কলাম

রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে হবে

বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কয়টি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বর্তমানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, এটা এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। আর এই সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স।
প্রতি বছর লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। সেখানকার ভিন্ন পরিবেশে কষ্টকর জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। বিদেশে নির্মাণশিল্প থেকে শুরু করে কৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থানে দিনরাত পরিশ্রম করে হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তারা। আর এই রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করছে।
ইতঃপূর্বে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে গিয়েও বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতো। কিন্তু বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রাপককে ২% প্রণোদনা দেয়ার ফলে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়তে থাকে। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে মাত্র ১৫ দিনে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।
এখন বলার সময় এসেছে যে, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে হলে ২% প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই দক্ষ শ্রমিক তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারের দিকেও তাকাতে হবে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা-র সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন করে সরকারের শক্তিশালী ভূমিকাই জনশক্তি রপ্তানি খাতকে আরো গতিশীল করতে পারে। জনসংখ্যা রপ্তানি কিভাবে বাড়ানো যায়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে তা নতুন করে ভাবতে হবে এবং যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কারিগরি শিক্ষাপ্রাপ্ত ও কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তিকে কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশি হারে রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো গেলে এ খাতের আয় বহু গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য আমাদের বহির্বিশ্বে নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। তাছাড়া বর্তমান বিশ্বে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট আন্তর্জাতিক মানের চাকরি করার যোগ্যতা রাখে। ফলে আগামীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষিত জনশক্তিরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। সেই চাহিদা পূরণে এখনই আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। জনশক্তি রপ্তানি খাতটি এখনো বলতে গেলে অনেকটাই বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদেশ গমনকারীদের যেমন বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তেমনি নানাভাবে প্রতারিতও হতে হচ্ছে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ তদারকির মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করা গেলে এ সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে বলে আমরা মনে করি।