প্রতিবেদন

আইআরআই জরিপ: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিক পথেই বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে সন্তুষ্ট বলে জরিপ চালিয়ে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর বর্তমান সরকারের ১ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত আইআরআই-এর এক জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনসমর্থন অনেক বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা।
তবে সরকারের জনপ্রিয়তা অনেক বাড়লেও বাংলাদেশে মানুষ এখন দুর্নীতি ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে এখন টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো প্রশ্ন তুললেও তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি আইআরআরই জরিপে। এই জরিপের ফলাফল তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
১ বছর আগে চালানো আরেক জরিপের সঙ্গে তুলনা করে আইআরআই বলছে, সরকারের প্রতি সমর্থন ১৯ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে এখন ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৬ শতাংশ মানুষ মতামত দিয়েছেন। ২০১৮ সালের জরিপে যা ছিল ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৬ ভাগ বিরোধী দলের কাজে সমর্থনের কথা জানিয়েছে; যা ২০১৮ সালে ছিল ৪২ শতাংশ।
আইআরআই এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক জোহানা কাও বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সাফল্য, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।’
রেডস্টোন সায়েন্টিফিকের তত্ত্বাবধানে আইআরআই ২০১৯ সালের ১ অগাস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতা জন ম্যাককেইনের নেতৃত্বে পরিচালিত আইআরআইকে ডানপন্থিদের একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে।
বাংলাদেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলায় ‘মাল্টি স্টেজ স্টার্টিফাইড প্রবাবলিটি’ নমুনায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে যোগাযোগ করে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে জনসমর্থন বাড়ার বিষয়টি দেখতে পেয়েছে আইআরআই।
এর মধ্যে শিক্ষায় নেয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করছে ৯০ শতাংশ নাগরিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৮৬ শতাংশ এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৮১ শতাংশ।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ৭৭ শতাংশ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ৭৬ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৭৪ শতাংশ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণে ৭১ শতাংশ মানুষ সরকারের কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যর কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ৭৬ ভাগ নাগরিক মনে করেন, তার এলাকার সংসদ সদস্য দুর্দান্ত কাজ করছেন অথবা ভালো কাজ করছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্তুষ্ট ৫৯ শতাংশ নাগরিক, যা ১ বছর আগের জরিপে ছিল ৪৮ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্ট ৭৬ শতাংশ, নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট ৭২ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেয়া ৪৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, চলতি বছর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আরও উন্নতি হবে। ৫৪ ভাগ মনে করেন, অর্থনৈতিকভাবে আরও উন্নতি করবে বাংলাদেশ। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উন্নতি হবে বলে মনে করেন ৪৯ শতাংশ মানুষ।
অবশ্য বর্তমান সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়লেও দুর্নীতি এই সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আইআরআই জরিপে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন সমাজে বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে; ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের জীবনে। ১৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিকে এখন বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
দুশ্চিন্তার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আয় বৈষম্যকে। ৬১ ভাগ মানুষ মনে করেন ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় ৫৮ ভাগ নাগরিক এই বিষয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তার কথা জানান।
জরিপে অংশ নেয়া ১৭ শতাংশ মাদককে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। এছাড়া বেকারত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কথা বলেছেন যথাক্রমে ১০ ও ৭ শতাংশ মানুষ।
আওয়ামী লীগ সরকার যদি তাদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ধরে রাখতে চায়, তবে দুর্নীতি দমন ও বৈষম্য হ্রাসে উদ্যোগী হতে হবে বলে মনে করেন আইআরআই কর্মকর্তা জোহানা কাও।
এক্ষেত্রে অবশ্য আশার কথা হলো, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমনকে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, তাকে কোনোরূপ ছাড় দেয়া হবে না।