রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন এবং ৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৬ ফেব্রুয়ারি এই তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে একই দিনে ভোট হবে আগামী ২১ মার্চ।
ঢাকা-১০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট হলেও অন্য দুই সংসদীয় আসনে পুরনো পদ্ধতি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি, যাচাই-বাছাই ২৩ ফেব্রুয়ারি, আপিল দায়ের ২৪-২৬ ফেব্রুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি ২৮ ফেব্রুয়ারি, প্রত্যাহার ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ১ মার্চ এবং ভোটগ্রহণ করা হবে ২১ মার্চ।
অপরদিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসন এবং ২১ জানুয়ারি যশোর-৬ আসনটি শূন্য হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে বগুড়া-১ আসনে ১৬ এপ্রিল এবং যশোর-৬ আসনে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে।
এদিকে শূন্য হওয়া ৫টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। ৫ ফেব্রুয়ারি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠকে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা যায়, স্থায়ী কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করে বলেছেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করেছে। আর নির্বাচন কমিশন গভীর রাতে মনগড়া ফল ঘোষণা করে নৌকা প্রতীকের দুই মেয়রপ্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় স্থায়ী কমিটির একটি অংশ মনে করে, এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে নির্বাচনই হোক, তাতে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
তবে স্থায়ী কমিটির আরেক অংশ মনে করে, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে স্থায়ী কমিটির এই অংশটি। তাদের যুক্তি হলো নিরপেক্ষ ভোট না হলে তার দায়ভার পড়বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। জনগণের চূড়ান্ত বিচারে এটি সরকার ও ইসি’র বিপক্ষেই যাবে।
তবে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হলেও দলটি এর রাজনৈতিক সুবিধাও বিবেচনা করছে। ডিসিসি নির্বাচনে বিএনপি যে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, তা কাজে লাগাতে চাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে। এসব সুবিধার অন্যতম হলো দল হিসেবে বিএনপির জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ, দলটির প্রতীক ধানের শীষের অবাধ প্রদর্শন, দলটির নেতাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ এবং দলীয়প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরার সুযোগ।
তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এসব সুযোগ হারাতে চাইবে না। বিশেষ করে ডিসিসি নির্বাচন উপলক্ষে দলটির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার থেকে বাদ ছিলেন। নির্বাচন উপলক্ষেই সরকার এই স্পেসটি তাদের দিয়েছে। ফলে তারা নির্বিঘেœ নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক মেনিফেস্টোও জনগণের সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন। এই সুযোগটি হারাতে চাইবেন না বলেই তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে দূরে থাকবেন না।
তাই সরকারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সরকার ও ইসির সমালোচনা করে উপরে উপরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবে। এ জন্য তারা গোপনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করছে। চট্টগ্রাম নগরবাসীর ধারণা, বিএনপি ঢাকার মতো চসিক নির্বাচনেও অংশ নেবে। সেক্ষেত্রে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নামটি সর্বাগ্রে যে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল ভিন্ন কাউকে প্রার্থী দিয়ে চমক সৃষ্টি করলেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। এক্ষেত্রে মহানগর নেতা আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় নেতা আসলাম চৌধুরীর নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। এছাড়া আপাদমস্তক আওয়ামী পরিবারের সদস্য হয়েও ২০১০ সালে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন এম মনজুর আলম। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মনজুর আলম বিজয়ীও হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে মনজুর আলম পুনরায় বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। আসন্ন চসিক নির্বাচনে তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে। অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলতে কিছু নেই, সে হিসেবে মনজুর আলমকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
অপরদিকে ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে চমক দিতে চায়। এই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান সিদ্দিক ববি ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিএনপিও একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর কথা ভেবে রেখেছে। অনেকে বলছেন, এই আসনে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।