খেলা

প্রথম দফায় পাকিস্তান থেকে শূন্য হাতে ফিরলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাকিস্তান সফর নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর এক সময় বাতিল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, একনাগাড়ে প্রায় ২ মাস অবস্থান না করে তিন দফায় পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
এর মধ্যে প্রথম দফার সফর শেষে ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরেছে মাহমুদুল্লাহ-তামিমরা। প্রথম দফায় ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে মাহমুদুল্লাহর দল। প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচ ৫ উইকেটে এবং দ্বিতীয়টিতে ৯ উইকেটে জয় পায় পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে হোয়াইট ওয়াশ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ।
গত ২২ জানুয়ারি ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে রওনা হয়েছিল বাংলাদেশ দল। ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ৩টি টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলে টাইগাররা। সূচি অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি দেশের ফেরার কথা ছিল বাংলাদেশের।
কিন্তু পাকিস্তানে অতিরিক্ত নিরাপত্তায় দেশের ফেরার সূচি এগিয়ে নিয়ে আসে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই ২৭ জানুয়ারি তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পরপরই ঢাকার উদ্দেশে লাহোর ছাড়ে জাতীয় ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় মাহমুদুল্লাহর দল।
সিরিজ শুরুর আগে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা দেয়া হবে। এ জন্য ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিয়োগও দেয় তারা। তাই হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে কড়া নিরাপত্তায় ছিল বাংলাদেশ দল। বলতে গেলে, বন্দিজীবনই কাটিয়েছে মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
প্রথম দফা শেষে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আবারো পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দফায় একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে যা শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
পাকিস্তান সফরে তৃতীয় ও শেষ দফায় একটি করে ওয়ানডে ও টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। টেস্টটি হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দু’টি টেস্টই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় দফায় ওয়ানডে দিয়ে সফর শুরু করবে বাংলাদেশ। করাচিতে ৩ এপ্রিল হবে সিরিজের একমাত্র ওয়ানডে। ওয়ানডে শেষে ৫ এপ্রিল থেকে করাচিতেই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

সর্বোচ্চ রান তামিমের
স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। ফলে শূন্য হাতেই দেশে ফিরতে হলো বাংলাদেশ দলকে। তবে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ২ ইনিংসে ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১০৪ রান করেছেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে ৩৯ রান করেন তামিম। দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে বড় ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৫৩ বলে ৬৫ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান।
তামিমের পরের স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ। ২ ইনিংসে ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮৪ রান করেন তিনি।
টি-টুয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষ পাঁচের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে তামিম ছাড়া আছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। ২ ইনিংসে ৪৩ রান করেছেন তিনি।

সর্বাধিক উইকেট বাংলাদেশের শফিউলের
তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে সফরকারী বাংলাদেশ। হারলেও সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। বোলারদের তালিকাতেও উইকেট শিকারে সবার উপরে আছেন বাংলাদেশের পেসার শফিউল ইসলাম। ২ ইনিংসে ৩ উইকেট শিকার করেছেন এই ডান-হাতি পেসার। বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার আল-আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টুয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শীর্ষ ৫ ব্যাটসম্যান
ব্যাটসম্যান ম্যাচ ইনিংস রান গড় ১০০ ৫০
তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ) ২ ২ ১০৪ ৫২.০০ ০ ১
মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান) ২ ২ ৮৪ ৮৪.০০ ০ ১
বাবর আজম (পাকিস্তান) ২ ২ ৬৬ ৬৬.০০ ০ ১
শোয়েব মালিক (পাকিস্তান) ২ ২ ৫৮ ২৫.৪ ০ ১
মোহাম্মদ নাইম (বাংলাদেশ) ২ ২ ৪৩ ২১.৫০ ০ ০