প্রতিবেদন

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উদযাপন উপলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করতে সময়োপযোগী পদপে নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জানুয়ারি রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উদযাপিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উপলে সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে ১১৮ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও পুলিশ পদক সেবা এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক সেবায় ভূষিতদের মাঝে পদক বিতরণ করেন।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা’ প্রদান করা হয়।
বিপিএম মরহুম মো. আকতার হোসেনের (মরণোত্তর) পে তার সহধর্মিণী এবং দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত এএসআই নান্নু মিয়া হুইল চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মইনুর রহমান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সিনিয়র পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পদপে গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় হিসেবে নিই না। আমরা মনে করি জনগণের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে এটা আমাদের এক ধরনের বিনিয়োগ। কাজেই সেদিকে ল্য রেখেই আমরা পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত এবং আধুনিক প্রশিণের ব্যবস্থা করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদপে আমরা নিয়ে যাচ্ছি। যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি পুলিশের মাঝেও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। তারা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সম হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হবে।’
‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে ৫ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২০ উদযাপিত হয় ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, বাংলাদেশ থেকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি দূর করবো এবং এসবের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পুনর্বাসনেও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি আর্মড পুলিশের দু’টি এবং র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনপূর্বক কক্সবাজারে মোতায়েন করা হয়েছে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে পুনরায় স্কুল পর্যায় থেকে ট্রাফিক আইন শিা করার বিষয়েও জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে তেমনি সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনতে হবে। এেেত্র পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ভূমিকা রাখছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জরুরি সেবা-‘৯৯৯’ ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জনগণ ‘৯৯৯’ ব্যবহার করে এখন সহজেই ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের সেবা পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দেশে গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার ল্েয সরকারের বিভিন্ন পদেেপর উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদপে গ্রহণ করেছি। পুলিশ বাহিনীতে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিশেষায়িত ইউনিট- পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশ অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন, পুলিশ স্টাফ কলেজ ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিসহ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আধুনিক প্রশিণ প্রদানের উদ্যোগসহ বাংলাদেশ পুলিশে সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব এবং হাসপাতাল স্থাপনের উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ব্যারাক, আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ, বিদেশে পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিণ প্রদান এবং যানবাহন সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন পুলিশ বাহিনী চলতে পারে সে ব্যবস্থাও সরকার নিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে নারী পুলিশের জন্য একটি স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এছাড়া পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা, এর আওতায় কমিউনিটি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু এবং পুলিশ সদস্যদের জন্য একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সেটারও ব্যবস্থা করে দেব।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দুর্বার প্রতিরোধ এবং মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যগণ।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ।’ বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে জনগণের সমস্যাকে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখারও আহ্বান জানান।

পুলিশকে জনতারই হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ জানুয়ারি তাঁর কার্যালয়ে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উপলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার আপনারা মুজিববর্ষে পুলিশ সপ্তাহের যে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছেন ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু হওয়ায় মানুষের মাঝে একটা আত্মবিশ্বাস এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোথাও কেউ কোনো অন্যায় দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করছে এবং পুলিশ সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে, ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের েেত্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা আমাদের ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশের স্থায়ী স্বীকৃতি অর্জন করতে পারি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, খুলনার পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকালকে মুজিববর্ষ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে ুধামুক্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু এখনও বাংলাদেশে যারা দরিদ্র বা গৃহহীন, কর্মমতাহীন তাদের প্রত্যেকের জীবনমান যাতে উন্নত হয়, তারা কেউ যেন ুধার কষ্টে না ভোগে, রোগে-শোকে কষ্ট না পায়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল্যবোধ যেটা আমরা ’৭৫ এর পর হারিয়ে ফেলেছিলাম তা আজকে আবার ফিরে পেয়েছি। মানুষের মনে আজ স্বাধীনতার মূল্যবোধ জাগ্রত। আবার সেই নতুন চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশে কিন্তু মেধাবীরাই আসে, ব্যারিস্টারও আসে ডাক্তারও আসে, আবার ইঞ্জিনিয়ারও আসে। কিন্তু আমি মনে করি পুলিশের জন্য একটি পৃথক মেডিকেল কোর করা প্রয়োজন।’
পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার েেত্র বিড়ম্বনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসকরা আসতে চান না। কাজেই পুলিশের মধ্যে যে ডাক্তার রয়েছে তাকে খুঁজেই সেখানে অনেক সময় দায়িত্ব দিতে হয়। কাজেই আপনারা যদি ডাক্তারদের জন্য আলাদা একটা ইউনিট করে ফেলেন তাহলে আপনাদের চিকিৎসারই সুবিধা হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পুলিশের জনবল বৃদ্ধির প্রোপটে পৃথক ইউনিট করে নিতে পারলে ভালো হবে। এই পৃথক ইউনিটের দাবি কিন্তু আপনারা করেননি, কিন্তু আমি আপনাদের প থেকেই দাবিটা করলাম।
শিল্পাঞ্চল পুলিশসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট খোলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১০০ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি। কাজেই আমাদের শিল্প পুলিশকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে, সেটা আমরা করবো।’
একটি দেশের উন্নয়নে জননিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি ঠিকমতো তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তখনই সেটা সম্ভব। আর আপনারা এটা করতে পেরেছেন বলেই আজকে আমরা উন্নতি করতে পেরেছি।
এজন্য প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনী সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশের জন্য আমরা যেটুকু করেছি তা আমাদের চিন্তা থেকেই করেছি। এজন্য কোনো দাবি বা তেমন কিছু করতে হয়নি।
পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবির প্রেেিত জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২১ জনে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য রিক্রুটমেন্টের সময় শুধু নয়, পদোন্নতির সময়ও ট্রেনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি পাল্টাচ্ছে। কাজেই এর সঙ্গে তাল রেখে ট্রেনিং দরকার। আমরা যে কারণে ট্রেনিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী এসময় ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিলে তাদেরকে ‘ডাম্পিং প্লেসে ফেলে দেয়া হয়েছে’ ভাবনার সমালোচনা করে বলেন, আসলে যারা মেধাবী তাদেরকেই সেখানে পদায়ন করা দরকার। কারণ, বেসিক নলেজ যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে উপযুক্ত লোক আমি কিভাবে গড়ে তুলবো?
বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন এবং সরকার সেই উদোগ নেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইতোমধ্যেই পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো গ্রেপ্তারের এখতিয়ার নেই। গ্রেপ্তারের জন্য তাদের কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যদেরই বলতে হবে। তারা নির্দেশ দিতে পারে। তারা ধরে রেখে ওইখানে হাজতখানা বানাবে, হাজতে রাখবে, এটা কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ না। যার যার কাজ তার তার করতে হবে। এ কথা মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আরো জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আসলে পুলিশকে জনতারই হতে হবে। জনগণ যেন আস্থা পায়, বিশ্বাস পায় এবং পুলিশের কাছে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। পুলিশের প্রতি আগে মানুষের যে একটা অনীহা ছিল সেটা কিন্তু আর নেই, বরং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কাজেই আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন।