ জেলায় ১টি নাটক ও ১টি পথনাটক প্রদর্শন করা হবে। ৮টি বিভাগে ৮টি নাটক উৎসব হবে। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলমান ৫০টি নাটককে সহায়তা প্রদান করা হবে। ৫টি শিশুনাটক নির্মাণ ও ২০টি প্রদর্শনী হবে। দেশব্যাপী শতকণ্ঠে আমার পরিচয় কবিতা, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় কবিতা ও তাকে নিয়ে রচিত কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান হবে। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ থেকে ১ ঘণ্টার পা-ুলিপি নিয়ে ২টি অনুষ্ঠান করা হবে।
প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে ইংরেজিতে ছবি, স্কেচ ও আলোকচিত্র নিয়ে ‘কফি টেবিল বই শেখ মুজিব লাইফ অ্যান্ড টাইমস’ প্রকাশ। ব্রিফ বায়োগ্রাফি অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চীন সফর নিয়ে অনুবাদগ্রন্থ, বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফার্সি, স্প্যানিশ, রুশ, ইটালিয়ান, কোরিয়ান, জাপানি অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক অ্যালবাম, জীবন ও কর্মভিত্তিক ১০০টি প্রকাশনা থাকবে।
বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, মেলার আয়োজন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার বা সেন্ট্রাল পার্ক ও লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে কনসার্ট আয়োজন করা হবে। ইউনেস্কোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।
শিা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ আন্তর্জাতিক স্কাউট জাম্বুরি আয়োজন করা হবে গাজীপুরের মৌচাকে। এই বছরের ১৭ মার্চ থেকে আগামী বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জেলা ও থানা, দেশ-বিদেশের বড় বড় শহরে ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপন করে নতুন নতুন কনটেন্ট সরবরাহ ও প্রচার করা হবে। সারাদেশে ১ হাজার ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ওপর কনটেন্ট প্রচার করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা ২৫টি দেশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তা সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে। ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে নির্মিত কনটেন্ট আপলোড করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে জাতীয় সংবাদে গুরুত্বের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত ভাষণের অংশবিশেষ এবং জন্মশতবার্ষিকীর খবর প্রচার করা হবে। বঙ্গবন্ধুর নামে একটি আর্কাইভ স্থাপন করে সেখানে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সব লেখা ও অডিও-ভিডিও প্রকাশনা রাখা হবে। দেশের সব লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হবে। ট্রেন ও জাহাজে জন্মশতবার্ষিকীর লোগো/ট্যাগ লাইন দিয়ে সাজানো হবে। চালু করা হবে বিশেষ ট্রেন (ফ্রি) সার্ভিস। হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হবে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আয়োজন থাকবে। সারাদেশে জেলা/উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী মুজিব মেলার আয়োজন করা হবে। বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন ঘটনা ও স্থান নিয়ে ৬৪ জেলায় চিত্রায়ণপূর্বক ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে ৬৪টি অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করা হবে।
ব্যক্তিজীবনে বঙ্গবন্ধু ক্রীড়ামোদি ছিলেন। ফুটবল খেলতেন। তাই মুজিববর্ষে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলা আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল-২০২০, ২টি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ। জাতির পিতার নামে আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক সাফ অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ, আন্তর্জাতিক ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।