কলাম

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশে জনগণের সার্বভৌমত্ব

অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
‘বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা’ একটি ধ্বংসস্তূপ আকারে, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অপার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একটি দেশকে জনগণের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। বিজয় অর্জিত হওয়ার মাত্র ১ বছরের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়; শত ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশ গড়ার কাজ দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যেতে থাকে; ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছার কারণে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সৈন্যদের বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়; পাকিস্তানি বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভারতে আশ্রয় নেয়া ১ কোটিরও বেশি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়; নতুন সংবিধানের অধীনে ১৯৭৩ সালের মার্চে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; সমুদ্রবন্দর, রেল যোগাযোগ, সেতু, কালভার্ট, প্রভৃতি ২ বছরের কম সময়ের মধ্যে পুনর্গঠন এবং অবকাঠামো পুনর্বাসন করা হয়; সমাজ উন্নয়নের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের অর্থনৈতিক মুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকা-ের কারণে মানুষের মনে ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হতে থাকে। শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসন পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব যখন ইতিবাচকভাবে পূর্ণ মাত্রায় ক্রিয়াশীল ছিল সেই পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করা হয়েছিল।
রক্তার্জিত স্বাধীনতার মাত্র প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর হত্যাকা- ঘটিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্তব্ধ করে দেয়ার অপচেষ্টার পর থেকে জনগণের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কীয় আলোচনার প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ অবহেলার পুনঃআবির্ভাব লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের সার্বভৌমত্বের ক্রিয়াশীলতার কারণে ইনডেমনিটি আইন বাতিল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকর হচ্ছে। কয়েকজন খুনি এখনো বিদেশে পলাতক আছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার সেই পলাতক খুনিদের ধরে এনে বিচারের রায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
তবে বঙ্গবন্ধু তথা জনগণের সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীককে হত্যার জন্য আদর্শিকভাবে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তদন্ত করে এসব ষড়যন্ত্রকারীকে ধরে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
একইভাবে বাংলাদেশের ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের’ ক্রিয়াশীলতার প্রভাবে জাতীয় শোক দিবসকে ‘জন্ম দিন’ হিসেবে পালন করার প্রহসন ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের’ ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। পাশাপাশি ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটকারী যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচারও চলছে।
বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসব কর্মকা- প্রকৃতপক্ষে জনগণের সার্বভৌমত্বের’ ক্রিয়াশীলতার লক্ষণ। শুধু তাই নয়, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন ধর্মীয় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে আছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নীত হওয়ার কারণে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার জন্য যে ৩টি শর্ত বা মানদ- পূরণ করা প্রয়োজন বাংলাদেশ তার সবগুলোই অর্জন করেছে। এই ৩টি শর্ত বা মানদ- হচ্ছে, মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়; মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক। জাতিসংঘের স্বীকৃতি বাংলাদেশকে এলডিসি পর্যায় থেকে উন্নীত হওয়ার সুযোগ দেবে এবং এ যোগ্যতা জাতিসংঘের একই কমিটি দ্বারা আরো দু’টো পর্যালোচনার মুখোমুখি হতে হবে Ñ একটি ২০২১ সালে, আরেকটি ২০২৪ সালে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী একটি দেশকে উন্নয়নশীল হওয়ার জন্য কিছু বিষয় অর্জন করতে হয়। এর জন্য মাথাপিছু জাতীয় আয় হওয়া উচিত ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) হওয়া উচিত কমপক্ষে ৬৪ পয়েন্ট, বর্তমানে বাংলাদেশের মানবসম্পদ সূচক (এইচ এ আই) ৭২ পয়েন্ট। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক ৩৫ হওয়া উচিত, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক আছে ৩৬।
বাংলাদেশ হচ্ছে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশ, যেটি এই ৩টি মানদ-েই উন্নয়নশীল পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বৈশি^কভাবে বাংলাদেশকে ‘অসম্ভবকে সম্ভব করার দেশ’ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশের সফলতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে।
২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুধা দূর করার যে বৈশি^ক কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে তার মূল (ফোকাল) দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বিশ^ ব্যাংকের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাট বলছেন, ‘অমধরহংঃ ধষষ ড়ফফং ইধহমষধফবংয যধং ষরভঃবফ ১৬ সরষষরড়হ ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ঁঃ ড়ভ ঢ়ড়াবৎঃু রহ ষধংঃ ১০ ুবধৎং ধহফ ধষংড় ৎবফঁপবফ রহবয়ঁধষরঃু ঃযধঃ রং ধ ৎধৎব ধহফ ৎবসধৎশধনষব ধপযরবাবসবহঃ’. অর্থাৎ বিগত ১০ বছরে (২০০৮-১৮) সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে, যা বিরল এক তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সফলতার সাথে অর্জন করার পর বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বিবরণ অনুযায়ী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ এড়ধষং) হচ্ছে সকলের জন্য অধিকতর উত্তম এবং আরও টেকসই ভবিষ্যৎ অর্জনের নকশা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্য, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, শান্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতি চ্যালেঞ্জসহ যেসব বৈশি^ক চ্যালেঞ্জের আমরা মুখোমুখি সেগুলোকে উদ্দেশ্য করে প্রণীত।
বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৮ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৮%, যা ২০১৭ সালে ছিল ২৪.৩%। অতি দারিদ্র্যের হার ২০১৭ সালে ছিল ১২.১%; যা ২০১০ সালে ছিল ১৭.৬% এবং ২০০০ সালে ছিল ৩৪.৩%। বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৩.৫%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করেছে। বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২০১৬ সালে ৩৩.৭%, যা ২০১৫ সালে ছিল ৩১.০%। বয়স্ক (১৫ বছর ও তার বেশি) সাক্ষরতার হার ২০১৭ সালে ৭২.৯%, যা ২০১৫ সালে ছিল ৬৪.৫%। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যালয়ে ভর্তিতে জেন্ডার সাম্য অর্জিত হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে শিশু এবং মাতৃমৃত্যুর হার অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুটিকয়েক দেশের একটি যেটি সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এবং কোনো কোনোটিতে লক্ষ্যমাত্রায় নির্ধারিত হারকেও ছাড়িয়ে গেছে (ঈযধঁফযঁৎু ২০১৯)।
২০১৫ সালের জুলাইয়ে বিশ^ ব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে বিশ^ ব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। ব্যবসাবাণিজ্য, ব্যাংকিং, ক্লিয়ারিং হাউস প্রভৃতিতে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, গ্রামীণ যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে। মোবাইল ফোন পরিষেবার ক্ষেত্রে ২জি প্রযুক্তি শতভাগ অর্জিত হয়েছে; ২০১৭ সালেই ৩জি প্রযুক্তির ২০২০ সালের মাইলস্টোন অর্জিত হয়েছে; ২০১৮ সালে ৪জি প্রযুক্তিতে প্রবেশ করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের এন্টারপ্রাইজগুলোসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে উচ্চতর উৎপাদনশীলতা অর্জনে এগুলো ঐতিহাসিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তান থেকে রক্তের বিনিময়ে আলাদা হওয়ার পরে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের টিকে থাকা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতেন। সেসময় এদেশকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের ভাষায় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জনগণের সার্বভৌমত্ব ফলপ্রসূভাবে তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্রিয়াশীল করতে পারার কারণে সেই বাংলাদেশ এখন তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করতে পেরেছে, যা অন্যদের অনুসরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর যখন তার দেশকে সুইডেনের মতো উন্নত করার সংকল্পের কথা ঘোষণা করেন তখন সে দেশেরই খ্যাতনামা সাংবাদিক জাইগাম খান টেলিভিশন টক শো-তে সুইডেন নয় বরঞ্চ বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। এই টক শো-তে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাইগাম খানের পরামর্শের সূত্র ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, উন্নয়নের বাংলাদেশ মডেল তিনি পাকিস্তানের সাথে শেয়ার করবেন কি না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাথে সাথে উত্তর দিয়েছেন, ‘কেন নয়? আমরা অবশ্যই তাদের (পাকিস্তান) সাহায্য করব যদি তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা চায়।’
ধর্মীয় উপনিবেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে এটিও লক্ষ্যণীয় যে জনগণের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কিত আলোচনা অবহেলিত। জনগণের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আলোচনার অবহেলা মানুষের মনে ধর্মীয় বিভেদ, আঞ্চলিক বিভেদ, সংকীর্ণতা, অপরাধপ্রবণতা, দুর্নীতিগ্রস্ততা প্রভৃতির জন্ম দেয়। অপরদিকে জনগণের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কীয় আলোচনা দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও ন্যায্যতার প্রতি আকর্ষণ প্রভৃতির জন্ম দিতে পারে। ক্ষতিকর মূল্যবোধ বিদায় করে মানবিকতা ও দেশপ্রেমের জন্য প্রয়োজনীয় ও সঠিক গুণাবলি মানুষের মধ্যে জাগ্রত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং এ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান সম্পর্কীয় আলোচনার গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রেক্ষিতে বর্তমান গবেষণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবস্থান এবং এই অবস্থান মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুসন্ধান করা।
Ñ(চলবে)
লেখক: চেয়ারম্যান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক
সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়