প্রতিবেদন

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রচারণা তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি মাঠে ভোটের উত্তাপ লেগেছে। ১০ জানুয়ারি মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। ভোটের দিন ৩০ জানুয়ারি যতই ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রচারণা ততই তুঙ্গে উঠছে।
প্রচার শুরুর পর সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম প্রচারে দলীয় সংসদ সদস্যদের সুযোগ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির তাবিথ আউয়াল ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনতার আওয়াজ শুনুন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন দিন।
ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেিণ বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসিকে নখদন্তহীন বাঘ বলে অভিহিত করেছেন।
তফসিল অনুসারে ঢাকা সিটির এ নির্বাচন হবে ৩০ জানুয়ারি। এর আগের ১৮ দিন প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। ৯ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এবার দুই সিটিতে মেয়র, সাধারণ ও সংরতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ মিলিয়ে মোট ৭৫৮ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন। প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারের নিয়ম না থাকলেও বিভিন্ন প্রার্থীর পে প্রচার চালাতে দেখা গেছে। রঙিন পোস্টারও সাঁটিয়েছেন কেউ কেউ।
এমন পরিস্থিতিতে ১০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় ঢাকা উত্তর ও দেিণর রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করবেন তারা। কাউকে কোনোরূপ ছাড় দেয়া হবে না।
১০ জানুয়ারি প্রতীক পেয়ে ডেমরা এলাকায় নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন দেিণ আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ফজলে নূর তাপস। সেখানে সংপ্তি পথসভায় তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি বিজয়কে সুনিশ্চিত করে প্রাণপ্রিয় ঢাকাকে ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়ব। সেই উন্নত ঢাকা গড়ার ল্েয যাত্রা শুরু হলো। আপামর জনগণ সেবক হিসেবে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়ে একসঙ্গে এ যাত্রায় শরিক হবেন।
এরপর এলাকার অলিগলিতে, ঘরে ঘরে ঢুকে, দোকানে দোকানে গিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করেন তিনি। এসময় জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তাপস। তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর দেিণর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ স্থানীয় নেতারা।
১০ জানুয়ারি গোপীবাগে ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ধানের শীষ প্রতীক সংগ্রহ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন সেখান থেকে জুরাইনে তার বাবা, অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারতের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। পরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি। ইশরাক বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের মা। তার মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়েছি।
এরপর তারা মিছিল নিয়ে মতিঝিল, আরামবাগ হয়ে গোপীবাগে ইশরাকের বাড়ির সামনে যান।
ঢাকা উত্তরে মতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়ের পর নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছে দোয়া ও ভোট চান। বিতরণ করেন প্রচারপত্র। পরে উত্তরার নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসির কাছে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, মেয়র হলে তার নিজেরসহ সব কাউন্সিলরের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করবেন। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আতিকুল ইসলাম।
ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে ১০ জানুয়ারি সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ৭ নম্বর সেক্টরের সামনে জড়ো হন। জুমার নামাজ শেষে তাবিথ বেরোলে তার পেছনে পেছনে নেতাকর্মীরা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। এসময় নেতাকর্মীদের নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদণি করে ভোট ও সমর্থন চান তাবিথ; তার হাতে ছিল ধানের শীষ। প্রচারের শুরুতে সংপ্তি বক্তব্যে তাবিথ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করা ইসির দায়িত্ব। তারা যদি জনগণের আওয়াজ শুনতে পান তাহলে অবশ্যই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। বিগত দিনে ভোটাররা দুর্নীতি, অপশাসন ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা এর জবাব চায়, বিচার চায়। সেই বিচার আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করব। ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দৃশ্যমান ও চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকা- অব্যাহত রাখার স্বার্থে জনগণ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।