প্রতিবেদন

ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের ২০১৯-২০ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : দেশে-বিদেশে শান্তি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৯ ফেব্রুয়ারি মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ২০১৯-২০ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী কোর্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্র্যাজুয়েশন করা অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ডেন্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২৫ জন, নৌবাহিনীর ৩৪ জন এবং বিমান বাহিনীর ২২ জন ছাড়াও ২১ দেশ থেকে আগত ৫৪ জন বিদেশি অফিসারসহ মোট ২৩৫ জন শিক্ষার্থী এ বছর এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যপর্যায়ের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কমান্ড স্টাফ হিসেবে ভবিষ্যতের গুরুদায়িত্ব পালনে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজে সেনাবাহিনীর ৪৪টি, নৌবাহিনীর ৩৮টি এবং বিমান বাহিনীর ৪০টি স্টাফ কোর্সে ৫ হাজার ২৫৩ জন সাফল্যের সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে ৪২টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ১ হাজার ১৬৫ জন অফিসারও এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন।
এবার গ্র্যাজুয়েশন করা ৫৪ জন বিদেশি অফিসার যে ২১টি দেশ থেকে এসেছেন সে দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সিয়েরা লিয়ন, দক্ষিণ আফ্র্রিকা, শ্রীলঙ্কা, সুদান, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা ও জাম্বিয়া।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসওসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে যেন তাল মিলিয়ে চলতে পারে তেমনই একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার তরুণদের মেধা, জ্ঞান এবং শক্তি দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সশস্ত্র বাহিনীকে এমনভাবে উন্নত করতে চাই যাতে তারা যেকোনো দেশে যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তি রক্ষায় কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর যেখানে কাজ করেছে সেখানেই সুনাম অর্জন করেছে। মানবিক সেবা দিয়ে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মানুষের হৃদয় জয় করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।’
সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা একটি আধুনিক সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লার সামরিক একাডেমিতে প্রথম শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রদত্ত জাতির পিতার ভাষণের কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পেলে আমাদের ছেলেরা যেকোনো দেশের যেকোনো সৈনিকের সাথে মোকাবিলা করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, আমরা এমন একটি একাডেমি সৃষ্টি করব, সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের এই একাডেমি দেখতে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে জাতির পিতার সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’
১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে অনেকটা ছোট পরিসরে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করলেও তা বর্তমানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শুরু করলে যে পারা যায়, আমরা তা প্রমাণ করেছি।’
প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আধুনিক সাজসরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণসহ সর্বক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি করতে পেরেছে। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা যে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করে যান, সে আলোকেই সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আপনারাও (বিদেশি শিক্ষার্থী) আমাদের বন্ধু হিসেবে থাকবেন এবং সেদেশে বাংলাদেশের একজন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।