প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের আরো ১ বছর

বিশেষ প্রতিবেদক
২০১৮ সালে জাতিসংঘ-নির্ধারিত মানদ- অনুযায়ী বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সকল যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি লাভ করেছে। উন্নয়নের সুফলভোগী জনগণ তাই তৃতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করে। ৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হলো। তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে পূর্বের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজ পুরোদমে এগিয়ে নেয় শেখ হাসিনার সরকার।
উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকা-ের স্বীকৃতি হিসেবে ইতঃপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির বৃ পদক, সাউথ সাউথ পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমুনাইজেশন কর্তৃক প্রদত্ত ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার তার সাফল্যের মুকুটে আরো একটি উজ্জ্বল পালক হিসেবে যুক্ত হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। এ নিয়ে তার অর্জিত আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯টিতে।
পূর্বে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমান মেয়াদে গ্রহণ করে আরো নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প। সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে দেয়া হলো:

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী
১৯৯৬-৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় বর্তমানে প্রায় ৮৭ ল মানুষ বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের অধীনে ুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১ লাখ ৫ হাজার ৭২৩টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ পরিবার সুবিধাভোগী হয়েছেন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১০০টি শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ ল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১০৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে ৫০ লাখ পরিবারকে কেজি প্রতি ১০ টাকা দামে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

শিােেত্র সাফল্য
২০০৯-২০১৯ সময়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ করার ফলে শতভাগ শিশু এখন স্কুলে যায়। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিার্থীর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৫ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ‘মায়ের হাসি’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ শিার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হচ্ছে।
শিক নিয়োগে মেয়েদের জন্য ৬০% কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারাদেশে প্রতি উপজেলায় ১/২টি করে শিাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি শিার্থীকে মিড-ডে মিল প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিায় সহায়তা প্রদানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার প্রধানমন্ত্রীর শিা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া কাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং ৫০টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থায় বিপ্লব
নিজস্ব অর্থায়নে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঢাকা শহরের নিচ দিয়ে ২৩৮ কিলোমিটার পাতাল রেল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের কাজ চলছে, যা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি’র বাস্তবায়নকাজ চলছে। ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যা এ বছরই ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১১ বছরে ৪৭১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ৮ লেনের মহাসড়ক চালু করা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ৫ হাজার ১১৬ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতকরণসহ ৬ হাজার ৮০৮ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ৬০ হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৪১ কিলোমিটার ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৯টি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে বিপ্লব
গত ১১ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। দেশে মোবাইল সিম গ্রাহক ১৬ কোটি ৫ লাখের উপরে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ৬৫ লাখের বেশি। আইটি খাতে রপ্তানি এখন ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ৫ হাজার ৮৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ৫০০টি ই-পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন গ্রামীণ মানুষ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা সোয়া ৬ কোটি। থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তির পর দেশে ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করা হয়েছে। আগামীতে ফাইভ-জি চালু করা হবে। ৪৬ হাজার ৫০০ ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। ৮০০-এর বেশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমের মাধ্যমে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগের জন্য মোবাইল অ্যাপ ‘আলাপন’ চালু করা হয়েছে। সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে। অচিরেই চালু হবে ই-পাসপোর্ট।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি
বিদ্যুৎ উৎপাদন মতা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। ৯৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৬৪ কিলোওয়াট/ঘণ্টা। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট মতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ি ও মহেশখালিতে কয়লাভিত্তিক প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট মতার ৮টি মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
১১ বছরে ২৩ হাজারের বেশি চিকিৎসকসহ ৫০ হাজারেরও অধিক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট, গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চু হাসপাতাল ও প্রশিণ ইনস্টিটিউট, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটাল, খুলনায় শহীদ শেখ আবু নাসের স্পেশালাইজড হসপিটাল, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট, জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস অ্যান্ড হসপিটাল, ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন, মুগদা হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতালসহ গত ১১ বছরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ৫৯টি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। ১১ বছরে হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ১১ হাজার নতুন শয্যা যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৪টি শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। মেডিকেল শিার প্রসারে সর্বমোট ৩৪৫টি নতুন শিাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৩৬টি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৭০টি।

কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন উদ্বৃত্ত
বর্তমানে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ কোটি ৪৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০০৬ সালের তুলনায় ৬১ ভাগ বেশি। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ১১ বছরে কৃষিখাতে মোট সাড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। সকল প্রকার সার ও কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। ১১ বছরে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার কৃষি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে প্রণোদনা বা কৃষি পুনর্বাসন চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছে।

শিল্পায়নে অগ্রগতি
১১ বছরে পোশাক শিল্পের বিকাশে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। ফলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে দ্বিতীয়। শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ফলে সোয়া ১ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৫টি খাতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নারীর মতায়নে অগ্রগতি
জাতীয় সংসদে সংরতি নারী আসনের সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরেই সংরতি নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ হাজার ২৭৬ জন নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। সিনিয়র সচিব, বিচারপতি, ভিসি, রাষ্ট্রদূত থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা হয়েছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের অধীনে ১৮০টি সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার নারী উদ্যোক্তার পণ্য বাজারজাত করা হয়। স্বল্প ব্যয়ে আবাসন সুবিধা প্রদানে কর্মজীবী নারীদের জন্য ঢাকা শহরে ৪টিসহ ১ হাজার ৬০৬ আসনবিশিষ্ট মোট ৮টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল পরিচালিত হচ্ছে। গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের জন্য আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকায় ৭৪৪ আসনবিশিষ্ট একটি করে ১২ তলা হোস্টেল, কর্মজীবী মায়ের সন্তানের জন্য ঢাকা শহরে ২৫টি, বিভাগীয় শহরে ৫টি এবং জেলাশহরে ১৩টিসহ মোট ৪৩টি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল
শেখ হাসিনা সরকারের ১১ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০১৫ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পূর্বাচলে একটি স্টেজিং এরিয়া নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরো ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ৬০টি উপজেলায় ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, আরো ২২০টি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইকোন শেল্টার নির্মিত হয়েছে, আরো ১ হাজার ৬৫০টি নির্মাণ করা হবে। ভূমিকম্পে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে ব্যবহারের জন্য ৬৩ কোটি টাকার ৩ হাজার ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে।

যুব উন্নয়ন
দ মানবসম্পদে পরিণত করতে গত ১১ বছরে ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৪ জন যুবককে দতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে প্রায় ৭ লাখ যুব আত্মকর্মস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে। একই সময়ে প্রায় আড়াই লাখ যুবককে সোয়া ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় ১১ বছরে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৩৭ জনকে প্রশিণ প্রদান করা হয়েছে এবং ২ লাখ ২৫ হাজার জনের জন্য ২ বছর মেয়াদি অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ক্রীড়ােেত্র সাফল্য
পূর্বাচলে অত্যাধুনিক শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। সিলেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজারে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে টিএসএস মাঠে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও হবিগঞ্জে ২টি নতুন জেলা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পদপে গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৫টি নির্মিত হয়েছে।

প্রতিরা ও আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী শক্তিশালীকরণ
জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরা নীতির আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১১ বছরে সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। সিলেট, রামু ও পটুয়াখালীতে ৩টি নতুন ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো ২টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন, ৪টি ফ্রিগেট, ৬টি করভেট, ৪টি লার্জ পেট্রোল ক্রাফট এবং ৫টি পেট্রোল ক্রাফটসহ মোট ২৭টি যুদ্ধজাহাজ সংযোজিত হয়েছে। স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ কমান্ড এবং নৌবাহিনীর বৈমানিক দল বা এভিয়েশন উইং প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠন করা হয়েছে। ঢাকায় বানৌজা শেখ মুজিব ঘাঁটি কমিশন করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ-ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে দুটি পূর্ণাঙ্গ বিমান ঘাঁটি ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘কক্সবাজার’ স্থাপনসহ অত্যাধুনিক ঋ-৭ ইএ-১ যুদ্ধবিমান, প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে আকাশে নিপেণযোগ্য অত্যাধুনিক পেণাস্ত্র ঝঁৎভধপব ঃড় অরৎ গরংংরষব সংযোজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নতকরণ
জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে সংস্থাটির ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর। ২০১৭ সাল থেকে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়স্তম্ভ মূল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং স্মৃতি জাদুঘর, শিখা চিরন্তন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাসমূহ সংরণ ও পুনঃনির্মাণসহ মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমিসমূহ সংরণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, শহীদ এবং অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরণ ও উন্নয়ন চলমান রয়েছে।

অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ
বেসরকারি খাতে ৪৫টি টেলিভিশন, ২৮টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে দেশের টিভি চ্যানেলসমূহের বাণিজ্যিক সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১১-১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিককে সাড়ে ১০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭সহ তথ্য অধিকার আইন-২০১১ প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরা
জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। জলবায়ু বিষয়কে সংবিধানের অংশ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই পরিকল্পনার অধীনে খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, গবেষণা কার্যক্রম, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে ৪৪টি প্রোগ্রামের আওতায় ১৪৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যার অধীনে ৪৪০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুরনো ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকারখানাসমূহ সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।