প্রতিবেদন

বিইউপির সফল পথচলা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
বাংলাদেশে গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০০৮ সালের ৫ জুন ৩৬তম অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৩০নং আইন) পাস হয়।
যাত্রার শুরুতে অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ইন-হাউজ ফ্যাকাল্টিতে এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতেই গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততার সাথে বিইউপির শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে ৫৬টি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইন-হাউজ ৫টি ফ্যাকাল্টিভুক্ত ১৬টি ডিপার্টমেন্টের অধীনে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৩টি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শিক্ষাকার্যক্রম চলমান। প্রতিষ্ঠার ৩ বছরের মধ্যে সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ এর তত্ত্বাবধানে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামও চলমান। ইতোমধ্যে বিইউপির শিক্ষা, জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ‘বিইউপি রূপকল্প ২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ৩টি পর্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ হতে ২০২০, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ হতে ২০২৫ এবং তৃতীয় পর্যায়ে ২০২৬ হতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
শিক্ষা কার্যক্রম
২০০৮ সালে এমবিএ প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে বিইউপির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে দু’জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৬ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পূর্বপ্রণয়নকৃত সেমিস্টার আউটলাইন অনুযায়ী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পাঠদান পরিচালিত হয়। এখানে শিক্ষাদান কৌশলের মানোন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষককে ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কাস পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশে বিদ্যমান যেকোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যয়ভার বিইউপি বহন করে। একই সাথে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের জন্যও বিইউপি আর্থিক সুবিধা প্রদান করে। পাশাপাশি বিইউপির কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিইউপি এবং দেশের অন্যত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। গুণগত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে যথাক্রমে ৩৪৩ ও ৩৩০ জন গবেষক গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ১ জন জার্মানি এবং ১ জন তুরস্কের নাগরিক। গবেষকদের অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রত্যেক গবেষক যাতে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করেন সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সদাতৎপর।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ১৫ জন গবেষক যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করে পিএইচডি এবং ১৭ জন গবেষক এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বিইউপি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে এ পর্যন্ত ১ জন গবেষক পিএইচডি ডিগ্রি এবং ৮১ জন গবেষক এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিইউপি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এনডিসি, এমআইএসটি ও এএফএমআইতে এমফিল প্রোগ্রাম এবং একই সাথে এমআইএসটিতে পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়। গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করাসহ অনুসন্ধিৎসু গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক রিসার্চ গ্র্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রকৌশল, চিকিৎসা, সমরবিদ্যা, যুদ্ধকৌশল ইত্যাদি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৮১টি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। বিইউপির এ সকল প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২১১ জন বিদেশিসহ ১০ হাজার ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শন, মতাদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ নামে গবেষণা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমানের গবেষক তৈরিতে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা।
রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিইউপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। উক্ত কাঠামো অনুযায়ী নিকট ভবিষ্যতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১২ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যে পূর্বের ৩৩০ জনের জনবল কাঠামোকে ২ হাজার ১২ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ রূপকল্প অনুযায়ী আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচ্য রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে চলমান। বিশ্বমানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে পৃথিবীর খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের র‌্যাংকিং তালিকার অগ্রভাবে নিয়ে যাওয়া এ রূপকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর মর্ডান ল্যাঙ্গুয়েজেসের অধীনে বর্তমানে আরবি, বার্মিজ, চাইনিজ, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, জাপানিজ, রাশিয়ান ও তার্কিস (তুর্কী) ভাষা কোর্স চালু রয়েছে, যেখানে বর্তমানে সন্ধ্যাকালীন ২১৭ জন এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ২৮৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ পর্যন্ত সন্ধ্যাকালীনে ২ হাজার ৮৫ জন এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৩ হাজার ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী ভাষা কোর্সে অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন
সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রদানকৃত ১০ একর জমিতে ২টি ৬ তলাবিশিষ্ট ভবনের মাধ্যমে বিইউপির যাত্রা শুরু হয়। সম্প্রতি একটি ৬ তলা ভবন ১৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ২ বছরেই অস্থায়ী ছাত্র হল চালু করা হয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪টি ছাত্র হল ও ৪টি ছাত্রী হল পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পূর্ব ক্যাম্পাসে ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস ভবন (১৪তলা) এবং ৮ হাজার ৯০২ আসনবিশিষ্ট ১টি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত ৪ একর জমিতে সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ভবন (১৪তলা), সোশ্যাল-সাইন্স ভবন (১৪তলা) এবং ১টি লাইব্রেরি ভবন (৬তলা) নির্মাণের কাজ অচিরেই শুরু হবে। পূর্ব ও পশ্চিম ক্যাম্পাস সংযোগকারী সেতুর কাজও অচিরেই শুরু হবে। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিম ক্যাম্পাসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ১টি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৪৫ দশমিক ৯০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০০৯ হতে জুন ২০১৩ মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ১০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে ৩০২ দশমিক ১২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৫ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৪ একর জমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক ভবনের ৭ম তলা হতে ১৪তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ল্যাব স্থাপন, ডরমেটরি, ভিসি’র বাংলো কাম অফিস, ডে-কেয়ার, সিকিউরিটি পোস্ট, ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য অকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বহুতল ভবন বিশিষ্ট ছাত্রছাত্রী হল, শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ অচিরেই শুরু হবে বলে আশা করা যায়।
গত ৩ মে ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়নের জন্য প্রথমে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি এবং সে অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করে উন্নয়ন কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিইউপি প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান ৩৮তম সিন্ডিকেট ও ৮ম সিনেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এ মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এবং রূপকল্প ২০৩০ এর প্রথম পর্যায়ে মূল ক্যাম্পাস এবং ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক সুবিধার জন্য ২৮ (ইতোমধ্যে ৪ একর জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ করা হয়েছে) একর জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান।

শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম
লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বহুবিধ মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। এ সকল কার্যক্রমেও এ প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত কর্মমুখর। বিইউপি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব, কৈশোর ও রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করে থাকে। একই সাথে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে জাতীয় শোক দিবস পালন করে থাকে। অন্যান্য অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে, বিইউপি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, নবীনবরণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ, যুগোপযোগী বিষয় নিয়ে সেমিনার ইত্যাদি পরিচালনা ও উদযাপন করা হয়।
স্মরণ করা যেতে পারে যে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী দেশ-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা-সহায়ক এবং গবেষণা কার্যক্রমে সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়ে আসছে। ঙভভরপব ড়ভ ঃযব ঊাধষঁধঃরড়হ, ঋধপঁষঃু ধহফ ঈঁৎৎরপঁষঁস উবাবষড়ঢ়সবহঃ (ঙঊঋঈউ) এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদ ও বিভাগে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের পাশাপাশি অনুষদসমূহের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বিইউপি ও অস্ট্রেলিয়ার গধপয়ঁধৎরব টহরাবৎংরঃু, টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঈধহনবৎৎধ, ডবংঃবৎহ ঝুফহবু টহরাবৎংরঃু (ডঝট)সহ চীনের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস-এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্মারকের আওতায় বিইউপি এবং উল্লেখিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষা-গবেষণা সংক্রান্ত যৌথ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকগণের মনন ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগসহ তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটালাইজেশন সুবিধায় নিরবচ্ছিন্ন হাইস্পিড ইন্টারনেট, অভ্যন্তরীণ আইপি টেলিফোনিক সিস্টেম, সেন্ট্রাল ডিজিটাল ডিসপ্লে সিস্টেম, ওয়েবসাইট, বিইউপি মোবাইল অ্যাপস, ডেটা সেন্টারের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কাস্টমাইজড সফটওয়্যার প্রবর্তন অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার অধীনে নিয়ে আসতে আইসিটি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ঊহঃবৎঢ়ৎরংব জবংড়ঁৎপব চষধহহরহম (ঊজচ) প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টহরাবৎংরঃু অপধফবসরপ ঈড়সঢ়ৎবযবহংরাব গধহধমবসবহঃ (টঈঅগ) তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, কাসরুম কার্যক্রম, শিক্ষকদের মূল্যায়নসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম অটোমেশন করা হয়েছে। বিইউপি তার নিজস্ব ডেটাসেন্টারের মাধ্যমে সকল অটোমেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি বিইউপিতে গ৩৬৩ সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাইক্রোসফট অফিসের লাইসেন্স ভার্শন ব্যবহৃত হচ্ছে। বিইউপির সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে ভিডিও সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের শৃঙ্খলাসহ সমগ্র ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভ
বিইউপি লাইব্রেরিটি পাঠোপকরণে সমৃদ্ধ। বিইউপি লাইব্রেরিতে বর্তমানে ১৬ হাজার ৮১০টি বই, ১ হাজার ৯৪১টি ম্যাগাজিন এবং ৯৮২টি জার্নাল রয়েছে। বিইউপি লাইব্রেরি ইউজিসির টউখ (টহরাবৎংরঃু উরমরঃধষ খরনৎধৎু)-এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে লাইব্রেরিটি ঊসবৎধষফ, ওঊঊঊ, ঔঝঞঙজ, গপএৎধি ঐরষষ, ঝঢ়ৎরহমবৎ-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ১২টি ই-রিসোর্স লিংকের সাথে সংযুক্ত আছে। এছাড়া ঙহষরহব অপপবংং ঃড় গধহঁঢ়ধঃৎধ.পড়স/ইফষবী.পড়স-এর সাবসস্পশনও রয়েছে। উল্লেখিত লিংকগুলো থেকে লাইব্রেরির পাঠকগণ তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পড়তে ও ডাউনলোডের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারেন। ব্যবহারকারীগণ বিইউপি লাইব্রেরির জবসড়ঃবঢং মেম্বারশিপের মাধ্যমে অফ ক্যাম্পাস সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমানে জঋওউ ইধংবফ খরনৎধৎু গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস সুবিধা চালু হওয়ায় একজন ব্যবহারকারী যে সকল সুবিধা পাবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: গ্রন্থাগারে বই সংগ্রহ সংক্রান্ত তথ্যাদি জানা, সহজভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে গ্রন্থাগারে বই ইস্যু-রিসিভ সম্পন্ন করা, নিজ প্রোফাইলে ইস্যুকৃত বইয়ের তালিকা দেখা, বই ইস্যু-রিসিভ সংক্রান্ত তথ্যাদি ব্যবহারকারী সদস্যের ই-মেইলে প্রদান, জরিমানা সংক্রান্ত তথ্যাদি জানা, অহঃর-ঃযবভঃ ফবঃবপঃরড়হ সুবিধা ইত্যাদি। রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিইউপি লাইব্রেরিটি ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যবহার অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

প্রকাশনা
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পত্রিকা ‘ইটচ ঔড়ঁৎহধষ’ ঔঝঝঘ ভুক্ত। নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমাজবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, ব্যবসায় ও প্রযুক্তি সম্পর্কে গবেষণাধর্মী মৌলিক প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়। দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্পাদনা পর্ষদ জার্নালটির গুণগত মান নিশ্চিত করেন। বর্তমানে এটি ষান্মাসিক প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকাশযোগ্য গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রকাশনার বার্ষিক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

স্কলারশিপ ও স্টাইপেন্ড
মেধাচর্চা ও মেধাবিকাশের উদ্যোগ হিসেবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও বিইউপি স্টাইপেন্ড চালু রয়েছে। গত বছর চ্যান্সেলর স্কলারশিপ, ভাইস চ্যান্সেলরস স্টাইপেন্ড এবং বিইউপি স্কলারশিপ ও স্টাইপেন্ড-এর আওতায় ৬২৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছরই সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান প্রবর্তিত স্কলারশিপ ও স্টাইপেন্ড দেয়া হয়।

শেষ কথা
দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদানে বিইউপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সরকারের উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও শিক্ষিত সমাজ গঠনেও বিইউপি সদাতৎপর। ‘রূপকল্প ২০৩০’ বাস্তবায়নে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয় খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক পরিম-লে একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হবে Ñ এটাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।