প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখেন দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ: রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ আস্থা রাখেন বলে রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির কর্মকা-ে সন্তুষ্ট মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ। আর আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর সন্তুষ্ট ৮৫ ভাগ মানুষ।
২৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল জরিপের এ ফল প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দৈবচয়ন পদ্ধতিতে মোবাইল কলের মাধ্যমে এ জরিপ করা হয়। এতে অংশ নেন ২ হাজার ২৬৬ জন। তবে কল করা হয় ৮ হাজার ৩৯ জনকে। এর মধ্যে কল ধরেন ৫ হাজার ৪২৯ জন। যারা কল ধরেন তাদের মধ্যে মতামত দেন ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ।
রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১ বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাত্র ৩ শতাংশ।
গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ভাষণে দেশবাসীকে তার ওপর আস্থা রাখতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখেন। মাত্র ৩ শতাংশ আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ১১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।
জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে আলোচনা করতে চাননি। ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাত্র ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রম সন্তোষজনক দাবি করেছেন।
এছাড়া এরশাদের জাতীয় পার্টির ব্যাপারে উত্তরদাতাদের মধ্যে আগ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে।
জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিরোধী দল থাকার প্রয়োজন নেই। ২০ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগকে প্রাধান্য দিয়ে ২০ হাজার নারী-পুরুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। ৮ হাজার ৩৯ জন মোবাইল ব্যবহারকারীকে টেলিফোন করলে জরিপে ৫ হাজার ৪২৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৬৬ জন অর্থাৎ ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত দেন। ১০ জন রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট সরাসরি জরিপে অংশ নেন। এ তথ্য সংগ্রহ করে জরিপকারীদের ১৮টি প্রশ্ন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মিল্টন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও গবেষক কাজী আহমদ পারভেজ, বিইউপি ও বাউস্টের খ-কালীন শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ আস্থা রাখেন এ জন্যই যে, তিনি তার শাসনকালে এমন কিছু করেছেন ও করছেন, যা মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। যেমন পদ্মাসেতু। এ যেন স্বপ্নের মতো। কেউ ভাবেনি। বিরোধীরা নেতিবাচক তালি বাজাতে চেয়েছে। ড. মুহম্মদ ইউনূসও নাকি নেতিবাচক ছিলেন এই ব্যাপারে। বহুমুখী বিরোধিতা ছিল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাও ছিলেন নিরাশ। হাল ছাড়েননি একজন। তিনি শেখ হাসিনা। বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবেন। করে ছাড়ছেন। পদ্মাসেতুর অর্ধেকের বেশি এখন দৃশ্যমান। এই সংকল্প, উন্নয়নের জন্য এমন অদম্য মনোভাব বাংলাদেশের আর কোনো নেতৃত্বের মধ্যে নেই। এ কারণেই শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের বিচারের চেয়েও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার কাজটি ছিল কঠিন। অনেক প্রতিবন্ধকতা, দেশি-বিদেশি হুমকি-ধামকি ছিল। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকেই ভাবতে পারেননি যে সত্যি সত্যি যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে। হয়েছে, হচ্ছে। কারণ শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাব। এ ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সারাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে, এখন সেটি ৮ শতাংশ ছুঁই ছুঁই।
নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। স্কুল-কলেজে নারী শিক্ষার্থী ৫০ শতাংশের ওপরে। গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। জঙ্গি দমনে সরকার ও আওয়ামী লীগের শতভাগ আন্তরিকতায় বহির্বিশ্বও সন্তুষ্ট।
দারিদ্র্য দূরীকরণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আজ বিশ্বমডেল। বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীনের প্রেসিডেন্ট এসে বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে গেছেন। এক সময়ের বিভ্রান্ত বিশ্বব্যাংক ভুরু কুঁচকে থাকার পর এখন বাংলাদেশের প্রশংসায় গলা ফাটাচ্ছে। বিনা আমন্ত্রণে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে দারুণ এক বার্তা দিয়েছিলেন। বোঝালেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুল ভেঙেছে। সঠিক পথেই এগুচ্ছেন শেখ হাসিনা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার দিয়েছে জাতিসংঘ। ওই সংস্থাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ দিয়ে বাংলাদেশকে অনুকরণের কথা বলছে অন্য দেশগুলোকে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিম্ন আয়ের বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক স্বীকৃতি মিলেছে উন্নয়নশীল দেশের। আমাদের মাথাপিছু আয় বছরে প্রায় ২ হাজার ডলার। এমন অসংখ্য অর্জন বাংলাদেশের হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
এসব বিবেচনায় শেখ হাসিনার ওপর ৮৬ শতাংশ মানুষের আস্থা বিষয়ে রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের জরিপকে সময়োচিত ও সঠিক বলছেন অনেকে।