প্রতিবেদন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

মাসুদ রানা
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীা নৈর্ব্যক্তিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীা পদ্ধতি লিখিত। পরীার বিষয়বস্তু বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পঠিত বিষয়াবলি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তাই সব বিষয়ের ওপর সমান গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে যে সমস্ত বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সেগুলো হলো Ñ

ইংরেজি
ভর্তি পরীায় ইংরেজি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইংরেজিতে ভালো করার ওপর নির্ভর করে ঢাবি, রাবি, বুয়েট, মেডিকেল, জাবি, চবি, ইবি, পবিপ্রবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ। তাছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ইংরেজিতেও ভালো করতে হবে। ইংরেজির মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
যেমন চধৎঃং ড়ভ ংঢ়ববপয, ঝবহঃবহপব, এবহফবৎ, ঘঁসনবৎ, অৎঃরপষবং, ঞবহংব, ঠড়রপব, ঞৎধহংভড়ৎসধঃরড়হ ড়ভ ংবহঃবহপব, ঘধৎৎধঃরড়হ, চৎবঢ়ড়ংরঃরড়হ, ঞধম য়ঁবংঃরড়হ, ঈড়হফরঃরড়হধষ ংবহঃবহপব, জরমযঃ ভড়ৎস ড়ভ াবৎন, ঝঢ়বষষরহম, ঝুহড়হুসং ধহফ ধহঃড়হুসং, ঈড়ৎৎবপঃরড়হ, ঠড়পধনঁষধৎু, অহধষড়মু-এর ওপর ভালো ধারণা থাকতে হবে।

বাংলা
বাংলা ব্যাকরণ অংশে ভাষা, বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, উপসর্গ, অনুসর্গ, সন্ধি, ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান, যতি চিহ্ন, পদাশ্রিত নির্দেশক, প্রকৃতি, প্রত্যয়, সমাস, কারক, বাংলা বানান, দ্বিরুক্ত শব্দ, সমোচ্চারিত শব্দ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চর্চা করতে হবে।
দেশি-বিদেশি শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, লিঙ্গ, বচন, বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন, পারিভাষিক শব্দ মুখস্থ করতে হবে।
কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও তাদের রচনাবলি এবং বোর্ড বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে হবে। যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি বইয়ের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বইয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে। এেেত্র নবম, দশম শ্রেণির বাংলাভাষার ব্যাকরণ, ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. হায়াত মামুদের ভাষাশিা বইগুলো যথেষ্ট সহায়ক।

গণিত
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত বা ‘ঘ’ ইউনিটে গণিত বিষয় থেকে প্রশ্ন দেয়া থাকে। যেহেতু সম্মিলিত ইউনিটে সায়েন্স, আর্টস, কমার্সের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়, সেহেতু ভর্তি পরীক্ষায় ইন্টরমিডিয়েট ম্যাথ থেকে প্রশ্ন দেয়া হয় না। গণিত অংশে সাধারণত নবম-দশম শ্রেণি লেভেলের প্রশ্ন করা হয়। সে জন্য, ভগ্নাংশ, দশমিক ভগ্নাংশ, সরল অংক, ঐকিক নিয়ম, সুদ-কষা, পরিমাপ, পরিসংখ্যান, জনমিতি, বীজগণিতের বিভিন্ন সূত্রের প্রয়োগ জাতীয় প্রশ্ন করা হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য নবম-দশম শ্রেণি লেভেলের গণিত বইটি ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান
সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপরে দুটি অংশ থাকে, যার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। তবে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে অধিক নম্বর অর্জন করা যায়। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিষয়াবলি, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা, উপজাতি, শিা, রাজনীতি, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংবিধান ও এর সংশোধনী, পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা, পত্রপত্রিকা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক স্থান, চুক্তি, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, খেলাধুলা ও অননৎবারধঃরড়হ বেশি করে রপ্ত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অংশে ভালো করার জন্য সর্বপ্রথম ২০০টি দেশের রাজধানী ও মুদ্রার নাম জেনে রাখতে হবে। পৃথিবীর মানচিত্রের ওপর ভালো ধারণা নেয়ার চেষ্টা থাকতে হবে। তাছাড়া পৃথিবী পরিচিতি, মহাদেশীয় অঞ্চল, সীমারেখা, প্রণালি, নদ-নদী, ভৌগোলিক উপনাম, পার্লামেন্ট, বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেশ, জোট ও সংগঠন, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, বিখ্যাত গ্রন্থ ও লেখকের নাম, চুক্তি, যুদ্ধ, বিখ্যাত স্থান, পুরস্কার, খেলাধুলা গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।
সাধারণ জ্ঞানে ভালো করার জন্য বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, এনসাইকোপিডিয়া ও উইকিপিডিয়ার সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
দৈনন্দিন বিষয়বলিতে ভালো করার জন্য জাতীয় পত্রিকার আন্তর্জাতিক অংশ ও সম্পাদকীয় কলমসহ খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নোট আকারে পড়তে হবে।

দৃঢ় মানসিকতা
এ কথা ধ্রুব সত্য, মানসিকভাবে যারা দৃঢ় তাদের জন্য জয়ের পথ উন্মুক্ত। অনেকে প্রথম বর্ষে চান্স না পাওয়ার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিকভাবে কোনো অবস্থাতেই দুর্বল হলে চলবে না। আর যারা প্রথমবার পরীা দেবে, তাদের পরীার্থীর দীর্ঘ লাইন দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পরিশ্রম করলে অবশ্যই সফলতা আসবে।