খেলা

ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়: ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০। বাংলাদেশের রেড লেটার্স ডে। দিনটি বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের দিন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অমরত্ব পাওয়া একটি দিন। ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ যুবারা এদিন বাংলাদেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদায় আসীন করে।
৪ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। এই জয়ের নায়ক আকবর আলী। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে অধিনায়কত্বের সেরা উদাহরণ দিয়ে ব্যাট হাতে দেশকে গৌরবময় বিজয়ের স্বাদ এনে দেন এই তরুণ। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে অভিবাসী বাংলাদেশি এবং ঢাকার রাজপথে হাজার হাজার বাংলাদেশির গগনবিদারি চিৎকার ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ’ এবং ‘ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ আকবর আলী’।
মুঘল সাম্রাজের অধিপতির সঙ্গে আকবর আলীর তুলনা করলে তাকে বলতে হবে ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাদশা আকবর’। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তার মাথায় উঠেছে বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট। পচেফস্ট্রুমের ফাইনালের দুঃসহ চাপে তিনি ভেঙে পড়েননি, দায়িত্বের গুরুভার কাঁধে নিয়ে ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছেন। ১৬ কোটি মানুষকে এনে দিয়েছেন প্রথম বিশ্বকাপ। তামিম, সাকিবরা যা কখনো এনে দিতে পারেননি, আকবর আলীর দল তা-ই এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে।
ভারতের দেয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামে বাংলাদেশ। দারুণ শুরুর পরও ১৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট খুইয়ে একটা সময় কঠিন হয়ে পড়েছিল জয়ের স্বপ্ন। সেখান থেকেই শুরু আকবরের লড়াই। ৭৭ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি। টানা ১১ ম্যাচ জয়ের রেলগাড়ি ছুটিয়ে ফাইনালে আসা ভারতকে হারের স্বাদ দিয়ে যেন অনেক জ্বালা জুড়াল বাংলাদেশ। অতীতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, ত্রিদেশীয় সিরিজসহ অনেক আসরেই বাংলাদেশের দুঃখ হয়ে দেখা দিয়েছিল এই ভারত। বড়রা না পারলেও ফাইনালের গেরো খুলে নতুন স্বপ্নে ভাসাল ছোটরা।
অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য, শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নের ট্রফিটি নিজেদের করে নেয়ায় বিশ্বজয়ী আকবর আলীরা অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র ক্রিকেটার, শোবিজ তারকারা অভিনন্দনে সিক্ত করেছেন তাদের।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করে বলেন, এই জয় দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সব সদস্য, কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
মুজিববর্ষের প্রাক্কালে এই জয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল, কোচ, ম্যানেজার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই খেলোয়াড়ি মনোভাব ধরে রেখে, এভাবেই ভবিষ্যতে আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে।’
উত্তরসূরিদের অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, তোমরা ভবিষ্যতের দিকে চোখ রাখো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ। বিশেষ করে আমার শহরের ছেলে অভিষেক দাস। এছাড়া রাকিবুল, শরীফুল, ইমন এবং দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফÑ সবাইকে অভিনন্দন। তুমি দুর্দান্ত আকবর আলী। শুধু আবেগটা ধরে রাখতে পারলেই হবে। কী অসাধারণ সাফল্য! বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য অনিন্দ্য সুন্দর মুহূর্ত।’
ফেসবুকে মুশফিকুর রহিম লিখেন, ‘এ অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সাফল্য। আলহামদুলিল্লাহ! কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমি বলে দিতে পারি, বাংলাদেশের ক্রিকেটার হিসেবে এটাই আমার জীবনের সেরা সাফল্য। এই ছেলেরা আমাকে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত করল। অভিনন্দন সুপারস্টাররা।’
এই জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন শোবিজ তারকারাও। নায়ক শাকিব খান লিখেছেন, ‘তরুণ টাইগাররা যেকোনো স্তরে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছে! এটি দুর্দান্ত, শ্বাসরুদ্ধকর, আশ্চর্যজনক।’
চিত্রনায়িকা বুবলি লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২০ চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশ যুব বাঘকে অনেক অনেক অভিনন্দন।’
উল্লেখ্য, এবারের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে মোট ১৬টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং ৪টি দেশ নিয়ে প্রতিটি গ্রুপ করা হয়। বাংলাদেশ গ্রুপের অপর ৩টি দেশ ছিল পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচের মধ্যে জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ এবং বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠে। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে যেকোনো বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। আর ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ।