প্রতিবেদন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিতের বদলে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত: এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে বড় ৩ ভার্সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী শিাবর্ষ থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশন (ইউজিসি)। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমন্বিত পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় রাজি না হওয়ায় কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। কিন্তু এরপরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পর ইউজিসিকে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে সমন্বিত ভর্তি পরীা পদ্ধতির জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আহ্বানে সাড়া দিয়ে এতে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সঙ্গত কারণেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনার্সভুক্ত কলেজগুলোতেও এখন থেকে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
১১ ফেব্রুয়ারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির ২৬২তম সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়।
ওই বৈঠকে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত না থাকার ফলে সমন্বিত বা কেন্দ্রীয় যেকোনো পদ্ধতির পরীাই হোক না কেন, এই ৩ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও থেকেই গেল।
উপাচার্য পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য জানানো হয়েছে, ২০২০-২১ শিাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তির জন্যও এ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা সম্পর্কে উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাবিতে আমরা ৩টি শাখায় (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়) ভর্তি পরীা নিয়ে থাকি। ঠিক তেমনি কেন্দ্রীয়ভাবে এ ভর্তি পরীা অনুষ্ঠিত হবে। এটি তদারকি করবে ইউজিসি। এ প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে। তবে যারা ইচ্ছুক না, তারা করবে না।
সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভর্তিচ্ছু শিার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাঘবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীা পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্যদের সভায় রাষ্ট্রপতির এ অভিপ্রায়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই এ পদ্ধতি অনুসরণে সম্মতি প্রকাশ করেন।
২০২০-২১ শিাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তির জন্যও এ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত চলতি শিাবর্ষ থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ১২ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সভায় উপস্থিত থাকলেও তাদের কেউ কেউ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা আইএলটিএস বা জিআরই-এর মতো হবে। এর মাধ্যমে শুধু একটি স্কোর দেয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক ফল প্রকাশের পরপরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত সময় অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীার আয়োজন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র শিকদের নিয়ে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার জন্য পৃথক পৃথক ৩টি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীা কমিটি গঠন করা হবে। ওই ৩ শাখায় ৩ দিন পৃথক পৃথক ভর্তি পরীা নেয়া হবে। ভর্তি পরীার ফল প্রদানের পর কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির কাজ শেষ হবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের একটি স্কোর করে দেয়া হবে। এই পরীায় প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে।
পরবর্তীতে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত পদ্ধতিতে (কিংবা যেভাবে তারা উপযুক্ত মনে করেন) তাদের নিজ নিজ প্রয়োজনীয় শর্তাবলি সংযোজন করে পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এবং নতুন করে আর পরীা না নিয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীায় প্রাপ্ত স্কোরকে বিবেচনা করেই ছাত্রছাত্রী ভর্তি করবে।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার জন্য প্রত্যেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীার কেন্দ্র থাকবে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী অভিন্ন প্রশ্নে পছন্দকৃত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীা দেবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি তাদের পরীা নেয়ার সামর্থ্যরে অতিরিক্ত আবেদন পায়, সে েেত্র মেধাক্রমানুযায়ী নিকটতম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পরীা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিল/ভর্তি কমিটি ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তারোপ করার সুযোগ পাবে।
এতদিন ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীার ধারণা নিয়ে এগুচ্ছিল। তবে উপাচার্য পরিষদের সভায় সমন্বিতের বদলে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার প্রস্তাব আসে। ১২ ফেব্রুয়ারির সভায় সেই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার ব্যাপারেই সবাই একমত হন। তবে সভায় কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তাদের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেেিত এই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীার ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মীজানুর রহমান। তিনি জানান, ভারতে এই পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা চালু রয়েছে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের যেহেতু নিজস্ব আইন আছে, তাই কেন্দ্রীয় ভর্তিতে প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ই যে যার ইচ্ছেমতো ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে শিার্থী ভর্তি করতে পারবে। এমনকি কেন্দ্রীয় পরীার বাইরে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়ও তারা অল্প হলেও একটা ফি নিতে পারবে।