কলাম

এসএসসি পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দায় এড়াতে পারেন না সংশ্লিষ্ট শিক্ষক: কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন

১০ বছর শিক্ষাগ্রহণ শেষে একজন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো যে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়, সেটি এসএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের আশা-ভরসা-স্বপ্ন। এসএসসির রেজাল্টের ওপরই শিক্ষার্থীরা কে কোন বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে, তা নির্ধারণ করে। ফলে এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে যদি কোনো পরীক্ষার্থী সমস্যার সম্মুখীন হয়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীটির পরবর্তী শিক্ষাজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এমন ক্ষতির মুখেই পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। অন্যান্য বছরের মতো এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তেমন জোরালো অভিযোগ না উঠলেও অনিয়মিতদের প্রশ্নে নিয়মিতদের পরীা, কেন্দ্রে কম প্রশ্ন পাঠানোর কারণে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে পরীা নেয়া, ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র রেখে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র এনে পরীা নেয়া, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার পর বাড়ি থেকে ডেকে এনে আবার পরীক্ষা নেয়া, এমনকি নির্ধারিত সময়ের পরে পরীা শুরু করার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভুল প্রশ্নপত্রে পরীা নেয়ার কারণে শিার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে এবং এমনটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অবশ্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, এসব কারণে শিার্থীরা কোনোভাবেই তিগ্রস্ত হবে না।
সত্যিকার অর্থেই শিার্থীরা যেন কোনো ধরনের তির শিকার না হয় এবং বাকি পরীাগুলোয় যাতে এমন অনিয়ম-অরাজকতা তৈরি না হয় সংশ্লিষ্টদের তা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত কয়েক বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই পরীা নেয়া অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। এবার অবশ্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ জোরালোভাবে আসেনি; যদিও পরীা শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে ফেসবুকে কথিত প্রশ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে পাওয়া ওই প্রশ্নের বহু নির্বাচনি অংশের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া না গেলেও সৃজনশীল প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতারা একেবারে দমে যায়নি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্টদের আরও যতœবান হতে হবে। অবশ্য নতুন শিামন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তারপরও দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে স্বীয় দায়িত্ব পালনে তিনি বরাবরই সক্রিয় তৎপরতা দেখাচ্ছেন।
আশার কথা, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডসমূহ ও সংশ্লিষ্টরা যথাযথ ভূমিকা নিয়েছে। তারপরও অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে অনাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে; যা আদৌ কাম্য নয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারেন না। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা হলেই কেবল দায়িত্ব পালনে ভবিষ্যতে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অধিক সতর্ক থাকবেন এবং কোনোরূপ অবহেলা করবেন না।