রাজনীতি

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নতজানু অবস্থানে ক্ষুব্ধ দলের তৃণমূল নেতাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এখন ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থাবস্থায় জেলে, অথচ বিএনপির শীর্ষ নেতারা ডিসিসি নির্বাচনের মাঠে। যদিও তারা এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকেন্দ্রিক বলছেন।
তবে নিন্দুকেরা বলছেন, ২ মেয়র প্রার্থী ও কয়েক শ’ কাউন্সিলর প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ‘নগদ নারায়ণ’ পেতেই নেতারা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন খালেদা জিয়ার মুক্তিকে। আসলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার মুক্তি চান না মোটেও। কয়েকদিন পরপর তারা উপলক্ষ তৈরি করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বাজনা বাজান আর তলে তলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে লিঁয়াজো করে নিজেদের আখের গোছান।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার। তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নতজানু সিদ্ধান্তের কারণেই সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিএনপির এমপিরা সংসদে যোগদান করে নির্বাচন ও সংসদকে বৈধতা দিয়েছে। এখন তারা আবার খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন না করে উল্টো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার প্রক্রিয়ায় সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন না পাওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকাই প্রমাণ করে দেয় তারা সরকারের কাছে নতজানু হয়ে পড়েছেন। এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রশ্নে শীর্ষ নেতাদের ভূমিকাও একই প্রমাণ দেয়। অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী বলেন, মূলত গ্রেপ্তার এড়াতে এবং সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসাবাণিজ্য করতেই বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে নাÑ এমন ধরনের প্রত্যয় শীর্ষ নেতারা ভুলেই গেছেন। মূলত তারা এখন মুক্ত খালেদা জিয়াকে দেখতে চান না, তারা চান খালেদা জিয়া কারাগারেই থাকুন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার পর দলটির নেতারা খালেদাকে ছাড়া ভোটে না যাওয়ার ঘোষণাও দেন। শেষতক তারা খালেদাকে ছাড়াই ভোট করেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও তারা খালেদার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বারবার। এসব হুঁশিয়ারিকে পাশ কাটিয়ে বিএনপির ৭ এমপি শপথও নেন। এরপর পেরিয়ে যায় পুরো ১ বছর। এখন এসেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনেও বিএনপি বিনা শর্তে অংশ নিচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য চূড়ান্ত আন্দোলনের নাম নেই বিএনপির।
এমতাবস্থায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, রাজপথের আন্দোলন কবে হবে? কবে মুক্তি পাবেন দলের চেয়ারপারসন?
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপি নেতারা সরকারি দলের লোকজনের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে যে ব্যবসাবাণিজ্য করছেন, তার অবসান না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কোনো আন্দোলনেই যেতে পারবে না। দলীয় নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সরকারি দলের সঙ্গে লিঁয়াজো করে যে রাজনীতি করছেন, তা হলো সমঝোতার রাজনীতি। এই রাজনীতিতে বিএনপি নেতারা মনেপ্রাণে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া জেলে থেকে বের না হোন এবং তারেক রহমান নির্বাসনেই থাকুন।
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও তার মুক্তির বিষয়ে ন্যূনতম আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। জামিনের বিষয়েও কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। দলটির শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একেক জন একেক পথে হাঁটছেন। তারা নতুন করে আবার যেন জেলে যেতে না হয়, সে চেষ্টায়ই আছেন সর্বক্ষণ। সরকারি দলের নেতাদের পোঁ ধরে তারা রিলাক্সড মুডেই দিন পার করছেন। নতুন বিএনপি গঠনের চিন্তায়ও আছেন কোনো কোনো নেতা। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে উঠছে, যা নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়লেও শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তিকে পুঁজি করে ডিসিসি নির্বাচনে নেমেছেন।