খেলা

যে কারণে পাকিস্তানে খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
গত মাসখানেক ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর অনিশ্চিত ছিল। বাংলাদেশের তরফ থেকে বলা হচ্ছিল, নিরাপত্তার কারণে ক্রিকেটাররা পাকিস্তান সফরে যেতে চায় না। বিপরীতে পাকিস্তানের তরফে বলা হচ্ছিল, ভারতের বিরোধিতার কারণেই বাংলাদেশ পাকিস্তান সফরে আসতে চায় না। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি, ফোনালাপ করেও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। বলা যায়, সফর হওয়া-না-হওয়ার বিষয়টি পেন্ডুলামের মতো দুলছিল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে। পাকিস্তানও অনুরূপ বৈঠকে বসে। তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় একটি দেশে। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে ফল।
গত ১৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
দুবাইতে আইসিসি সভার সাইডলাইনে বিসিবি ও পিসিবি সভাপতি আলাদা বৈঠক করেন। পরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আরো দীর্ঘ বৈঠক হয়। এই বৈঠকে স্বয়ং আইসিসি সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর মধ্যস্থতা করেন বলে জানা গেছে। আর সেই বৈঠক শেষে দুই বোর্ডের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় যে, নির্ধারিত ১৮ জানুয়ারিই পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৩ দফায় শেষ হবে বাংলাদেশের এই পাকিস্তান সফর। ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই সফরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ৩টি টি-টোয়েন্টি, ১টি ওয়ানডে ও ২টি টেস্ট খেলবে।
প্রথম দফা সফরে বাংলাদেশের চাওয়া অনুযায়ী ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল। ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ৩টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে লাহোরে। এরপর বাংলাদেশ দল দেশে ফিরে আসবে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আবার যাবে তারা। ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টেস্ট। এরপর আবার দেশে ফিরবে বাংলাদেশ দল। পিএসএলের পর এপ্রিলে এই সফরের শেষ অংশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩ এপ্রিল ১টি ওয়ানডে খেলবে দুই দল। আর ৫ থেকে ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট।
এই সফর নিয়ে দুই পক্ষ এর আগে অনেকবার পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব দিয়েছে। বিসিবি বলেছিল, সরকার থেকে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সফর সংক্ষিপ্ত করার জন্য। খেলোয়াড়রাও তা-ই চান। বিসিবিই তাই প্রথমে ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলে ফিরে আসার প্রস্তাব দেয়।
এই সমঝোতা হয়ে যাওয়ার পর বিসিবির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমাদের অবস্থান বুঝতে পারার জন্য পিসিবিকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হবে। আমরা সন্তুষ্ট যে, দুই পক্ষ একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে। আর আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচির ব্যাপারে আমাদের যে দায় আছে, তা প্রকাশের এটা অসাধারণ একটা সুযোগ ছিল।’
পিসিবি সভাপতি এহসান মানি এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘আমি খুবই খুশি যে, আমরা সর্বসম্মতভাবে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। এটি ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং দুটি গর্বিত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের জন্য খুব ভালো সিদ্ধান্ত। আমি আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরকে দুটি দেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোয় তার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই।’
এই উপলক্ষে পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান বলেছেন, ‘এটা দুই বোর্ডের জন্যই উইন-উইন একটা অবস্থা করেছে। আমি এটা জানাতে পেরে খুশি যে এই সিরিজটাকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেটা কেটে গেছে। এখন আমরা মসৃণভাবে সিরিজটা আয়োজন করতে পারব। বাংলাদেশ ৩ দফায় ৩ বার পাকিস্তান সফরে আসবে। তাদেরকে এই স্বস্তি দেয়া উচিত যে, পাকিস্তান বিশ্বের আর যেকোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের মতোই নিরাপদ জায়গা।’

সফরসূচি
১ম দফা
তারিখ ম্যাচ ভেন্যু
২৪ জানুয়ারি প্রথম টি-টোয়েন্টি লাহোর
২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি লাহোর
২৭ জানুয়ারি তৃতীয় টি-টোয়েন্টি লাহোর

২য় দফা
৭-১১ ফেব্রুয়ারি ১ম টেস্ট রাওয়ালপিন্ডি
৩য় দফা
৩ এপ্রিল ওয়ানডে করাচি
৫-৯ এপ্রিল ২য় টেস্ট করাচি

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খেলার জন্য ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। ১৭ জানুয়ারি পাকিস্তান তার স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ দলে স্থান পেলেন যারা
মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, মোস্তাফিজ, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন, রুবেল ও হাসান মাহমুদ।

পাকিস্তান দলে স্থান পেলেন যারা
বাবর আজম (অধিনায়ক), আহসান আলি, আহমাদ বাট, হারিস রউফ, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুসা খান, শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক ও উসমান কাদির।