প্রতিবেদন

তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ উপলে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এখন অন্য দেশ অনুসরণ করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ উপলে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা প্রদান করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ-২০১৯’ সম্মাননা প্রদান করেন। তিনি অনুষ্ঠানে ‘আমার সরকার’ শীর্ষক একটি অ্যাপও উদ্বোধন করেন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমতউল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
সরকারের আইসিটি সেক্টরের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি ভিডিও চিত্রসহ গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদযাপনের তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। মন্ত্রিবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, উদ্যোক্তা, আইএসপি ও টেলিকমিউনিকেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আইসিটিভিত্তিক সেবা সম্পর্কে জনগণকে শিতি করা এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ গড়ার ল্েয বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত হয়, যার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সত্য মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে ইন্টারনেটে তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ফিল্টারিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়া ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনোকিছু শেয়ার বা পোস্ট না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি আমাদের সুযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানা সমস্যারও সৃষ্টি করছে। দেখা যায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা অ্যাপস ব্যবহার করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের অনেক অপ্রয়োজনীয় লিংক চলে আসে। তাই তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট যথাযথভাবে ফিল্টার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, যাচাই না করে শুধু গুজবে কান দেয়া বা শুধু কৌতুহলবশত সেগুলোতে প্রবেশ না করাই ভালো। কোনো ধরনের মন্তব্য দেয়া বা ছড়ানো বা সেটাতে হাত দেয়াই উচিত নয়। কোনো পোস্ট শেয়ার করতে গেলে আগে তার খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে এটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা। এই অভ্যাস গড়ে তুললে সেটা আমাদের সমাজের জন্য, দেশের জন্য এবং প্রত্যেকের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু থেকে শুরু করে তরুণসমাজকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা একান্তভাবে দরকার। মানুষ যেন এ ব্যাপারে আরো সজাগ হয় সেজন্য অভিভাবক, শিক থেকে শুরু করে সকলকেই সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু তারা কি দেখছে, কোথায় যাচ্ছে, তার ওপর নজরদারি অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ আসলে এটা একটা আসক্তির মতো হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ইন্টাররেটে বা মোবাইল, আইপড ও কম্পিউটারে যুক্ত থাকলে মনের ওপর একটা চাপ আসে। এতে শরীরের ওপর চাপ আসে। চোখের তি হয়, ব্রেনের তি হয়। কাজেই এই বিষয়গুলোর ওপরে সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২০ ভাগে আনতে সম হয়েছি এবং এটাকে আরো কমাতে চাই। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেছি, মূল্যস্ফীতি ৫ ভাগে ধরে রাখতে সম হয়েছি। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সম হয়েছি। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান’ ঘোষণা করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করেছিল। আমরা জনগণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছি। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এখন অন্য দেশ অনুসরণ করছে। আইসিটি সম্প্রসারণ ওআধুনিকায়নে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। সরকার বিগত ১১ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশের ৪ স্তম্ভ Ñ কানেক্টিভিটি, দ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি প্রোমোশনকে ঘিরে নেয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় জনগণ এখন ঘরে বসে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারছে। সরকার গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে সারাদেশে ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। শুধু ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ১০ বছরে মানুষকে ৪৬ কোটি সেবা দেয়া হয়েছে। দেশে এখন মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৬ কোটি ৪১ ল ৭০ হাজার। পাশাপাশি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎপেণ করায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচারভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ সহজ হয়েছে। ৩ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে, এ বছর আরও ২০০ ইউনিয়নে কানেক্টিভিটি দেয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দুর্গম এলাকার বাকি ৭৭২টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে যাবে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।