প্রতিবেদন

জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জানুয়ারি শুরু হয় ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শুরুতে বেচা-কেনা ও ক্রেতা আগমন কম হলেও ক্রমেই জমে উঠতে শুরু করেছে মেলা। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়। বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে তাদের পণ্যের মূল্যে বিশেষ ছাড় প্রদান করেছে। এতে পণ্যের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানি লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও বেশ খুশি।
সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপচেপড়া ভিড়। শীতের সকালের ঠা-া মৃদু বাতাস উপেক্ষা করেও এদিন সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। এতে বেচা-বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় হাসি ফিরেছে বিক্রেতাদের মুখে। দর্শনার্থী বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, মেলায় ক্রেতাদের আগমন এবার বেশ দেরিতে শুরু হলো। বিগত বছরগুলোয় এ সময় ক্রেতার সংখ্যা ও বেচা-বিক্রি দুটোই ছিল অনেক বেশি। এজন্য তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দায়ী করছেন।
ছুটির দিনে বাণিজ্যমেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের রাস্তাগুলো ছিল জনারণ্য। সকালে মেলার গেট খোলার পর থেকেই টিকিট কাউন্টারের সামনে বাড়তে থাকে ভিড়, লম্বা হতে থাকে লাইন। মানুষের ভিড়ে মেলার প্রবেশদ্বারে পা ফেলার জায়গা ছিল না। বিকেল নাগাদ ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা চত্বরে নামে সব বয়সী মানুষের ঢল। কেউ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দল বেঁধে, কেউ প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে, কেউবা এসেছেন সপরিবার। ছুটির দিন হওয়ায় এদিন শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে আসা ইউসূফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী স্বদেশ খবরকে বলেন, পরিবারের চাপাচাপিতে তিনি বাণিজ্যমেলায় এসেছেন। সিটি নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে পরের শুক্রবার ২৪ জানুয়ারি সময় দিতে পারবেন না বলেই তিনি অল্প সময়ের জন্য মেলায় এসেছেন। তিনি জানান, ২-৩ ঘণ্টা তিনি মেলায় থাকবেন। এই সময়ের মধ্যেই কেনা-কাটা করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ইউসূফ হোসেন বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন। একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ফাঁকি দিয়ে মেলায় এসেছেন বলেও জানান তিনি। মেলা থেকে ফিরে গিয়েই তার পছন্দের কাউন্সিলর প্রার্থীর জন্য ভোট চাওয়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
মেলার শিশু পার্কের আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসার্স অন্তর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. রিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রথম দিকে ঢিলেঢালা গেলেও এ বছরের মেলায় ১৭ জানুয়ারি প্রথম ক্রেতা-দর্শনার্থীর এমন ভিড় দেখা গেছে। এ জন্যই অপেক্ষায় ছিলাম।
সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলায় বিপুলসংখ্যক শিশুর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফলে শিশু পার্ক চত্বরেও ভিড় করছে শিশু ও কিশোররা। কেনাকাটার ফাঁকে অনেক বাবা-মা তাদের শিশুকে একটু বিনোদন দিতে ছুটে আসছেন পার্কে।
দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ায় খুশি মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। ক্রেতাদের নজর কাড়তে মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন সামগ্রীতে দেয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড় ও অফার। ফলে মেলা থেকে পণ্য কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহেরও শেষ নেই। হরেক রকম অফার ও গিফটের আকর্ষণে স্টলগুলো ঘুরে দেখছেন গ্রাহকরা। পণ্য দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দমতো পণ্য কিনছেন। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় দেশি বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়নগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
মেলার বেশ কয়েকটি স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি সামগ্রী, শিশু ও নারীদের সামগ্রী, বিস্কুট ও ফাস্ট ফুডের খাবার দোকানগুলোয় ভিড় ও বিক্রি বেশি। খাবার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনেক ব্যবসায়ীই জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে এবারের মেলায়। অন্যান্যবার যারা মেলায় এসে কেনাকাটা করতেন, তারা এবার নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন। তাই ক্রেতারা মেলামুখী হতে এ বছর অনেকটাই দেরি করেছে। শীতের প্রকোপ ও আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শুরুর দিকে মেলায় বেচা-বিক্রি ছিল না বললেই চলে। সব মিলিয়ে এ বছর লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এবার বিশেষ বিবেচনায় সরকারের নিকট মেলার সময় বাড়ানোরও আবেদন জানান অনেক ব্যবসায়ী।
এ বছর মেলায় ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২১টি দেশ অংশ নিচ্ছে।
মেলায় রয়েছে সাধারণ, প্রিমিয়ার, সংরক্ষিত, বিদেশি, সাধারণ মিনি, সংরক্ষিত মিনি, প্রিমিয়ার মিনি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন, সাধারণ ও প্রিমিয়ার স্টল, ফুড স্টল, রেস্তোরাঁসহ ১৩টি ক্যাটাগরিতে ৫৮০টি স্টল।
অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সেবা দিচ্ছে সরকারি-বেসরকারি ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। মেলায় সহজ ও নিরাপদে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা। তাছাড়া এ বছর মেলায় আরও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ই-শপ, শিশু পার্ক, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, মা ও শিশু কেন্দ্র, ফুলের বাগান ও এটিএম বুথ।
১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীর জন্য খোলা থাকছে মেলা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মেলায় প্রবেশে টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।