প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রযুক্তিভিত্তিক জাতি গঠনের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এবং প্রশিণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। দেশের ৬৪টি জেলায় সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ল্েয জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে।
৭২ হাজার বর্গফুটের এই আইটি ইনকিউবেটর কেন্দ্রে বহুমুখী প্রশিণ, উচ্চমানের স্টার্ট-আপস, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা রয়েছে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে এখানে সব ধরনের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে তরুণ-যুবকেরা ট্রেনিং নেবে। এর ফলে তারা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।
চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, উদ্যোক্তা হতে হবে। চাকরি না করে চাকরি দেবো এই চিন্তাটা থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি শিার কোনো বিকল্প নেই। আজকে যখন বিশ্ব প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান যুগটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশ পেছনে থাকবে তা হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা সবসময় এগিয়ে থাকতে চাই, পিছিয়ে নয়। আর সেই চিন্তা-চেতনা থেকেই আমরা বিভিন্ন পদপে নিয়েছি, যার সুফল এখন দেশবাসী পাচ্ছেন। আমরা নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে শিতি করতে চাই যেন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারে। সেজন্য প্রযুক্তি শিাটা একান্তভাবে দরকার।
তিনি বলেন, আমাদের কর্মমতা বাড়াতে বা কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন ত্রে প্রয়োজন। যে কারণে আমরা বাংলাদেশের প্রায় সব ত্রে যেগুলো আগে সরকারি ছিল সেগুলো বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিই, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
প্রযুক্তির ব্যাপকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর একটা জাতি-গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চাই। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন আরো বেশি আগ্রহী হয়, সেদিকে ল্য রেখেই আমরা কম্পিউটার শিা, মাল্টিমিডিয়া কাসরুম করে দিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের এসব পদেেপর পেছনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এগুলো শুধু নিজেদের শিার জন্যই নয়, রপ্তানি খাতেও ডিজিটাল ডিভাইস অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে। আমাদের ছেলেমেয়েরাও ঘরে বসে অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে এখন অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারছে। সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করেছি।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় দেশে মোবাইল ফোনের উচ্চমূল্যের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেয়া সংক্রান্ত তার সরকারের পদেেপরও কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসি আমরা দেখেছি এদেশে একটা মোবাইল ফোনের দাম ছিল ১ ল ৩০ হাজার টাকা। ফোন করলে প্রতি মিনিট ১০ টাকা, ধরলেও ১০, করলেও ১০ Ñ এই ছিল অবস্থা। এখন কম্পিটিশনের যুগে খুব অল্পতেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায়। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৩ কোটি সিম ব্যবহার হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, এই যে আমরা কথা বলতে পারছি বা আজকে টাকা পাঠানো, ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা মানুষ পাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। অনলাইনে ব্যবসাবাণিজ্য থেকে শুরু করে সবকিছু যে হচ্ছে তার ফলে আমরা মনে করি যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেরও সুযোগ হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একেবারে গ্রাম পর্যায়ের মানুষ যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় সেই ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।
অবহেলিত রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের পদেেপর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর লোক ভোট দিচ্ছে অন্য জায়গায়, কিন্তু সুবিধা পাচ্ছে যখন আমরা মতায় আসি, আওয়ামী লীগ মতায় এলে। যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এম তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতউল্লাহ ও শহীদুজ্জামান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এবং প্রশিণ কেন্দ্রসহ হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।