প্রতিবেদন

দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে বহাল তবিয়তে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদার : পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদারের বিরুদ্ধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ বোর্ড চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস সরদারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের আওতাধীন বেসরকারি ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট অনুমোদন দেয়া, এমপিওভুক্তি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে কুদ্দুস সরদারের বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম কলেজ) এবং বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বা অনুমোদন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের শাখা সংযোজন ও আসন বৃদ্ধি করে দেয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিএম কলেজে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উৎকোচ গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম কলেজ) এবং বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে।
প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস সরদার ছিলেন মূলত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রকল্পের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন অধ্যক্ষ। ইতঃপূর্বে তিনি কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্পে ক্রয়সংক্রান্ত ও ছাত্রভর্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তিনি প্রেষণে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক হয়ে আসেন। কথিত আছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর এলাকার বাসিন্দা ও নিকটজন আবদুল কুদ্দুস সরদার নিজেও একজন জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা। মতিউর রহমান নিজামীর নিজস্ব লোক এই আবদুল কুদ্দুস সরদার জামায়াতের গোপন মিশন বাস্তবায়নের জন্য প্রভাব খাটিয়ে প্রেষণে নিয়োগ নিয়েছেন বলে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জনশ্রুতি আছে। তিনি বিভিন্ন বেসরকারি ভোকেশনাল, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়, সেখানে জামায়াতের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জানা যায়, আবদুল কুদ্দুস সরদার পরিদর্শক হয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আসার পরপরই ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভুয়া জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে অনুমোদন পায় গোপালগঞ্জের ‘মকসুদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’। পরে প্রতিষ্ঠানটি নাম পরিবর্তন করে ‘ঘিওর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ নামে মানিকগঞ্জে চলে যায়। এ ব্যাপারে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদারকে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন বোর্ড চেয়ারম্যান। কিন্তু তিনি ৫ মাস দেরি করে এ ব্যাপারে নথি উপস্থাপন করেন। এ জন্য তাকে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ৫৭.১৭.০০০০.১০২.১৯.৩৬৪.১৬.১২৮ স্মারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
জানা যায়, পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে মকসুদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি অনুমোদন পায়। মূলত আবদুল কুদ্দুস সরদারই প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পাওয়ার জন্য সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে দেন। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে আবদুল কুদ্দুস সরদারের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি নাম পরিবর্তন করে ‘ঘিওর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ নামে মানিকগঞ্জে চলে যায়। ‘ঘিওর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’-এর অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নেপথ্যে থেকে আবদুল কুদ্দুস সরদার সমস্ত কাগজপত্র সম্পাদন করে দেন। এসব কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগে যাওয়ায় আবদুল কুদ্দুস সরদার ৫ মাস দেরি করে এ ব্যাপারে নথি উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনেক কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে নথি উপস্থাপনে গড়িমসি করা ছাড়া আবদুল কুদ্দুস সরদারের অন্য কোনো উপায় ছিল না। এছাড়া রাজশাহী সিটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, পাবনা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও গাজীপুরের আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং কক্সবাজারের চকরিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নিজস্ব জমি না থাকলেও নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন টেকনোলজি খোলা ও আসন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আবদুল কুদ্দুস সরদার নিজে পরিদর্শন করে নিজেই অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এসব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অনুমোদন প্রদানের পাশাপাশি জামায়াত ও বিএনপির সাবেক এমপিদের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার বিনিময়ে আবদুল কুদ্দুস সরদার লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি এমপিওভুক্তির বিনিময়ে যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির কাছ থেকে অন্তত ৫ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন সেগুলোর অন্যতম হলো শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ, ইআইআইএন নং ১১৬৭৫০, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, ফতেপুর, ঝিনাইদহ; ইসলামী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় টেকনিক্যাল অ্যান্ড এগ্রিকালচার কলেজ, ইআইআইএন নং ১২৬২৬৮, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, বাঘা, রাজশাহী; সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩২৫৬২, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন, সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যাংকিং, রাজপাড়া, রাজশাহী; শহীদ জিয়াউর রহমান মহাবিদ্যালয়, ইআইআইএন নং ১১৯১০৯, ট্রেড-সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, তালা উপজেলা, সাতক্ষীরা; ইসলামকাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩৪৭৫৮, ট্রেড- সেক্রেটারিয়াল সাইন্স ও হিসাববিজ্ঞান, তালা উপজেলা, সাতক্ষীরা; মঞ্জুর কাদের টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩২৪৭২, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, চৌহালি, সিরাজগঞ্জ; বাগবটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩২৬৫২, ট্রেড-সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, সিরাজগঞ্জ সদর, সিরাজগঞ্জ; এম সাইফুর রহমান টেক অ্যান্ড বি. এম. কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩২৭৩০, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, গোয়াইনঘাট, সিলেট; শহীদ জিয়াউর রহমান টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩২৪০৪, ট্রেড-সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, বগুড়া সদর, বগুড়া; মঞ্জুর কাদের কোরাইশী কারিগরি বি.এম. মহিলা কলেজ, ইআইআইএন নং ১৩৬০৬৬, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন ও সেক্রেটারিয়াল সাইন্স, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা; নকলিয়া মঞ্জুর কাদের কলেজ, ইআইআইএন নং ১২৫৩২৮, ট্রেড-কম্পিউটার অপারেশন, বেড়া, পাবনা।
টাকার বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদার ঘুষের বিনিময়ে বেগম রোকেয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কোড- ১৬০২৭) মিঠাপুকুর, রংপুরের সুপার নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রিন্সিপাল পারভীন জাকির কারিগরি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কোড-৫৭১৭০) ময়মনসিংহের প্রিন্সিপাল এবং চৌধুরী হাট টেকনিক্যাল বি. এম. কলেজ (কোড- ১৩০৫৬) দিনাজপুরের অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
বেসরকারি ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটগুলোতে পাঠদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সরজমিনে পরিদর্শন টিমের মাধ্যমে তদন্ত না করে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পাঠদান নবায়ন করে রিপোর্ট প্রেরণ করেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদার। সকল ভোকেশনাল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (সংখ্যা-১৬৭৮) এবং বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট বা বি.এম. কলেজ ( সংখ্যা-২১০০ এর মতো)-এর প্রিন্সিপাল এবং চিফ ইন্সট্রাকটর নিয়োগে সংশ্লিষ্ট জেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বা তার প্রতিনিধির নিয়োগ বোর্ডে থাকার কথা। কিন্তু আবদুল কুদ্দুস সরদার এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজে চিঠি ইস্যু করে নিজেই নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থেকে নিয়োগ প্রদানে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নাম ভাঙিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন। অভিযোগ সূত্রে প্রাপ্ত কাগজপত্রে দেখা যায়, স্মারক নং ৫৭.১৭.০০০০.৪০২.১১.০৩২.১৯.৬০ মোতাবেক গত ০৭-০২-২০১৯ তারিখে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠন প্রসঙ্গে একটি চিঠি দেন অধ্যক্ষ, তাবিউল মুরসালীন নগর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কেন্দুয়া নেত্রকোণাকে। আবদুল কুদ্দুস সরদার বাছাই কমিটির একজন সদস্য (বোর্ড প্রতিনিধি)। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাবিউল মুরসালীন নগর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কেন্দুয়া নেত্রকোণার অধ্যক্ষকে এই চিঠি দেয়ার কথা। অথচ অধ্যক্ষকে এই চিঠি দেন পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদার, আবার তিনিই ওই নিয়োগ কমিটির সদস্য (বোর্ড প্রতিনিধি)। এতে সহজেই অনুমেয় যে, নিয়োগ কমিটিতে সভাপতি ও সদস্য সচিবের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য আবদুল কুদ্দুস সরদার এই চিঠি প্রেরণ করেন। এমন ধরনের চিঠি তিনি বহু প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছেন এবং এসব নিয়োগে বোর্ডের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন বলে অভিযোগ আছে।
জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘ত্রিশাল কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ’টি ২১ বছর যাবৎ সাধারণ ব্যবস্থাপনা কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদারের যোগসাজসে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের বিধিবিধানকে তোয়াক্কা না করে মাদানী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বা অনুমোদন দেয়ার পাঁয়তারা করে। এমনিভাবে তিনি বহু কারিগরি কলেজে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষের যোগসাজসে জামায়াতপন্থি কমিটি গঠন করেন, যা এখন ওপেন সিক্রেট।
এমনকি ২ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের কারিগরি শাখা-২ থেকে ২-১০-২০১৯ সালে ৫৭.০০.০০০০.০৫২.২৭.০০২.১৭.৫৪৩ স্মারকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেয়ারম্যানকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছিল; যা পরবর্তীতে তিনি কৌশলে ম্যানেজ করেছেন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবদুল কুদ্দুস সরদার মূলত জামায়াতের লোক। তিনি দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় জামায়াতিকীকরণের মিশনে নেমেছেন। সে লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে জামায়াতপন্থি লোক নিয়োগে ভূমিকা রাখছেন।
এ কারণে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও তার অধিভুক্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জামায়াতমুক্ত করতে হলে আবদুল কুদ্দুস সরদারের মতো জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাকে পরিদর্শকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া উচিত। তা না হলে দেশের বেসরকারি ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটগুলো অচিরেই জামায়াতের আখড়ায় পরিণত হবে।
অবশ্য এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জনৈক কর্মচারী স্বদেশ খবরকে বলেন, বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ৫৭.১৭.০০০০.১০২.১১.৩৬৪.১৬-৫৬৮ স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব বরাবরে চিঠি দেন, যাতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, পরিদর্শক পদে ২৪-০৮-২০১৬ সালে প্রেষণে কর্মরত প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস সরদার যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি পরিদর্শন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকা- যথাযথভাবে সম্পাদন করেননি। তাছাড়া তাকে জরুরি যে সকল কাজ করতে বলা হয়, তা সঠিকভাবে সম্পাদন না হওয়ায় বোর্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শানো সত্ত্বেও কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি বলে বোর্ডের বৃহত্তর স্বার্থে প্রকৌশলী মো. আবদুল কুদ্দুস সরদারের প্রেষণাদেশ বাতিল করার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে বোর্ডের চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেন। অথচ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়তে এখনও স্বপদে রয়েছেন পরিদর্শক মো. আবদুল কুদ্দুস সরদার।
অবশ্য অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী মো. আবদুল কুদ্দুস সরদার স্বদেশ খবরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে অনীত অভিযোগগুলো সত্য নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিবের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে আনীত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ব্যানবেইজ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ করে থাকে। এক্ষেত্রে তার বা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কারোরই করার কিছু নেই।
জামায়াত সম্পৃক্ততার বিষয়ে আবদুল কুদ্দুস সরদার বলেন, জামায়াত নন বরং তিনি ২০১৫ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড শাখার উপদেষ্টাম-লীর সদস্য।