রাজনীতি

চট্টগ্রাম উপনির্বাচনে এমপি হলেন আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৮৭ হাজার ২৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ৬৯ হাজার ৩১১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ২২ শতাংশ।
ফল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে অভিনন্দন জানান।
মোছলেম উদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রামের একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। দীঘ দিন তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ার পর তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির হাল ধরেন। বর্তমানেও তিনি ওই পদে বহাল আছেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদলের ইন্তেকালের পর আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। এ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোছলেম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়।
কয়েকটি কেন্দ্রে হট্টগোল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার দাবিসহ বিচ্ছিন্ন আরও কিছু ঘটনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে উপনির্বাচন। প্রশাসনের পক্ষে সার্বিকভাবে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদও ‘সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন।
তবে বিএনপি প্রার্থী ও তার সহযোগী নেতৃবৃন্দ দুপুরের দিকে নির্বাচন স্থগিত করা এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানায়। লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান এ দাবি জানান। বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বিএনপির এ প্রার্থী বা তার দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।
এ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সব ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ, এপিবিএন সদস্যদের টহল ছিল জোরদার। ফলে বড় কোনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য ও ১১ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করে। মোতায়েন করা হয় ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৬ প্লাটুন র‌্যাব। এছাড়া ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিজিবির সঙ্গে মোবাইল টিমে ছিলেন।
বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান ভোট প্রদানের পর উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, কোথাও নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে রাখে। তারা কেন্দ্রের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ভোটারদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে। অলমোস্ট সব কেন্দ্র থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে একই কেন্দ্রে কিছুক্ষণ পরে এসে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিএনপি প্রার্থী ও তার দলের নেতাদের বিভিন্ন অভিযোগের বিপরীতে মোছলেম উদ্দিন বলেন, বিএনপির কাজই হলো অভিযোগ করা। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেক আগে থেকেই এ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
উপনির্বাচনে বোয়ালখালী অংশে ভোটের আগে উত্তাপ ছড়ালেও নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্ত। উপজেলার ৬৯টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়াশামোড়ানো সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কেন্দ্রে। লাইনে দাঁড়িয়ে নারী ও পুরুষ ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।
অন্যান্যবারের চেয়ে এবারের ভোট দানের দৃশ্য ছিল অন্যরকম। ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে নিজের ছবিসংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে পেয়েছেন ইভিএম মেশিনে। এ নিয়েই আলোচনায় সরব ছিলেন ভোটাররা।
এদিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে জানিয়ে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। নুর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচনের কোনো পরিবেশ ছিল না। ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপি যে কয়েকটি কেন্দ্রের ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলেন সেগুলোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি।
প্রতিপক্ষের কেন্দ্র দখলের ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে হাসানুজ্জামান বলেন, যখন যেখানে যারা অভিযোগ করেছেন সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ যেভাবে তারা করেছেন সেভাবে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বাদে অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের সৈয়দ মো. ফরিদ, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এমদাদুল হক।