Uncategorized

বাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা থাকলে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে বাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা থাকলে মালিককে জরিমানা করাসহ ১৩ দফা সুপারিশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি। ১২ জানুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে গত ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশগুলো প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। সেই আবেদনের ওপরও ওই দিন শুনানি হয়।
প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের চারপাশে বায়ুদূষণের কারণ খুঁজে বের করা এবং বায়ুদূষণ রোধে ১৩ দফা সুপারিশ দেয়া হয়। সুপারিশগুলো হলো:
১. উন্নয়ন কার্যক্রমে রাস্তা খোড়াখুড়ির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে সিটি করপোরেশন জরিমানা আরোপ করতে পারে। এক্ষেত্রে দায়ী ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।
২. ধূলাবালি বাতাসের সঙ্গে যেন মিশে না যায়, সে জন্য নির্মাণসামগ্রী আবৃত করে রাখতে হবে। প্রতিটি নির্মাণ সাইটে পানি ছিটানোর বিধান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্মাণ সাইটে পানি ছিটাতে বাধ্য করতে দরপত্রে বিধান সংযোজন করতে হবে। রাস্তায় কোনো নির্মাণসামগ্রী রাখা যাবে না। নির্মাণাধীন স্থাপনা আবৃত করে রাখতে হবে। যে এলাকায় নির্মাণকাজ হবে, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তা পরিষ্কার করবে।
৩. ইউটিলিটি সংস্থা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলে তা প্রত্যহ মেরামত করতে হবে। যেসব স্যুয়ারেজ লাইন বড়, সেখানে কাজ করতে হবে টানেলিংয়ের মাধ্যমে। কাজ করার সময় যতটুকু পাইপ বসানো যায়, ততটুকু খোলা রেখে কাজ করতে হবে।
৪. রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতের সময় বিটুমিন পোড়ানো হয় এবং পরে বালি দেয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় না। তাছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুদূষণ হ্রাস করা যায়। রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডারে মাটি উঁচু অবস্থায় থাকায় সেখান থেকে মাটি রাস্তায় চলে আসে। এক্ষেত্রে রাস্তার ডিভাইডারের মাটি সমান রেখে ঘাস লাগাতে হবে।
৫. পৌর বর্জ্যরে সঙ্গে গৃহস্থালি বর্জ্যও বায়ুদূষণ করছে। বর্জ্য কখনো খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না। বাড়ির আশপাশ বাড়ির মালিক নিজে পরিষ্কার করবেন। বাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা থাকলে জরিমানা করতে হবে। সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রণোদনা, শাস্তি ও ট্যাক্স রিবেট দিতে পারে। নালা-নর্দমার বর্জ্য-ময়লা শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে অপসারণ করতে হবে। সব ধরনের বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে পরিচালনা করতে হবে মোবাইল কোর্ট।
৬. সিটি করপোরেশন ইউটিলিটি সার্ভিসের কাজ শুরু করার আগে সার্ভিস চার্জ নিয়ে নেয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজ করার পর রাস্তা সময়মতো মেরামত করা হয় না। এক্ষেত্রে যিনি কাজ করবেন তাকে রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব দেয়া যায় কি না, বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগ পরীক্ষা করে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে রাস্তা মেরামতের মান যথাযথ হয়েছে কি না তা সিটি করপোরেশন তদারকি করবে।
৭. বড় বড় প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমে ঠিকাদারকে আরোপিত শর্ত পূরণ করতে হবে। তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। সব টেন্ডার ডকুমেন্টে বায়ুদূষণ রোধ বা হ্রাসের কার্যক্রমের অংশ থাকতে হবে।
৮. ঝাড়– দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করায় ধূলাবালি বেশি পরিমাণে ছড়ায়। সিটি করপোরেশন এক্ষেত্রে আধুনিক সুইপিং মেশিন ব্যবহার করতে পারে।
৯. ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় রাজউক বায়ুদূষণ রোধ ও হ্রাসের বিষয়ে শর্তারোপ করবে। এতে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক ও ঠিকাদার কাজ করার সময় বায়দূষণের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।
১০. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ময়লা ও বর্জ্য রাস্তায় ফেলে ও পোড়ায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দূষণের বিষয়ে গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য নির্দেশনা দেয়া যায়।
১১. ছোট ছোট হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। এসব হাসপাতালের বর্জ্য রাস্তায় রাখায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মারাত্মক বায়ুদূষণ হচ্ছে। এজন্য বিদ্যমান আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে।
১২. যেখানে যানজট ও ধোঁয়া বেশি হয়, সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটানোর জন্য ফিক্সড স্প্রেয়ার বসানো যায়। সিটি করপোরেশন ওয়াসার সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করতে পারে। যারা নির্মাণকাজ করছে তাদেরও দিনে ন্যূনতম দুবার পানি স্প্রে করতে হবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগরীতে স্থাপিত অটো সিগন্যাল চালু রাখতে হবে।
১৩. পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি নির্মাণকাজে ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করতে হবে।

র‌্যাগিং বন্ধে কমিটি গঠনের নির্দেশ
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধে কমিটি ও স্কোয়াড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ১২ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
রুলে শিক্ষার্থীদের জীবন ও সম্মান রক্ষায় র‌্যাগিং বন্ধে নীতিমালা করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। পরে ইশরাত হাসান বলেন, তিন মাসের মধ্যে এ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ নেবে, র‌্যাগিং বন্ধে সুপারিশ করবে। আর স্কোয়াড র‌্যাগিং প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেবে বা প্রতিকার দেবে। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর র‌্যাগিং বন্ধ ও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।