প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

ই-পাসপোর্ট যুগে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক : উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। আগামী ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি সন্নিবেশের ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং পাসপোর্টের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিদেশ ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ফিরে দেখা বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দেশের জনগণকে পাসপোর্ট সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে সরকার গঠন করার পর পাসপোর্টের আধুনিকায়ন করেন। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ওঈঅঙ)-এর নির্দেশনার আলোকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রদান শুরু হয়। বাংলাদেশে পাসপোর্টের ইতিহাসে সেটি ছিল একটি ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা। বহির্বিশ্বে পাসপোর্টের আধুনিকায়নের ক্রমধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানেই বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেইট কার্যক্রমের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। উন্নত বিশ্ব পারলেও অনেক দেশ এখনও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মানুষের হাতের কাছেই পাসপোর্ট প্রাপ্তির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধনের পর প্রাথমিক পর্যায়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস আগারগাঁও থেকে এই কার্যক্রম চালু হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৬৯ আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিসে এবং ৮২টি বৈদেশিক মিশনে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর সঙ্গে চুক্তি করে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি, যার মধ্যে ২০ লাখ জার্মানি থেকে তৈরি হয়ে আসবে, আর বাকি ২ কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট বই মুদ্রণের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করবে। বাংলাদেশে এই বই ছাপার যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

কেমন হবে ই-পাসপোর্ট: পৃষ্ঠাসংখ্যা ও ফি
বিভিন্ন মেয়াদ ও আকারের ই-পাসপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা থাকছে। সুনির্দিষ্ট ফি দিয়ে মানুষ যার যার প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী তা সংগ্রহ করতে পারবেন। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৩ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যাও হবে দুই ধরনেরÑ ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বিতরণের পদ্ধতি তিন ধরনের Ñ সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি। দেশের ভেতরে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে মাত্র ২১ কর্মদিবসের মধ্যে। তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়ার একটি প্রস্তাব এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে পাসপোর্ট প্রাপ্তি আরও স্বল্প সময়ে এবং সহজ হয়। ই-পাসপোর্ট জরুরিভাবে ৭ কর্মদিবসে এবং অতি জরুরি ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিনের মধ্যে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে অতি জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেয়া হবে।
বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা। অন্যদিকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ১২০০০ টাকা।
তবে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার, জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআরপি বনাম ই-পাসপোর্ট
ই-পাসপোর্ট নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মানুষের মধ্যে। সাধারণ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) থেকে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য হলো এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে। পাসপোর্টের একটি বিশেষ পাতার ভেতরে থাকবে এই চিপ, যেটি সাধারণ পাতার চেয়ে একটু মোটা হবে। চিপে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাসপোর্ট বহনকারীর পরিচয় সহজেই শনাক্ত করা যাবে। ফলে একজনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে অন্য নামে কেউ পাসপোর্ট করতে পারবে না। ই-পাসপোর্ট নকল হওয়ার আশঙ্কাও নেই। সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় এই পাসপোর্টে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অনেক বেশি। অন্তত ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে ই-পাসপোর্টে, যার অনেকগুলো থাকবে লুকানো অবস্থায়। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের ডেটাবেইজে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। বর্তমানে এমআরপি বা যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের বইও একই রকমের থাকবে। তবে এমআরপিতে প্রথমে যে তথ্য সংবলিত দুটি পাতা থাকে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। পলিকার্বনেট ডেটা পৃষ্ঠায় একটি চিপ ও অ্যান্টেনা থাকবে। আর সেই কার্ডের ভেতরেই থাকবে চিপটি। ডেটাবেইজে থাকবে পাসপোর্টধারীর ৩ ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস। ফলে যেকোনো দেশের কর্তৃপক্ষই সহজে ভ্রমণকারীর সব তথ্য জানতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এমআরপি ও ই-পাসপোর্টের তুলনা করা যেতে পারে অনেকটা চেকবই ও এটিএম কার্ডের সাথে। চেকবইয়ে থাকা স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই করে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহককে টাকা দেন। কিন্তু এটিএম কার্ড দিয়ে নিজে থেকেই টাকা তোলা যায়। এমআরপিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্টে সিল দিয়ে থাকেন। ই-পাসপোর্টধারী যন্ত্রের মাধ্যমে নিজে থেকেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে পরবর্তী ধাপে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাই আগমন অথবা বহির্গমন সিল দেবেন। বিমানবন্দর বা ইমিগ্রেশন পোর্টে থাকবে ই-গেট। যেখান দিয়ে দ্রুত ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে সবাই যাতায়াত করতে পারবেন। এমআরপির মতো প্রথমে তথ্য সংবলিত দুটি পাতা ই-পাসপোর্টে না থাকলেও শুরুতেই যে পলিকার্বনেট ডেটা পৃষ্ঠায় চিপ ও অ্যান্টেনা থাকবে, সেখানে পাসপোর্ট বাহকের নাম, নম্বর, জন্ম তারিখসহ বিভিন্ন তথ্য থাকবে। সেই সঙ্গে মেশিন রিডেবল অপশনও থাকবে। ফলে ই-গেট না থাকলেও অসুবিধা হবে না। কারণ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সেটি স্ক্যান করে কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং সব কাজ করতে পারবেন।
বিমানবন্দরগুলোতে ই-গেটের পাশাপাশি প্রচলিত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাও চালু থাকবে। খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন ই-গেট ব্যবহার করে। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না, দ্রুত হয়ে যাবে ইমিগ্রেশন।
অবশ্য একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যখন যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করবে। এই তথ্যাগারকে বলা হয় পাবলিক কি ডাইরেক্টরি বা পিকেডি। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে, সেইসঙ্গে থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়েরও ব্যবস্থা। আর এভাবে সব ঠিক থাকলে অল্প সময়ে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। কোনো গরমিল থাকলেই লালবাতি জ্বলে উঠবে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তখন হস্তক্ষেপ করবেন। কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, কিংবা কোনো অপরাধী পালাতে চাইলে সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ওঈঅঙ) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।
ই-পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এতটাই শক্তিশালী যে এই পাসপোর্ট জাল করা রীতিমতো অসম্ভব। প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বা অনলাইনে ভিসার শর্ত পূরণ করেই ভিসা নিতে হবে। ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। ফলে ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ হবে। তারা বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করেও দিতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে আর কাউকে এমআরপি ইস্যু করা হবে না। বর্তমান এমআরপিধারীরা যখন নবায়ন করতে যাবেন, তখন তাদেরও ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়া হবে সব এমআরপি। অন্যদিকে প্রচলিত পাসপোর্টে যেভাবে ভুল সংশোধন করা হয়, এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফি ও কাগজপত্র জমা দিয়ে ভুল সংশোধন করা যাবে। চিপের ভেতর মূল তথ্যগুলো থাকায় সংশোধন হওয়া মাত্রই চিপের ভেতরের ও কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রে থাকা তথ্য সংশোধন হয়ে যাবে। তবে পাসপোর্টে লেখা কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হলে নতুন বই ইস্যু করা হবে।

সহজ আবেদন পদ্ধতি
আগের থেকে সহজ হচ্ছে ই-পাসপোর্টের আবেদন পদ্ধতি। আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন (বিআরসি)সহ মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস ফিচার নেয়া হবে।

ব্যবহারকারীভেদে ই-পাসপোর্টের ধরন
ই-পাসপোর্ট শ্রেণিভিত্তিক ৩ ধরনের হবে। সব নাগরিকের জন্য সাধারণ শ্রেণির পাসপোর্ট ৪৮ এবং ৬৪ পৃষ্ঠার হবে, রঙ হবে সবুজ এবং মেয়াদ হবে ৫/১০ বছর। অন্যদিকে অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট, যা সরকারি কর্মকর্তা ও অনুমোদিত ব্যক্তিকে দেয়া হবে। নীল রঙের এই পাসপোর্ট ৬৪ পৃষ্ঠা ও মেয়াদ হবে ১০ বছর। কূটনৈতিক পাসপোর্ট, যা কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যবহার করবেন, তার রঙ হবে লাল। এই পাসপোর্টও ৬৪ পৃষ্ঠার এবং ১০ বছর মেয়াদের হবে।
কেন প্রয়োজন ই-পাসপোর্ট
ই-পাসপোর্ট ব্যবহার বাড়ছে বিশ্বজুড়েই। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো ব্যবহার করছে লেটেস্ট প্রযুক্তির এই পাসপোর্ট। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) তথ্যমতে, বিশ্বের ১২০টি দেশ বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। কারণ পাসপোর্ট বুকলেটে ইলেকট্রনিক চিপ ব্যবহারের মাধ্যমে চিরাচরিত নন-ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের চেয়ে এটি বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পাসপোর্টের দুটি পেজে দৃশ্যমান বায়োগ্রাফিক্যাল তথ্যভা-ার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ফিচার থাকে। ডিজিটাল ফিচার হচ্ছে কোনো দেশের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল স্বাক্ষর, যা প্রতিটি দেশে একক এবং স্ব স্ব সার্টিফিকেটের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ই-পাসপোর্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশ গমন আরো সুন্দর ও সাবলীল করবে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট এবং অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বাস্তবায়ন’ প্রকল্পটি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আগামী ১০ বছরের জন্য অগ্রাধিকার প্রাপ্ত একটি টার্ন কি প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। বর্তমানে চলমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অপেক্ষা অনেক গুরুত্ববহ নতুন এই ই-পাসপোর্ট বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিকভাবে পরিচিত করবে। তথ্য সংরক্ষণের জন্য চিপের অন্তর্ভুক্তি, যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে উন্নত সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য, বৈধতার মেয়াদ বাড়ানো ইত্যাদি অনেক সুবিধাসংবলিত ই-পাসপোর্ট বিশ্বব্যাপী চলাচলে আমাদেরকে নিরন্তর সুবিধা দিয়ে যাবে। আকার ও সময়কাল হিসেবে এটি একটি অনন্য প্রকল্প; যা সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৌশলী কার্যধারা এবং তার নিরলস পরিশ্রমের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের বিপরীতে এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করছে, যা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আর এ চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে আলাপকালে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টের আরও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা ই-পাসপোর্টের প্রধান লক্ষ্য। আর এই পাসপোর্ট বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি পাসপোর্ট ইস্যু করা। পাসপোর্টের সুরক্ষা বাড়ানো। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। বিশ্বের যেকোনো দেশে প্রবেশ ও বহির্গমনে বাংলাদেশিদের ঝামেলামুক্ত চলাচলের নিশ্চয়তা প্রদান এবং ই-গেটের সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণ করা।
ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিগত ৯ বছরে ৬৭টি আরপিও এবং ৬৫টি এফএম এর মাধ্যমে ২০ মিলিয়নেরও বেশি এমআরপি প্রদান করা হয়েছে। যদিও এমআরপি হাতে লেখা পাসপোর্টের অনেক সমস্যা দূর করতে পেরেছে তথাপি এটি সময়ের সাথে সাথে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে পড়েছিল। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১১৯টি দেশ ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। তাই আরও সুরক্ষিত ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় বিশ্বের অগ্রসরমান ৫টি দেশের ৪টি অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সাথে তুলনা করে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মান সরকারের আংশিক মালিকানাধীন একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ৭ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি ভেরিডোস জিএমবিএইচের সাথে ২২টি অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রযুক্তিগত কার্যধারা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট সরবরাহের লক্ষ্যে ভেরিডোস জিএমবিএইচের সাথে ২০১৮ সালের ১১ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের নানা দিক
ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চলবে ৭২টি আরপিও এবং ৮০টি এফএম-তে। বর্ডার কন্ট্রোল সেন্টারে ই-গেট স্থাপন করা হবে। পাসপোর্ট উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে। ডেটা সেন্টার এবং দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা/আধুনিকীকরণ করা হবে। স্থাপন করা হবে ৮টি মুদ্রণযন্ত্র। ডিআইপি প্রধান অফিস থেকে নেটওয়ার্কিং এবং অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম থাকবে। পলিকার্বনেট ডেটা পৃষ্ঠাসহ ৩৫ লাখ ই-পাসপোর্ট স্থানীয়ভাবে প্রতি বছর উৎপাদিত হবে।
যেসব স্থাপনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে তার মধ্যে রয়েছে ৭২টি আরপিও, ৮০টি এফএম এবং ১টি কূটনৈতিক পাসপোর্ট অফিস। স্থাপন করা হয়েছে ১টি তথ্যকেন্দ্র, ১টি পাসপোর্ট এসেম্বিলাইন এবং ১টি পার্সোনালাইজেশন সেন্টার। যশোরে ১টি দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কেন্দ্র। আছে ২৭টি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২টি স্থলবন্দর, ২২টি অন্যান্য) এবং ৭২টি এসবি/ডিএসবি অফিসসমূহ। আগারগাঁও, ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জার্মানির মিউনিখে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট।
চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে প্রথম ২ বছরের মধ্যে ২ মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট (১০ হাজার কূটনীতিক, ৪ লাখ ৯০ হাজার কর্মকর্তা এবং বাকি ১৫ লাখ সাধারণ) সরবরাহ। ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট বইয়ের প্রতিটি ধরনের জন্য ‘নমুনা অনুলিপি’ হিসেবে ৫০০টি বইও সরবরাহ করা। চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ১৮ মাসে সিস্টেমটি কার্যকর করতে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার স্থাপন। ৪ মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট বুকলেট উপকরণ, সামগ্রিকভাবে ই-পাসপোর্টের মধ্যে ৪৮ পৃষ্ঠা ৬০% হবে। ১০ বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ। চুক্তি স্বাক্ষরের ২ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির স্থানান্তর। পলিকার্বোনেট ডেটা পৃষ্ঠায় ব্যক্তিগতকরণের সময় আবেদনকারীর ডেটা এবং রঙিন ফটোগ্রাফ অন্তর্ভুক্ত। একটি মাইক্রোচিপ ডেটা পৃষ্ঠায় সংযুক্ত করা। ফটো, বায়োমেট্রিক ডেটা অর্থাৎ ১০ আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিস ও স্বাক্ষর এবং পাসপোর্টের মধ্যে ৩৮ সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত। ভিসা পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াটার মার্ক, ইউভি ফাইবার, ইউভি পেজ নং এবং অন্যান্য ছবিগুলোর মতো জাতীয় পাখি (দোয়েল), জাতীয় প্রাণি (রয়েল বেঙ্গল টাইগার), জাতীয় মসজিদ (বায়তুল মোকাররম মসজিদ) ইত্যাদি।

বদলে যাবে দৃশ্যপট: সুন্দর আগামী
ডিজিটালাইজেশনের অগ্রযাত্রায় ই-পাসপোর্টে পুরো দৃশ্যপটই বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপকৃত হবেন, যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ বিভিন্ন কাজে যারা বিদেশে যান তারা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ আর্থসামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশের অগ্রযাত্রার যে ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, তা আরও উজ্জ্বল করবে ই-পাসপোর্ট। কারণ ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা বহির্বিশ্বে আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবেন। পাসপোর্ট পাওয়ার সময় কমে আসবে, কমবে প্রতারণামূলক কর্মকা-; নবায়ন প্রক্রিয়াও হবে ঝামেলামুক্ত। সেইসঙ্গে বাড়বে সরকারি আয়। আন্তর্জাতিক মানের এই পাসপোর্টের অধিকারী হবেন অন্তত ৩ কোটি বাংলাদেশি, স্বভাবতই একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ প্রস্তুত হবে। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি করবে দেশের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের। উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার একটি অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত হবে, যা দিয়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার আরো কয়েক বছর পরও কার্যক্রম চলমান রাখা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যে উন্নত দেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেই ধারার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। তাঁর দূরদর্শী এই উদ্যোগ বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একনজরে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের ঘটনাক্রম
২৪ এপ্রিল, ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাসপোর্ট সপ্তাহের সময় ই-পাসপোর্ট চালু করার কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ জি টু জি ভিত্তিতে ই-পাসপোর্ট চালু করার জন্য ভেরিডোস জিএমবিএইচের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২৯ অক্টোবর, ২০১৭ কারিগরি স্পেসিফিকেশন কমিটি গঠন।
১৯ এপ্রিল, ২০১৮ কারিগরি কমিটির দ্বারা প্রতিবেদন জমা দেয়া।
২০ এপ্রিল, ২০১৮ সুরক্ষা পরিষেবা বিভাগ কর্তৃক এ২এ কমিটি গঠন।
১৪ মে, ২০১৮ জি টু জি কমিটির দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়া।
১৬ মে, ২০১৮ সিসিজিপি কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের অনুমোদন।
১১ জুন, ২০১৮ ভেরিডোস জিএমবিএইচ থেকে সরাসরি দরপত্র নথির আমন্ত্রণ।
২১ জুন, ২০১৮ একনেক সভায় ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের অনুমোদন।
২৪ জুন, ২০১৮ ডিআইপি-তে ভেরিডোস জিএমবিএইচের দরপত্রের প্রস্তাব জমা দেয়া।
২৪-২৯ জুন, ২০১৮ কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি দ্বারা মূল্যায়ন এবং আলোচনা।
১১ জুলাই, ২০১৮ সিসিজিপি দ্বারা অনুমোদন।
১৯ জুলাই, ২০১৮ চুক্তি স্বাক্ষর।
২২ জানুয়ারি, ২০২০ ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন