প্রতিবেদন

ঢাকা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়

এম নিজাম উদ্দিন : ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক নৌকা এবং বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষের ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থী। ঢাকাকে ভেঙে দুইটি সিটি করপোরেশন করার পর এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ঢাকা উত্তরে আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জয়লাভ করেছেন। দেশে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এবং ভোটের আগে ও পরে নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকায় ভোটাররা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে ডিসিসিতে নৌকা প্রতীকের বিজয়কে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়নের পক্ষে রায়’ বলে জানিয়েছেন জয়ী দুই প্রার্থী।
উত্তর সিটিতে এবার ভোটার ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন।
ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে এবার ভোট পড়েছে গড়ে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে উত্তরে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ ও দক্ষিণে ২৯ দশমিক ০০২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
দক্ষিণে মোট ১ হাজার ১৫০ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিজয়ী মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট। অন্যদিকে উত্তরে মোট ১ হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিজয়ী মেয়র আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তাবিথ আউয়াল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট।
উত্তরের অন্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল (কাস্তে) পেয়েছেন ১৫ হাজার ১২২, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান (বাঘ) পেয়েছেন ২ হাজার ১১১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (হাতপাখা) পেয়েছেন ২৮ হাজার ২০০ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৩ ভোট।
দক্ষিণের অন্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলন (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩, ইসলামী আন্দোলনের আবদুর রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫২৫, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) বাহরানে সুলতান বাহার (আম) পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতার-উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ (ডাব) পেয়েছেন ২ হাজার ৪২১ এবং গণফ্রন্টের আবদুস সামাদ সুজন (মাছ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৪ প্রার্থীর মধ্যেই মেয়র পদের লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। নির্বাচনে উত্তর সিটিতে ৬ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৭ জন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দুটি প্রধান দলের প্রার্থীরা ছুটেছিলেন ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে।
উত্তর সিটির ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ১৮টি নারী কাউন্সিলর, দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ২৫টি নারী কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেশিরভাগ সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। তবে উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে মোট ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত কোনো প্রার্থী জয়লাভ করেননি। ভোটের আগে দক্ষিণ সিটির ৪ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
ভোট নিয়ে শঙ্কা বা উৎকণ্ঠা থাকলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ইভিএমে ভোটাররা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানান তিনি। যদিও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারের কম উপস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী।
সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবু দুই সিটি নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ৪৫টি ঘটনার তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের মনিটরিং সেল। এসব ঘটনার তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করেছেন। এবারই প্রথম বড় কোনো নির্বাচনে সহিংসতার কারণে কোনো ভোটকেন্দ্র বন্ধ করতে হয়নি।
এই সিটি নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন ৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৭৪ জন প্রতিনিধি। এছাড়া সহস্রাধিক দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।

উন্নত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তাপস-আতিকের
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের দুই মেয়র বলেছেন, মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকাবাসীকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি তারা বাস্তবায়ন করবেন। গড়বেন আধুনিক ও উন্নত ঢাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য ইসিকে ধন্যবাদ জানাই। এর পাশাপাশি ঢাকাবাসীকেও ধন্যবাদ জানাব, তারা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আমি আশাবাদী, আমরা উন্নত ঢাকা গড়ার যে রূপরেখা দিয়েছি সেটা ঢাকাবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে এবং তারই প্রতিফলন হিসেবে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে সেবক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ঢাকাবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করব।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা অংশগ্রহণমূলক ভোট হয়েছে। আমি আরো মনে করি, আওয়ামী লীগ এমন একটা দল, যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তাই নৌকা জিতেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোটারদের দেয়া সব প্রতিশ্রুতি একে একে বাস্তবায়ন করব।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তাপস ও আতিক
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের বিজয়ী মেয়র প্রার্থীদ্বয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গণভবনে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনাও তাপস ও আতিককে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইভিএমের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করায় নগরবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নগরবাসী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে পুনরায় তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। এ বিজয় দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের অভিনন্দন জানান।

দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া
সিটি নির্বাচন শতভাগ শান্তিপূর্ণ
দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রায় শতভাগ শান্তিপূর্ণ হয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের কোন্দলের মাঝে পড়ে আহত হয়েছেন এক সাংবাদিক। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, হাতাহাতি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫। নয়াপল্টনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে মারধরের ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আহত সাংবাদিককে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীও সাংবাদিক মারধরের ঘটনা তদন্ত করার এবং হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
সাংবাদিক মারধরের এই ঘটনা ছাড়া অনেকটাই শান্তিপূর্ণ হয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচন এতটাই শান্তিপূর্ণ ছিল যে, অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে কোনো কেন্দ্রেরই ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে হয়নি।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মিলে মোট ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। দুই সিটিতে গড়ে ভোট পড়ে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা নিয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচন-পরবর্তী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীদের আগ্রহ কমে যাওয়াটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান
করে বিএনপির হরতাল
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। বিএনপির এই হরতাল কর্মসূচিতে সমর্থন দেয় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ওই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের শুরু থেকে টানা ৩ মাস হরতাল-অবরোধ করে। এরপর এই প্রথম হরতাল ডাকল দলটি। ৫ বছর আগের ওই আন্দোলনের সময় বাসে আগুন ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপসহ নাশকতার নানা ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
৫ বছর পর ডাকা ২ ফেব্রুয়ারির হরতাল ছিল শান্তিপূর্ণ। বাসে আগুন ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই এ হরতালে কোনো সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। এমনকি হরতালের দিন ঢাকার জনজীবন খুবই স্বাভাবিক ছিল এবং রাস্তাঘাটে অন্যান্য দিনের মতোই যানজট দেখা যায়।

ঢাকাবাসীকে আওয়ামী লীগের ধন্যবাদ
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ঢাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, ভরাডুবি নিশ্চিত জেনেই বিএনপি ভোট কেন্দ্রে অনুপস্থিত থেকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সকল কাল্পনিক অভিযোগ শুধু মিথ্যাচারই নয়, পরিকল্পিত ও বিভ্রান্তিকর বলেও প্রমাণ হয়েছে। উত্থাপিত কাল্পনিক অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না বলেই তারা আত্মগোপন করেছে। বিএনপি তাদের ভরাডুবি বুঝতে পেরেই তাদের পক্ষে কিছু যুক্তি দাঁড় করতেই ভোট কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিল। সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আগে থেকেই অনেক কথা বলেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত ধৈর্য ধরে
ছিল, যে কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে।

ঢাকাবাসীকে নবনির্বাচিত দুই
মেয়রের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা
উন্নত ঢাকা গড়ার পক্ষে যে রায় ঢাকাবাসী দিয়েছেন, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত দুই মেয়র। ২ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের মাধ্যমে পৃথকভাবে ঢাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান নবনির্বাচিত ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
রাজধানীর ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া ও উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এ রায় ঢাকাবাসীর বিজয়। আমি এ বিজয় ঢাকাবাসীর জন্য উৎসর্গ করছি।
পরাজিত প্রার্থীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাপস বলেন, যিনি পরাজিত হয়েছেন তার প্রতিও আমার সমবেদনা রইল। আমি আশা করি, উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে তিনিও আমাদের সহযোগিতা করবেন। কারও প্রতি আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। ঢাকার উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমরা কাজ করব।
এদিকে রাজধানীর বনানীতে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, গত ৯ মাস অনুশীলন করেছি। এতদিন একটি সুযোগ চেয়েছিলাম। নগরবাসী আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। সে জন্য তাদের ধন্যবাদ। বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের নিয়ে নগরের সমস্যা দূর করব। এটি একলা চলার পথ না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধান করব। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়াও নতুন ১৮ ওয়ার্ড নিয়েও কাজ করা হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করব।