প্রতিবেদন

এবার বেসরকারিভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বিএমইটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তি সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাকরির জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা রোধে নিবন্ধনের এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) এ কাজ করবে।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে বিদেশে লোক পাঠাতে হলে বিএমইটির নিবন্ধনভুক্তদের পাঠাতে হবে। এর ব্যতিক্রম করা যাবে না। বিদেশ যেতে কেউ যেন আর প্রতারিত না হন, তারই একটি পদক্ষেপ হিসেবে সকলের জন্য অনলাইন নিবন্ধন চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, দেশ থেকে যারা বিদেশে চাকরি করতে যায়, তাদের কোনো তথ্য সরকারের হাতে থাকে না। ফলে ওই কর্মী বিদেশে যাওয়ার সময় রিক্রুটিং এজেন্সির দ্বারা হয়রানির শিকার হলে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের তেমন কোনো উপায় থাকে না। তাছাড়া কর্মীটি বিদেশ যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশে যদি কোনো হয়রানির শিকার হয় বা কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় মারা যায়, তখন তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদিও পাওয়া যায় না। সরকার মনে করছে, কাজের জন্য যে-ই বিদেশে যাক, তা সরকারিভাবে হোক বা বেসরকারিভাবেÑ কেন্দ্রীয়ভাবে তার একটা ডক্যুমেন্টস থাকা প্রয়োজন। আর সে জন্যই বিদেশে গমনেচ্ছুকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধন ছাড়া কাজের জন্য বিদেশে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। তবে ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যারা বিদেশ যাবে, তারা নিবন্ধনের আওতায় পড়বে না।
বিদেশ যেতে আগ্রহীদের দেশব্যাপী নিবন্ধন শুরু হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যাংকে এ নিবন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক দক্ষ, স্বল্প দক্ষ, অদক্ষ ও পেশাজীবী নারী-পুরুষ অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। আগ্রহীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে (বিকাশ/নগদ/শিওরক্যাশ/রকেট) ২০০ টাকা পাঠিয়ে এ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।
জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বছরে প্রতি উপজেলা থেকে ১ হাজার কর্মীকে বিদেশ পাঠানোর কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী বিদেশে কর্মী পাঠাতে গত বছরের ১ আগস্ট ঢাকা জেলায় নিবন্ধন শুরু হয়। পরে ২৭ অক্টোবর শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার নিবন্ধন। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বাকি ৬১ জেলার নিবন্ধন শুরু হয়।
নিবন্ধনকারীর যোগ্যতা হিসেবে কর্মীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব হতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী হিসেবে যেতে ইচ্ছুকদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। নিবন্ধনকারীর অন্তত ৬ মাসের বৈধ পাসপোর্ট এবং নিজস্ব মোবাইল ফোন থাকতে হবে। নিবন্ধনের আপডেট তথ্য মাঝে মাঝে তাকে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, এই নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই নিবন্ধন শুরুর পর যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দপ্তর বা কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। নিবন্ধনের সময় তাদের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা সনদ ডেটা ব্যাংকে সংযোজন করতে হবে। এ নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ২ বছর। তাই এ সময়ের মধ্যে কোনো যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা অর্জিত হলে তা ডেটা ব্যাংকে সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধনকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মী পাঠাতে সহায়তা করবে। তবে ডেটা ব্যাংকে নিবন্ধন কোনোভাবেই নিবন্ধনকারীর বিদেশ যাওয়া নিশ্চিত করবে না।
আরো জানা গেছে, বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বৈদেশিক চাকুরির জন্য আগ্রহী পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দমতো বিভিন্ন পেশায় বুয়েটের সহায়তায় ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে এই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। যেকোনো দেশের জন্য এই রেজিস্ট্রেশন প্রযোজ্য হবে, তবে প্রার্থী তার পছন্দের তালিকায় সর্বাধিক ৭টি দেশে অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থী সর্বমোট ২০০ এর অধিক ট্রেড/পেশা হতে এক বা একাধিক ট্রেড পছন্দ করতে পারবেন। তবে যারা ট্রেড বা পেশায় দক্ষতা নেই তারা সাধারণ কর্মী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
ইউএনডিপি ও ইউএসএআইডি এর কারিগরি সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এ টু আই) প্রোগ্রাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে স্থাপিত সকল ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি), সিটি করপোরেশনের অধীন ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থাপিত নগর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (পিআইএসসি) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনস্থ ৬৪ জেলায় অবস্থিত জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (ডিইএমও) স্ব স্ব জেলার প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও জর্ডানে গমনের জন্য যে সকল পুরুষ ও নারী রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারাও বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ/আধা দক্ষ/অদক্ষ/ট্রেডভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
যেকোনো তথ্য জানার জন্য নিম্নবর্ণিত টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কন্ট্রোল রুমের ৮৩২৩০০৪, ৮৩২২৯৪৬, ৮৩১৯৩২২, ৮৩১৭৫১১ টেলিফোন নম্বরে সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যাবে।
নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের কল সেন্টারের টেলিফোন নম্বর: ০৯৬১২০১৬৩৪৫-এ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যাবে।