কলাম

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রভাবশালী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা করা উচিত

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে সরকার। ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশনও (ইউজিসি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ৪টি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি, চবি, রাবি, জাবি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাড়া অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ৪টি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটকে বাদ দিয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া উচিত। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তির নিরসন হবে এবং অর্থের সাশ্রয় ঘটবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ ও খরচ কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়ার কথা আলোচনায় এলেও অনেকের অসহযোগিতার কারণে অতীতে এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতিও একাধিকবার সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনারও সম্মতি রয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে রাজি হওয়ার কথা বললেও পরে আবার নানা কারণ দেখিয়ে পিছিয়ে যায় প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। মূলত ভর্তি ফরম বিক্রি বাবদ মোটা অংকের আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়েই এই পদ্ধতিতে প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজি হতে চায় না। অবশ্য কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্বাতন্ত্র্যের কথা বলেও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে যায়। নানা চাপে একপর্যায়ে গত শিক্ষাবর্ষে দেশের ৭টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মেডিকেল কলেজগুলোতে সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম বেশ কয়েক বছর ধরেই সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৭টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সকল মেডিকেল কলেজ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারলে সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুবিধা কোথায়? ভর্তি পরীক্ষা প্রভাবশালী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে; তাই বলে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হলেই যে সে আয় বন্ধ হয়ে যাবে, এমন তো নয়। আলোচনার মাধ্যমে আয় ভাগাভাগির বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে। তাছাড়া শিক্ষার চেয়ে বাণিজ্যটা বড় হতে পারে না।
তাই আমরা মনে করি, ইউজিসি এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক তথা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রভাবশালী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত। তাদেরকে মনে রাখতে হবে, তারাও রাষ্ট্র থেকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। তাই তাদেরকেও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।