অর্থনীতি

প্রবৃদ্ধিতে চীন ভারত পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৯-২০ অর্থবছরের বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে চীন, ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ আভাস দেয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এর আগের দিন ৭ জানুয়ারি মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানায়, এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির শীর্ষে থাকবে বাংলাদেশ।
সাময়িকীটি আরো জানায়, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি মন্দায় বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, ঠিক তখনই উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতিতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। যদিও চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর কথা বলছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), তারপরও ২০২০ সালে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এশিয়া থেকে আসবে বলেও জানিয়েছে ফোর্বস।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে তা আরও কিছুটা বেড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ল্য ধরা আছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের মতো ২০২২ সালেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ব্যবসাবাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ার সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, এর জেরে তাদের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ হবে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, ভারতে ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তেমন বিনিয়োগ আসছে না। এ অবস্থা আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে ৫ শতাংশ হবে। তবে পরবর্তী অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। আর পাকিস্তানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। অবশ্য তা বেড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে পরবর্তী অর্থবছরে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, দণি এশিয়ার দেশগুলোতে ২০২০ সালে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। ভারত ও শ্রীলংকায় দেশজ বিনিয়োগ ও দেশজ চাহিদা বাড়ায় উৎপাদনও বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ইরানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্রম নেতিবাচক গতি এবার থামতে পারে। সেই সঙ্গে ২০২১ সাল নাগাদ দেশটি প্রবৃদ্ধি আবার অগ্রগতির পথে উঠে আসবে। এছাড়া পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০২০ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে ফোর্বস বলছে, ২০২০ সালে এশিয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এেেত্র ব্যতিক্রম হবে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও তাজিকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। প্রবৃদ্ধির হারে চলতি বছর এশিয়ায় সবার উপরে থাকতে পারে বাংলাদেশ।
মার্কিন এই সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প মজুরির টেক্সটাইল খাত, তৈরি পোশাক খাত ও জুতা শিল্পে বাড়তে থাকা বিদেশি বিনিয়োগের কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের হার ৮ শতাংশ হবে। ২০১১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রত্যেক বছর কমপে ৬ শতাংশ ছিল।
এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মারকিটের প্রধান অর্থনীতিবিদ রাজীব বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মাসিক গড় মজুরি সাড়ে ৮ হাজার টাকা (১০১ মার্কিন ডলার)। এ স্বল্প মজুরির কারণে দেশটিতে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।
তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং উন্নত জীবনমানের কারণে দণি এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে।
ফোর্বস বলছে, ব্যবসা সহজ হওয়ায় বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ সাড়ে ১৯ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭ বিলিয়নে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের পরে এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভারতের। দেশটির সরকার এ অঞ্চলে ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রীসহ উৎপাদন খাতের পাওয়ার হাউস হতে চায়। যে কারণে চলতি বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া এশিয়ার অন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি থাকবে বলে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর নেপালের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি, মালদ্বীপের ৬ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি, লাওস এবং ফিলিপাইনের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ ও মঙ্গোলিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হবে।