রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি ও সংসদের ৫ উপনির্বাচনে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ ফেব্রুয়ারি ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে একই দিনে ভোট হবে আগামী ২১ মার্চ। অপরদিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে শূন্য হওয়া ৫টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইস্যুতে বিএনপিতে প-েবিপে আলোচনা চলার প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, দলটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং ৫টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
এসব উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের নজর কাড়ার চেষ্টায় আছেন তারা। আলোচনায় আগের মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের পরিবারের এক বা একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। এছাড়া গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন নেতার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিশেষ অবদান রাখা কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামও রয়েছে আলোচনায়। জানা গেছে, এেেত্র জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা নেতারাই প্রাধান্য পাবেন।
সম্প্রতি ৪ জন সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় ৪ সংসদীয় আসন শূন্য হয়। সেগুলো হলো বগুড়া-১, যশোর-৬, গাইবান্ধা-৩ এবং বাগেরহাট-৪। এছাড়া ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ঢাকা-১০ আসন থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
এসব উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির। তিনি পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পাবেন Ñ এমনটি মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অপরদিকে শিা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম কোতোয়ালি আসনের এমপি ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন দলের উল্লেযোগ্য একটি অংশ। নওফেল এরই মধ্যে বলেছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যদি নির্দেশ দেন তবে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। নওফেল প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।
এছাড়া মেয়র পদে আরো ২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. রেজাউল করিম এবং চট্টগ্রাম দণি জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজন। এছাড়া ৯৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন।
ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নের জন্য দলীয় আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তার পে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নেত্রী মনোনয়ন দিলে আমরা জয়লাভ করে মুজিববর্ষের প্রথম উপহার দিতে চাই। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন, কিন্তু কোনো পদপদবি নেননি।
জানা গেছে, ঢাকা-১০ একটি ভিআইপি আসন হওয়ায় এখান থেকে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি’র মনোনয়নপত্র কেনার সম্ভাবনা আছে।
গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি ৮ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ইয়াকুবুল আজাদ, মাহমুদুল হক, এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী, মফিজুল হক সরকার, ফজলুল করিম, ওমর ফারুক ও আজিজার রহমান।
বাগেরহাট-৪ আসনে আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন ৪ জন। তারা হলেন এইচ এম মিজানুর রহমান জনি, আব্দুর রহিম খান, প্রবীর রঞ্জন হালদার ও আমিরুল আলম মিলন।
যশোর-৬ আসনে শেখ আব্দুর রফিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই আসন থেকে চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কথা রয়েছে।
বগুড়া-১ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
অপরদিকে জানা গেছে, সরকারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সরকার ও ইসির সমালোচনা করে মুখে মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবে। এ জন্য তারা গোপনে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করছে। সেেেত্র চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের নামটিই সর্বাগ্রে আছে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রোপটে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহল ভিন্ন কাউকে প্রার্থী দিয়ে চমক সৃষ্টি করলেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। এেেত্র মনজুর আলমের নামটি শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, মনজুর আলমের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিএনপির নোমান গ্রুপ কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডা. শাহাদাতের বিষয়েই কিয়ারেন্স দিয়েছেন।
কেউ কেউ বলছেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দ্বন্দ্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে তৃতীয় আরেকটি নাম বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সেই তৃতীয় জন হলেন আসলাম চৌধুরী।
ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে চমক দিতে চায়। এই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেভিওয়েট কাউকে মনোনয়ন দেবে ধরে নিয়ে বিএনপিও হেভিওয়েট প্রার্থী খোঁজার কাজে নেমেছে। অনেকে বলছেন, এই আসনে তারেক রহমানের স্ত্রী বা মেয়েকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি চমক দেখাতে চায়।
অপর ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।